প্রার্থীর প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচন আয়োজনের আনুষ্ঠানিক সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, বড় ধরনের কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা না ঘটলে নির্ধারিত সময়েই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণে আর কোনো বাধা নেই বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে।সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে সদিচ্ছার কোনো ঘাটতি নেই। তবে শুধু সরকারের একক উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; নির্বাচনী পরিবেশ শান্ত রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের সংযত ও নিয়ন্ত্রিত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো দল বা প্রার্থী যেন উসকানিমূলক বক্তব্য কিংবা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নির্বাচনের সুন্দর পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে বলা হয়েছে।
সরকার প্রত্যাশা করছে, নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণাকালে এক দলের প্রার্থী যেন অন্য দলের প্রার্থীর জন্য কোনো ধরনের সমস্যা বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রশাসনিক ও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনও একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছে। কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, ভোটগ্রহণ থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের পক্ষপাতের সুযোগ থাকবে না। তবে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা অপরিহার্য বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে রাজনৈতিক বাস্তবতায় এখনও উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে স্বৈরাচারী সরকারের পতন হলেও রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ষড়যন্ত্র পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে মনে করছে সরকার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অভিযোগ রয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগ ও তাদের অংগসংগঠন নির্বাচন প্রক্রিয়া বানচালের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহল থেকে এ ধরনের তৎপরতা চালানো হচ্ছে। এদিকে নিবার্চনের সময় গন্ডগোল হতে পারে এটা ভেবে ভারতীয় দূতাবাসের কর্মকর্তা কর্মচারিীদের পরিবার বর্গ দেশে ফিরিয়ে নেয়ার ঘোষনা দিয়েছে।
সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো বলছে, পতিত সরকারের পলাতক নেতারা দেশের বাইরে অবস্থান করেও নানা ধরনের উসকানি ও হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া নাম ও বেনামি অ্যাকাউন্ট থেকে নির্বাচন বানচালের হুমকি ছড়ানো হচ্ছে। এমনকি আওয়ামী লীগের কয়েকজন পলাতক শীর্ষ নেতা বিদেশে বসে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে হুমকিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় ধরনের নাশকতার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। গুজব রয়েছে, ভোটের আগ মুহূর্তে সহিংস কোনো ঘটনা ঘটানোর পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাচ্ছে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। এসব তথ্যের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, র্যাব ও অন্যান্য বাহিনী ইতোমধ্যেই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। অস্ত্র উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে—এমন ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান চলছে। গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকার, নির্বাচন কমিশন ও নিরাপত্তা বাহিনী যদি সমন্বিতভাবে কাজ করে এবং রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্বশীল আচরণ করে, তাহলে দেশি-বিদেশি কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। তবে নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ঝুঁকি ততই বাড়ছে বলে তারা সতর্ক করছেন।
সব মিলিয়ে, প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রস্তুতি এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপে পৌঁছেছে। এখন পরিস্থিতি শান্ত রাখা, গুজব ও উসকানি প্রতিরোধ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রধান চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা ও সচেতন ভূমিকার ওপরই নির্ভর করবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন হয়।