একের পর এক দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা গভীর উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনা চিকিৎসাসেবা প্রদানে নিরাপদ কর্মস্থলের চিকিৎসকদের দীর্ঘদিনের দাবীর গুরুত্ব আবারও নতুন করে মনে করিয়ে দেয়। গত কয়েকদিনে এই নিয়ে সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনটি চিকিৎসক নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে। এটা যেনো এক নিয়মে পরিনত হচ্ছে যে চিকিৎসকদের উপর হামলা হবে সাময়িক নিন্দা প্রতিবাদ হবে আবার সব আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে। এভাবে চলতে পারে না।
রোগী ও চিকিৎসক সুরক্ষা আইন কাগজে কলমে নয় এর বাস্তবিক প্রয়োগ আজ একটি আবশ্যিক পূর্বশর্ত হয়ে পড়েছে যা নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিতকরণ করে রোগী ও চিকিৎসকদের মধ্যে আস্থা পুনরায় স্থাপন করতে পারে। আমি এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল দোষীকে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে দেশের সব হাসপাতালে চিকিৎসকদের জন্য একটি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।
রোগী অথবা রোগীর স্বজনদের দায়িত্ব অবহেলা বিষয়ক কোনো অভিযোগ থাকলে তা সুরাহা করার জন্য বিএমডিসিসহ সরকারি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে কিন্তু সেই পদ্ধতি অনুসরণ না করে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া অত্যন্ত গর্হিত ও নিন্দনীয় কাজ।
পর্যায়ক্রমে হাসপাতালগুলোতে হামলার পেছনে স্বাস্থ্যব্যাবস্থাকে অস্থিতিশীল করার কোনো গভীর ষড়যন্ত্র আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা সরকারের উচিত।
চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে জনগণের স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এ বিষয়টি সরকারকে এখনই গুরুত্বের সঙ্গে উপলব্ধি করতে হবে। চিকিৎসক ও জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরকারেরই দায়িত্ব। অন্যথায় এ ধরনের সহিংসতা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।