ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া ঘিরে সংগঠনের অভ্যন্তরে তৎপরতা ও আলোচনা জোরদার হয়েছে। আসন্ন নেতৃত্ব নির্বাচনে সভাপতি পদকে কেন্দ্র করে একাধিক নেতার নাম আলোচনায় থাকলেও সংগঠনের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক এম এ গাফফারকে ঘিরে আলাদা ধরনের আগ্রহ ও সমর্থনের কথা শোনা যাচ্ছে। দলীয় সূত্র ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে এম এ গাফফারকে সম্ভাব্য সভাপতি হিসেবে বিবেচনার দাবি তুলছেন তার সমর্থকেরা। তারা মনে করেন, সাংগঠনিক দক্ষতা, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং ধারাবাহিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তাকে নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে রেখেছে।
এম এ গাফফার পূর্বে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বলে জানা যায়। ওই সময় সংগঠনকে সক্রিয় রাখা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে তার ভূমিকা নিয়ে ছাত্রদল পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। পরবর্তীতে যুবদলে যুক্ত হয়ে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে তার সমর্থকদের দাবি অনুযায়ী, বিগত কয়েক বছরের রাজনৈতিক কর্মসূচি, বিশেষ করে বিরোধী দলের আন্দোলন কর্মসূচিতে তিনি মাঠে সক্রিয় ছিলেন। তাদের মতে, ২০২৩ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং পরবর্তী সময়ে দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি অগ্রভাগে থেকে ভূমিকা রাখেন। একইভাবে ২০২৪ সালের জুলাই মাসের রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলোতেও তার সক্রিয় উপস্থিতি ও সংগঠন পরিচালনায় ভূমিকা নিয়ে আলোচনা রয়েছে।
তবে এসব দাবির অনেকগুলোই দলীয় সমর্থকদের বক্তব্যের ওপর নির্ভরশীল এবং স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য সীমিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে একজন নেতার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণে শুধু কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ নয়, বরং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের ভারসাম্য এবং কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দলীয় সূত্র আরও জানায়, এম এ গাফফার সাম্প্রতিক সময়ে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক দায়িত্বের সময়কালে সাংগঠনিক কার্যক্রম সমন্বয়ে ভূমিকা রাখেন বলে তার অনুসারীরা দাবি করেন। তবে এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। একাংশ তাকে “ক্লিন ইমেজ” ও “মাঠের নেতা” হিসেবে বিবেচনা করলেও অন্য অংশ মনে করে, নতুন কমিটি গঠনে ভারসাম্যপূর্ণ নেতৃত্ব নির্বাচনই সংগঠনের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আসন্ন কমিটি গঠনে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কৌশলগত সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত ভূমিকা রাখবে। তারা আরও বলেন, যুবদলের মতো সংগঠনে নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা নয়, বরং সাংগঠনিক ঐক্য, দলীয় নির্দেশনা বাস্তবায়নের সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ আন্দোলন-সংগ্রামের প্রস্তুতিও বিবেচনায় নেওয়া হয়।
এদিকে, এম এ গাফফারকে ঘিরে চলমান আলোচনার কারণে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের রাজনীতিতে একটি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা এবং সাংগঠনিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় মাঠপর্যায়ে রাজনৈতিক সক্রিয়তা আরও বেড়েছে।
সব মিলিয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনকে ঘিরে যে আলোচনা চলছে, তাতে এম এ গাফফারের নাম একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হাতে, যা আসন্ন দিনগুলোতে সংগঠনের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।