ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬,
সময়: ০৮:৩৩:২৫ PM

প্রথম পরিচয়-৮

মান্নান মারুফ
16-01-2026 12:46:09 PM
প্রথম পরিচয়-৮

পর্ব ৮: এক রাতের সিদ্ধান্ত
সিডনির অন্ধকার রাত ঢাকা শহরের আলোয় মিশে গেছে। কুদ্দুছ জানে, ভিসার ঝুঁকি, পড়াশোনার চাপ আর অ্যামেলিয়ার পরিবারের রোষ—সবই আজ একত্রে তার জীবনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তবে তার হৃদয়ে আরও একটি বড় ভয়—অ্যামেলিয়ার জন্য নিরাপদ কি হবে, তা নিয়ে।
কাফের দোকের বাইরে, তারা একসাথে দাঁড়িয়ে। বাতাসে হালকা বর্ষার গন্ধ। রাস্তায় মানুষ চলাফেরা করছে, কিন্তু তাদের চোখে শুধুই একে অপরের দুনিয়া।
“কুদ্দুছ,” অ্যামেলিয়া ফিসফিস করে বলল, “আমি ভাবছি—আজকে আমরা সব ঝুঁকি ভেঙে নতুন কিছু শুরু করতে পারি।”
কুদ্দুছ হালকা স্রোতের মতো নিঃশ্বাস নিল। “অ্যামেলিয়া, তুমি কি নিশ্চিত? যদি তোমার পরিবারৃ যদি আমাদের জীবন—”
“আমি জানি ঝুঁকি আছে,” অ্যামেলিয়া তাড়াহুড়ো ছাড়া বলল, “কিন্তু যদি আমরা একে অপরকে হারাই না, সবই সহজ।”
কুদ্দুছ চোখে অদ্ভুত দম বন্ধ অনুভূতি নিয়ে বলল, “আমিৃ আমি চাই তোমাকে নিরাপদ রাখতে। তবে যদি তুমি সত্যি চাও, আমি তোমার সঙ্গে আছি।”
রাস্তায় হালকা বৃষ্টি। কফির কাপ থেকে শেষ কণাটা খালি। অ্যামেলিয়ার চোখে ঝলক। “তুমি শুধু গল্প বলছ না, তুমি দেখাও কিভাবে সত্যি ভালোবাসা সম্ভব।”
কাফের দোক থেকে বের হয়ে, তারা হঠাৎ এক অন্ধকার পার্কে প্রবেশ করল। চারপাশে কেবল বৃষ্টির শব্দ, বাতাস, এবং তাদের নিঃশ্বাস।
“আমি আজকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি,” অ্যামেলিয়া বলল। “আমি এই শহর, এই পরিবার, সবকিছু ছেড়ে তোমার সঙ্গে যাব।”
কুদ্দুছ মৃদু হেসে বলল, “আমি ভয় পাচ্ছি। কিন্তু যদি তুমি পাশে থাকো, সব ঝুঁকি সহজ হয়ে যায়।”
এক মুহূর্তের জন্য, তারা শুধু চুপচাপ দাঁড়িয়ে একে অপরকে দেখল। কফির দোক, রাস্তায় হালকা আলো—সব মিলেমিশে একটি অদ্ভুত শান্তি তৈরি করল।
“শোনো,” কুদ্দুছ ফিসফিস করে বলল, “আমাদের পদক্ষেপ ঝুঁকিপূর্ণ। তবে আজ থেকে আমাদের জীবন একত্রে হবে।”
অ্যামেলিয়া হাত ধরে বলল, “আমি জানি। আমি এখানে আছি। এবং থাকব।”
সেদিন রাতের অন্ধকারে, তারা হঠাৎ বোঝল—ভিসা, পড়াশোনা, সামাজিক বাধা—সবই এই মুহূর্তের জন্য অপ্রয়োজনীয়। শুধুই চোখে চোখ মিলানো, হাতের স্পর্শ, এবং এক অপরের প্রতি সম্পূর্ণ আস্থা।
“আমি কখনও ভাবিনি,” কুদ্দুছ বলল, “এমন সাহস আমার জীবনে আসবে। তুমি শুধু ভালোবাসো না, তুমি দেখাও কিভাবে ভালোবাসা শক্তিশালী হয়।”
অ্যামেলিয়া হেসে বলল, “এটাই আমাদের নতুন সূচনা। আমরা একে অপরকে হারাব না।”
রাত্রি গভীর, শহরের আলো নীরব। তারা হেঁটে চলে বিমানবন্দরের দিকে। হাতে হাত ধরে, হৃদয়ে এক অদৃশ্য বন্ধন।
“এই যাত্রা শুধু শুরু,” কুদ্দুছ ফিসফিস করে বলল।
“আমাদের পৃথিবী তৈরি হবে,” অ্যামেলিয়া বলল।
বোর্ডিং গেটে পৌঁছে, তারা একে অপরের দিকে তাকিয়ে হালকা হাসল। কুদ্দুছ মনে করল—আজকের রাতের সিদ্ধান্ত এক নতুন জীবন, এক নতুন যুদ্ধ, এক নতুন স্বাধীনতা।
“আজ আমরা শুধু একে অপরের জন্য তৈরি হয়েছি,” কুদ্দুছ বলল।
“এবং থাকবে চিরকাল,” অ্যামেলিয়া হেসে বলল।
শেষ লাইন:
“এক রাতের সিদ্ধান্ত, এক হাতে হাত, এক চোখে চোখ—সব মিলেমিশে তাদের নতুন পৃথিবী তৈরি করল, যেখানে ভালোবাসা সবকিছুর চেয়ে শক্তিশালী।”
চলবে,,,,,,,,,,,,,