ঢাকা, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬,
সময়: ১১:০১:০০ PM

পৃথক প্রদেশের দাবি: চৈতালীর বক্তব্যে ক্ষুব্ধ

স্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
20-06-2026 09:31:24 PM
পৃথক প্রদেশের দাবি: চৈতালীর বক্তব্যে ক্ষুব্ধ

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রামমূর্তি স্থাপনকে কেন্দ্র করে পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হচ্ছে। এমন এক কর্মসূচিতে হিন্দুদের জন্য পৃথক প্রদেশ গঠনের হুঁশিয়ারি দিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তী। তার বক্তব্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। চৈতালীর বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ইসলামভিত্তিক বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। তাদের দাবি, এ বক্তব্য দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি এবং সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের উসকানি। তারা এ বক্তব্যকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে চৈতালী চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ প্রসঙ্গে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, “বাংলাদেশ একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র। এ ধরনের বক্তব্য দেশের স্বাধীনতা ও অখণ্ডতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। দেশকে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত এতে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হওয়া উচিত।”

মুসলিম-হিন্দু সম্প্রীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, “জুলাই বিপ্লবের পর এ দেশের আলেমসমাজ হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি পাহারা দিয়েছে। তাদের ওপর কোনো হামলা হয়নি। তাহলে সংঘাতের ভাষা কেন ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটি প্রশ্নের বিষয়।”

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, চৈতালী চক্রবর্তীর বক্তব্য দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি এবং উসকানিমূলক। তার ভাষ্য, “এ ধরনের বক্তব্যের পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা সরকারকে খতিয়ে দেখতে হবে।”

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব আহমদ আবদুল কাইয়ূম বলেন, “তার বক্তব্যে এমন কিছু আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যা দাবির ভাষা নয়। এতে গভীর ষড়যন্ত্রের আভাস পাওয়া যায়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

অন্যদিকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, “চৈতালী চক্রবর্তীর বক্তব্য কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। কোনো সমস্যা থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। এ ধরনের বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।”

ঘটনার নেপথ্যে

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা-এর মধ্যরামপুর গ্রামের বৃন্দাবনপাড়ায় অবস্থিত শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালি মন্দির। মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন শ্রী হরিদাস বাবু। এখানে দেশের অন্যতম বৃহৎ শ্রীকৃষ্ণের বিগ্রহ স্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মনোজ কুমার মন্দিরটিতে শ্রীকৃষ্ণের বিগ্রহ উদ্বোধন করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।

এ মন্দির প্রাঙ্গণে ‘এশিয়ার সর্ববৃহৎ রামমূর্তি’ নির্মাণের কাজ চলছিল। সম্প্রতি এ উদ্যোগ নিয়ে স্থানীয়দের একাংশ আপত্তি জানান। তাদের দাবি, স্পর্শকাতর এলাকায় বৃহৎ পরিসরে মূর্তি নির্মাণ ভবিষ্যতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার কারণ হতে পারে। অন্যদিকে সমর্থকদের দাবি, এটি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় পক্ষে-বিপক্ষে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।