ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬,
সময়: ০৫:৪২:০০ PM

শেরপুরের রাজাপাহাড়ের বর্ননা দিচ্ছেন মনজুরুল হক

উপন্যাস, ”বেয়াদব” উপন্যাস, ”বেয়াদব” টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় বলবেন মুশফিক শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ‘খুবই সফল’ বৈঠক পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর নির্যাতন চলছে :ডাঃ ইরান তারেক রহমানের শিক্ষাজীবন নিয়ে নতুন করে আলোচনা তথ্যপ্রযুক্তি থেকে রাজনীতিতে—নান্দাইলের তরুণ নেতৃত্বে ইয়াসের খান চৌধুরী নতুন ভিসি পেল ১১ বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকার যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ শিরোপা থেকে এক জয় দূরে বসুন্ধরা কিংস সচিবালয়ের নিরাপত্তায় বড় রদবদল: প্রত্যাহার করা হচ্ছে ১৬৯ পুলিশ সদস্য তারেক রহমানের হারানো কাগজপত্র পেয়েছিলেন শাহ ওয়ালী উল্লাহ ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীকে‘ধর্ষণচেষ্টা’:উত্তাল ক্যাম্পাস একনেকে ৩৩৪৭৪ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন চীনে ডোনাল্ড ট্রাম্প, পেলেন লাল গালিচা সংবর্ধনা অপরিপক্ব ফলে বাজার সয়লাব, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি পদত্যাগ করলেন কুরাসাও কোচ ফ্রেড রুটেন ”নিহারিকা” ”নিহারিকা” ”নিহারিকা” “ ”নিহারিকা” মাঠের রাজনীতিতে সরব হচ্ছে একটি দল পুলিশের ভেতরে নতুন করে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা যে রেকর্ড এখন শুধুই নাহিদ রানার জনকল্যাণই রাজনীতির শ্রেষ্ঠ পরিচয় কে এই সর্বকনিষ্ঠ বিধায়ক এস কীর্তনা আ.লীগের ভুল নীতিতে বছরে বিদ্যুৎ ভর্তুকি ৭ গুণ জনসেবা ও উন্নয়নের বাজেটের খোঁজে সরকার ধৈর্য ও সহনশীলতা নিয়ে এগিয়ে চলছে বিএনপি স্বস্তিতে নেই বিএনপির দল ছুট নেতারা
প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি শুরু শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় শেষ জীবনে সয়াবিন তেলের দাম বাড়লো ৯ টাকা খণ্ডকালিন শিক্ষকদের অত্যাচারে অধ্যক্ষের পদত্যাগ পর্তুগাল লিসবনে গঠিত হলো সাহিত্য সংসদ সমকাল সম্পাদক হলেন এ হোসেন মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে নিত্যপন্য পর্তুগালে কুমিল্লা উত্তর কমিউনিটির কমিটি গঠন বিদেশেও ক্রিকেট প্রেমীরা বাংলার মুখ উজ্জ্বল করবে ইফাত মতিউরেরই ছেলে:নিজাম হাজারী পূর্ব শত্রুতার জেরে সাব্বিরকে ফাঁসানোর চেষ্টা প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজিকে তলব মেহেরপুরে জনতা ব্যাংক শাখা উদ্বোধন আজ লাবলুর চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী নাদিম হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন শিরীন চৌধুরীর সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ খালেদা’র রোগমুক্তি কামনায় পর্তুগাল স্বেচ্ছাসেবক দল কে হচ্ছেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী ! বিদায় দ. আফ্রিকা টিকলো বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন বেয়ারস্টো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে পর্তুগাল আওয়ামী লীগ ‘নিউ ইয়ার এ জিতবে সবাই’ রিয়েলমি কেনার সুযোগ ঠাকুরগাঁও টেলিভিশন জার্নালিস্ট সভাপতি পার্থ ও সম্পাদক রোহান বাজারে ঊর্মি গ্রুপের নতুন পণ্য বিশ্বে বাংলার সুরকে ছড়িয়ে দিতে চাই:দিনা মন্ডল নির্বাচনকে সামনে রেখে মত বিনিময় বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন বেয়ারস্টো হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে মির্জা ফখরুলকে গণতন্ত্র এখনো ‘অটুট আছে’বাইডেন

সিলেট থেকে: বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের সঙ্গে মুশফিকুর রহিমের নামটি যেন অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে গেছে। প্রায় দুই দশকের ক্যারিয়ারে বাংলাদেশের টেস্ট সংস্কৃতিরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে গেছেন তিনি। ২০২২ সালে টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়া মুশফিক ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলেছেন ক্যারিয়ারের শেষ ওয়ানডে। এখন কেবল টেস্ট ম্যাচই খেলছেন, তাও ক্যারিয়ারের শেষলগ্নে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, অবসর নিয়ে। তবে মুশফিকের ভাবনায় এখনো বিদায়ের তাড়া নেই।
বরং যতদিন সম্ভব মাঠে থাকতে চান, টেস্ট ক্রিকেটকে উপভোগ করতে চান। আর যখন বিদায় বলবেন, সেটি যেন হয় নিজের সেরা সময়টাতেই!
 
শনিবার সিলেটে মাঠে গড়াবে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাচ।
তার আগে শুক্রবার সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুশফিক বলেন, ‘না ভাই, এরকম আপাতত কোনো গোল নাই। কালকের ম্যাচও শেষ হয়ে যেতে পারে আবার বাকিটা উপর আল্লাহ জানে।’

তবে দীর্ঘ ক্যারিয়ারের বাস্তবতাও জানেন মুশফিক। জানেন, একসময় তাকে থামতে হবে। কিন্তু সেই বিদায়টা যেন আসে ঠিক সময়েই, এটাই তার চাওয়া, ‘এখন ছাড়বো বা কবে ছাড়বো এটা আসলে এখন ঐরকম করে ডিসাইড করি নাই। বাট ইনশাআল্লাহ খুব ভালো সময় থাকতে ইনশাআল্লাহ ছেড়ে দিব।’

টেস্ট ক্রিকেটকে তিনি দেখেন জীবনেরই এক অংশ হিসেবে। তাই মাঠে কাটানো প্রতিটি দিন তার কাছে বিশেষ, ‘আমি চেষ্টা করি প্রতিটা ম্যাচ... মৃত্যুর আগে লাস্ট কয়টা দিন বেঁচে থাকার খুব ইচ্ছা। তো বেঁচে থেকে যে কয়টা মাঠের দিন কাটাতে পারি, এই ইচ্ছাটাই আছে।’সিনিয়রদের বিদায়ের পর স্বাভাবিক ভাবেই তৈরি হয় শূন্যতা। মুশফিক চান না তার বিদায়ের পরও এমন কিছু হোক। তাই নিজের উত্তরসূরিদের প্রস্তুত করাও তিনি দায়িত্বের অংশ মনে করেন, ‘আমি চেষ্টা করবো যে আমি ছাড়ার আগে যেন অ্যাটলিস্ট আরও দুই-তিনটা প্লেয়ার ওই জায়গাটাতে থাকে। সো দ্যাট বাংলাদেশ টিম... তিন-চারজন চলে যাওয়ার পর যেন ওই জায়গায় একটা গ্যাপ সৃষ্টি না হয়।’

নিজের শেষ সময়টুকুতেও দলের জন্য কিছু রেখে যেতে চান মুশফিক। বাংলাদেশের সেরা এই উইকেট কিপার ব্যাটার যখন থাকবেন না, তখন যেন তার এই অর্জন নিয়ে গর্ব হয়, তেমন কিছুই করে যেতে চান মুশফিক, ‘আর যে কয়টা দিনই খেলবো ইনশাআল্লাহ, চেষ্টা থাকবে যেন নিজেও কন্ট্রিবিউট করতে পারি এবং বাংলাদেশ টেস্ট টিমকে স্পেশালি আরও কিছু ভালো দারুণ জয়ের মুহূর্ত দিতে পারি। যেটা কিনা আমার অবসরের পর সেটা নিয়ে যেন একটু হলেও গর্ব করতে পারি।’

মাঠের বাইরে মুশফিক এখন দলের তরুণ ক্রিকেটারদের জন্যও এক নির্ভরতার নাম। অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়াকেই তিনি নিজের দায়িত্ব মনে করেন। জুনিয়র ক্রিকেটাররা কোন সমস্যায় পড়লেই ছুটে যান তার কাছে। তার পরিশ্রম, নিবেদন জুনিয়র ক্রিকেটাদের কাছে অনুকরণীয়। সেটি মুশফিকও জানেন। তাইতো তার উপলব্দি, ‘আমি আমার এক্সপেরিয়েন্স শেয়ার করি। এত বছর খেলেছি—এরকম সিচুয়েশন কিরকম হতে পারে বা অপোনেন্ট কখন কী করতে পারে, একটু হলেও ধারণা আছে। মুমিনুল বলেন বা এখনকার ইয়াং ক্রিকেটাররা বলেন, আমরা প্রায় ২৫-৩০ বছর ধরে একে অপরকে চিনি... আমাদের সবার বোঝাপড়াটা একটু অন্যরকম ভালো।’
 
কেবল টেস্ট খেলছেন মুশফিক। বাকি দুই ফরম্যাট না খেলায় মুশফিকের আছে অফুরন্ত সময়। আগে ব্যস্ততার কারনে পরিবারকে সময় দিতে পারেননি তিনি। সময় দিতে না পারার আক্ষেপও আছে তার। এখন সেটার কিছুটা পূরণ হচ্ছে বলেই মনে করেন মুশফিক, ‘আমি আমার ফ্যামিলিকে অনেক বেশি সময় দিতে পারছি। যেটা আমি লাস্ট ১৫-১৬ বছর হয়তো দিতে পারি নাই। তো এটাও আমার জন্য অনেক বড় একটা পাওয়া, পরিবারকে সময় দিতে পারছি।’

পরনে নেই প্রথাগত গেরুয়া বসন, হাতে নেই চিরাচরিত একতারা। তবুও যখন বেহালার ছড় টানেন আর কণ্ঠ ছাড়েন, তখন শ্রোতারা হারিয়ে যান অন্য এক ভাবে। তিনি তানিয়া সরকার। সময়ের সাহসী ও জনপ্রিয় এক বাউল শিল্পী, যিনি চিরায়ত প্রথার বাইরে গিয়েও সুরের জাদুতে জয় করেছেন লাখো ভক্তের হৃদয়।
​সুরের আলোয় নুসরাত থেকে তানিয়া
​সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে জন্ম নেওয়া নুসরাত জাহান তানিয়ার বেড়ে ওঠা ঢাকার ধামরাইয়ে। জীবনের মোড় বদলে যায় যখন তিনি বাউল গানের দীক্ষা নেন। তার প্রথম গানের গুরু বাবা তরিকুল ইসলাম তোরাপ। শৈশবে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বাবার স্বপ্নের প্রতিফলন দেখতেন তিনি। পরবর্তীতে টাঙ্গাইলের ওস্তাদ সুনিল সরকারের কাছে বাউল গানের গুরুমুখী বিদ্যায় শিক্ষিত হন। গুরুর দেওয়া ‘তানিয়া সরকার’ নামেই আজ তিনি দেশের সংগীতাকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
​করোনা জয় ও ডিজিটাল বিপ্লব
​২০২০ সালে পেশাদার যাত্রা শুরু করলেও বিশ্বব্যাপী মহামারী তানিয়ার পথ আগলে দাঁড়ায়। কিন্তু সুর যার রক্তে, তাকে থামানো দায়। প্রতিকূল সময়ে অনলাইনে শুরু করেন গানের আসর। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার গায়কী ও বেহালার সুর মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। ২০২৬ সালে এসে তার গাওয়া ‘ও রাধে ও রাধে’ এবং ‘কলিজা কাটা বিচ্ছেদ’ গানগুলো ইউটিউব ও টিকটকে নতুন প্রজন্মের মুখে মুখে ফিরছে।
​স্বামী যখন অনুপ্রেরণার সারথি
​তানিয়ার এই সাফল্যের পেছনে বড় শক্তি তার স্বামী মো: আলহাজ হোসেন। শুরুতে কিছুটা অনীহা থাকলেও এখন তিনিই তানিয়ার প্রধান দিকনির্দেশক। কোন গানটি শ্রোতাদের হৃদয়ে দাগ কাটবে, কোন মায়াবী হাসিতে মঞ্চ মাতাবে—সব পরিকল্পনাতেই থাকে স্বামীর অনুপ্রেরণা। ধামরাই সরকারি কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি গানকে পেশা হিসেবে নিয়ে তানিয়া প্রমাণ করেছেন, একাগ্রতা থাকলে সবকিছুই সম্ভব।
​স্বপ্ন যখন আকাশ ছোঁয়ার
​চ্যানেল আই-এর ‘মেঘে ঢাকা তারা’ থেকে শুরু করে দেশের বড় বড় মেলা কিংবা স্টেজ শো—সবখানেই তানিয়ার পদচারণা। বাউল, বিচ্ছেদ, লালনগীতি কিংবা পল্লীগীতি—সব ধরণের গানেই তিনি সমান পারদর্শী। তবে তানিয়ার স্বপ্ন আরও বড়। তিনি বলেন:
​"দর্শক-শ্রোতাদের ভালোবাসাই আমাকে আজকের তানিয়া সরকার বানিয়েছে। আমার বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই। কোনো একদিন বাংলার এই শেকড়ের সুর বিশ্ব দরবারে ছড়িয়ে দেওয়াই আমার জীবনের লক্ষ্য।"

​বেহালার তারে মায়ার জাল বুনে তানিয়া সরকার বুঝিয়ে দিয়েছেন, বাউল হওয়া মানে শুধু বেশভূষা নয়, বরং অন্তরের গভীর থেকে সুরের সাধনা করা। অদম্য এই শিল্পী এখন কেবল তানিয়া নন, তিনি বাংলার লোকজ সংগীতের এক নতুন আশার নাম।