ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬,
সময়: ০৪:১৪:৩৪ PM

অপেক্ষা -৪

মান্নান মারুফ
20-01-2026 12:16:16 PM
অপেক্ষা -৪

পর্ব ৪ : দায় নেওয়া

ভালোবাসা মানে শুধু সুখ ভাগ করা নয়—
এই কথাটা সমাপ্তি অনেক আগেই বুঝে গিয়েছিল।

সুখের দিনে সবাই পাশে থাকে।
হাসির সময় কাউকে ধরে রাখা সহজ।
কিন্তু দুঃখের দিনে যে থাকে,
ক্লান্তির ভার যে ভাগ করে নেয়—
সেই মানুষটাই সত্যি ভালোবাসতে জানে।

সমাপ্তি ঠিক করেছিল,
তার ভালোবাসা হবে দায়িত্বের।

সে জানত, জীবন কখনো একটানা ভালো যায় না।
কখনো কষ্ট আসে,
কখনো ক্লান্তি জমে,
কখনো অপূর্ণতা চোখে পড়ে।
আর ঠিক সেই সময়েই বোঝা যায়—
কে আসলে পাশে আছে।

সে নিজের ভেতরে সিদ্ধান্ত নিল—
সব কষ্ট সে একা বহন করবে।
সব ক্লান্তি নিজের কাঁধে নেবে।

কেউ তাকে বাধ্য করেনি।
কেউ বলেনি—“এটা তোমার দায়িত্ব।”
সে নিজেই এই দায় নিয়েছে।

কারণ তার বিশ্বাস ছিল,
যাকে ভালোবাসা হয়,
তার জীবন যেন একটু সহজ হয়।
যদি সে কষ্ট নিতে পারে,
তাহলে অন্যজন অন্তত শান্ত থাকতে পারবে।

এই সিদ্ধান্তে কোনো অহংকার ছিল না।
সে ভাবেনি—“আমি কত বড় ত্যাগ করছি।”
সে শুধু জানত,
ভালোবাসা মানে হিসাব রাখা নয়।

ভালোবাসা মানে নিজের শক্তিটুকু ব্যবহার করা,
যাতে প্রিয় মানুষটা ভেঙে না পড়ে।

অনেক রাত সে একা বসে থেকেছে।
সারা দিনের কাজ শেষে শরীর আর মন দুটোই ক্লান্ত।
তবু সে কাউকে কিছু বলেনি।

কারণ সে জানত,
তার কষ্ট বললে কারো উপকার হবে না।
বরং অন্যজন দুঃখ পাবে।

সে চাইত,
মানুষটি যেন তাকে দেখে নিরাপদ বোধ করে।
মনে করে—
“এই মানুষটা আছে, ভয় নেই।”

তার ভালোবাসা ছিল ছায়ার মতো।
চোখে দেখা যায় না।
কিন্তু রোদে দাঁড়ালে তার দরকার বোঝা যায়।

সে চেয়েছিল,
প্রয়োজনের সময় সে যেন ঠিক সেখানে থাকে।

সে জানত,
একদিন হয়তো কেউ জানবেই না
সে কতটা কষ্ট নিজের ভেতরে রেখেছে।
কতটা ক্লান্তি চেপে গেছে।

কিন্তু এতে তার কোনো আফসোস ছিল না।
কারণ সে দায় নিয়েছিল নিজের ইচ্ছায়।

ভালোবাসার দায় জোর করে দেওয়া যায় না।
এটা নিতে হয় মন থেকে।

কখনো কখনো তার মন দুর্বল হয়ে যেত।
সে ভাবত—
“আমি কি একাই সব টেনে নিচ্ছি?”
“আমার কষ্টগুলো কি কেউ দেখে?”

কিন্তু এই প্রশ্নগুলো সে নিজের মনেই থামিয়ে দিত।
কারণ সে জানত—
ভালোবাসা মানে প্রতিদান চাওয়া নয়।

যে প্রতিদানের হিসাব রাখে,
সে আসলে নিজের জন্য ভালোবাসে।

সমাপ্তি খুব সাধারণভাবে জীবন চালিয়ে যাচ্ছিল।
সে বড় বড় স্বপ্নের কথা বলত না।
কিন্তু তার ভেতরে একটা দৃঢ় ইচ্ছা ছিল—
যেন যাকে সে ভালোবাসে,
তার জীবনে অকারণে কষ্ট না বাড়ে।

সে অনেক ভাঙা সম্পর্ক দেখেছে।
ভালোবাসার নামে অভিযোগ, দোষারোপ।
সে ঠিক করেছিল,
তার ভালোবাসা কারো জীবনে বোঝা হবে না।

যদি কোনোদিন দূরত্ব আসে,
যদি কোনোদিন সব শেষ হয়ে যায়,
তবু সে চায়—
তার ভালোবাসার স্মৃতি যেন কষ্টের না হয়।

এই দায় নেওয়ার মধ্যেই
সে একধরনের শান্তি পেত।
কারণ সে জানত,
সে নিজের জায়গা থেকে সৎ।

সে কখনো বলেনি—
“আমি তোমার জন্য কত করেছি।”
কারণ তার বিশ্বাস,
যে কাজ গুনে বলতে হয়,
তা ভালোবাসা নয়।

তার ভালোবাসা ছিল নীরব পরিশ্রমের মতো।
কেউ দেখে না,
কিন্তু সবকিছু তার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে।

এই ভালোবাসা সবাই বোঝে না।
এই পথ সহজ নয়।
কারণ দায় মানে শক্ত থাকা।
নিজের কষ্ট চেপে রাখা।

তবু সমাপ্তি এই পথই বেছে নিয়েছিল।

কারণ সে জানত—
ভালোবাসা ছাড়া জীবন চলে।
কিন্তু ভালোবাসা করে দায় না নিলে
জীবন ফাঁকা থেকে যায়।

সে মাঝে মাঝে ভাবত,
যদি কোনোদিন সে বুঝতে পারে—
এই নীরব দায় নেওয়ার কথা।

হয়তো তখন সে জানবে—
ভালোবাসা শুধু বলা কথায় নয়,
চুপচাপ সহ্য করার মধ্যেও থাকে।

এই ছিল সমাপ্তির ভালোবাসা—
যেখানে সুখ ভাগ করা সহজ,
কিন্তু দুঃখের দায়
সে একাই নেয়।

শুধু এই জন্য—
যদি তাতে প্রিয় মানুষটা
একটু শান্ত থাকতে পারে।