ঢাকা, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬,
সময়: ১১:১৩:১৬ PM

ডা. শফিকুর রহমান সততা ও নেতৃত্বের প্রতীক

মান্নান মারুফ
14-01-2026 09:35:24 PM
ডা. শফিকুর রহমান  সততা ও নেতৃত্বের প্রতীক

ঢাকা-১৫ আসনের আসন্ন নির্বাচনে ১২ ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিএনপির যুবদল নেতা শফিকুল ইসলাম, বা মিন্টু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনী প্রচারণা ইতোমধ্যেই জোরালো হয়েছে; ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষে শত শত নারী ও পুরুষ মাঠে রয়েছেন। এলাকার সাধারণ মানুষদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রার্থীর জনপ্রিয়তা এবং নির্বাচনী অবস্থান ইতিমধ্যেই দৃঢ়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সততা, মিষ্টভাষিতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার জন্য পরিচিত ডা. শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। দলীয় সূত্রগুলো উল্লেখ করে বলেন, একজন মেধাবী রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি দেশে ও প্রবাসে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলের জনসমর্থন বৃদ্ধি এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একটি সুসংগঠিত, শক্তিশালী এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় দলের রূপ নিয়েছে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় সাংগঠনিকভাবে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবির উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।

রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, শীর্ষ নেতাদের ফাঁসির মতো কঠিন সময়েও দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখে সংগঠন টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে ডা. শফিকুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দলীয় ঐক্য রক্ষা এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।


রাজনৈতিক পরিচয় ও নেতৃত্ব

ডা. শফিকুর রহমান একজন বাংলাদেশি চিকিৎসক ও রাজনীতিবিদ। তিনি ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২২ সালের অক্টোবর পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে ২০২৫–২০২৮ কার্যকালের জন্য তিনি তৃতীয় মেয়াদে দলের আমীর নির্বাচিত হন।

ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে দলিক সংগঠন শক্তিশালী হওয়ায় জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। দলীয় কার্যক্রম, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি, এবং ছাত্র সংগঠনগুলোকে সমর্থন ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি সমানভাবে সক্রিয়।


জন্ম ও শিক্ষা

ডা. শফিকুর রহমান ১৯৫৮ সালের ৩১ অক্টোবর মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মো. আবরু মিয়া এবং মাতার নাম খাতিবুন নেছা। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়।

শিক্ষাজীবনে তিনি বরমচাল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৭৪ সালে এসএসসি পাস করেন। পরবর্তী বছর ১৯৭৬ সালে সিলেটের এমসি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। ১৯৮৩ সালে সিলেট মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করে চিকিৎসক হিসেবে স্বীকৃতি পান।


রাজনৈতিক পথচলা

ডা. শফিকুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয় ছাত্রজীবনে। ১৯৭৩ সালে তিনি জাসদ ছাত্রলীগের মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৭৭ সালে তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগ দেন। সিলেট মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি শিবিরের মেডিকেল শাখার সভাপতি হন এবং পরে সিলেট শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮৪ সালে মূল দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়ে সিলেট জেলা আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। ২০১০ সালে তিনি কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল নিযুক্ত হন এবং ২০১১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০১৬ সালে তিনি পূর্ণাঙ্গ সেক্রেটারি জেনারেল হন এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে থাকেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট জোটের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-১৫ আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর তিনি পুনরায় দলের আমীর নির্বাচিত হন এবং বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন।


নির্বাচনী প্রচারণা ও জনপ্রিয়তা

ঢাকা-১৫ আসনের নির্বাচনী মাঠে ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা ইতিমধ্যেই জোরালো হয়েছে। শত শত নারী ও পুরুষ নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। সাধারণ মানুষের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রার্থীর প্রতি আস্থা এবং সমর্থন দৃঢ়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্ব হিসেবে ডা. শফিকুর রহমানের প্রভাব এবং কর্মসূচি দলকে নির্বাচনী সফলতা অর্জনে সহায়তা করবে।


ব্যক্তিগত জীবন

ডা. শফিকুর রহমান ১৯৮৫ সালের ৫ জানুয়ারি আমেনা বেগমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। আমেনা বেগম অষ্টম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই দম্পতির দুই কন্যা এবং এক পুত্র সন্তান রয়েছে।


সেবামূলক কার্যক্রম

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ডা. শফিকুর রহমান বিভিন্ন সেবামূলক ও সমাজকল্যাণমূলক উদ্যোগে সক্রিয়। তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো তাঁর নিজ জেলায় প্রতিষ্ঠিত সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ

শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সমাজসেবা ক্ষেত্রে তাঁর অবদান স্থানীয় জনগণ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রশংসা করেন। শিক্ষাক্ষেত্রে সেবা, নারীদের শিক্ষার প্রসার, এবং চিকিৎসা সেবার উন্নয়নে তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, সততা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং নিরলস প্রচেষ্টার কারণে ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি শক্তিশালী নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। ঢাকা-১৫ আসনের নির্বাচনে তাঁর প্রার্থীতা এবং সাফল্য শুধুমাত্র ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অর্জন নয়; এটি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলের শক্তি, ঐক্য এবং রাজনৈতিক সক্ষমতার প্রতিফলন।

দলীয় নেতাদের মতে, ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে জামায়াত দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে সুসংগঠিত, সক্রিয় এবং স্থিতিশীল ভূমিকা রাখছে। ছাত্র সংগঠন, সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম এবং জনমত শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান দলকে আরও দৃঢ় করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে দল একদিকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখছে, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংগঠনিক শক্তি এবং স্বপ্ন তৈরি করছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর অবদান এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে দলকে আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করবে।