মন–মন যোগাযোগ
সমাপ্তি মাঝে মাঝে অবাক হয়ে ভাবত—
নীলের সঙ্গে তার প্রেমটা যেন মাটির নয়,
আকাশের কাছাকাছি কোথাও।
এমন এক জায়গায়,
যেখানে শব্দের প্রয়োজন হয় না,
তবু সব কথা বলা হয়ে যায়।
তারা খুব বেশি কথা বলত না।
দিনের পর দিন কেটে যেত
একটা বার্তাও ছাড়াই।
তবু কোথাও কোনো শূন্যতা লাগত না।
কারণ তাদের কথোপকথন
শব্দে নয়,
মনে মনে।
সাইকোলজি বলে—
যাকে তুমি ভুলতে পারছো না,
সে কোনো না কোনোভাবে
তোমাকে মিস করছে।
এই কথাটা সমাপ্তির মনে গভীরভাবে বসে ছিল।
কখনো হঠাৎ নীলের কথা মনে পড়লে
সে বুঝে নিত—
এই মুহূর্তে কোথাও নীলও
ঠিক তাকে ভাবছে।
অদ্ভুত ব্যাপার,
ঠিক সেই সময়েই
নীলের কাছ থেকে কোনো সংকেত আসত।
একটা ছোট্ট মেসেজ,
অথবা বহুদিন আগের কোনো গান,
যেটা হঠাৎ নীল শেয়ার করত।
নীল বলত—
“জানি না কেন,
তোমার কথা আজ খুব মনে পড়ছিল।”
সমাপ্তি হেসে বলত—
“কারণ আমি আগেই ভাবছিলাম তোমাকে।”
তাদের এই বোঝাপড়া
কোনো চুক্তি ছিল না,
কোনো প্রতিশ্রুতিও না।
তবু এতটাই নিশ্চিত,
যেন বহু জন্মের পরিচয়।
মন আর মন কথা বলে—
চোখে দেখা না গেলেও।
এই কথাটার অর্থ
সমাপ্তি আর নীল
নিজেদের মধ্যেই খুঁজে পেয়েছিল।
কখনো সমাপ্তি খুব ক্লান্ত থাকত।
কাউকে কিছু বলার শক্তি থাকত না।
ঠিক তখনই নীল লিখত—
“আজ খুব চুপচাপ লাগছো, ঠিক আছো তো?”
সমাপ্তি অবাক হতো।
সে তো কিছুই বলেনি।
কিন্তু নীল ঠিক বুঝে ফেলেছিল।
আবার কখনো নীল হঠাৎ ভারী হয়ে যেত।
সমাপ্তি তখন কোনো কারণ ছাড়াই
তার জন্য দোয়া করত।
কিছুক্ষণ পর নীল বলত—
“আজ তোমার কথা ভাবতে ভাবতেই
মনটা হালকা হয়ে গেল।”
এগুলো কাকতাল নয়—
তারা জানত।
এগুলোই মন–মন যোগাযোগ।
তাদের প্রেমে ছিল না
অভিনয়,
ছিল না দেখানোর তাড়া।
ছিল শুধু একে অপরের
মনের নড়াচড়া ধরতে পারার ক্ষমতা।
অনেকে জিজ্ঞেস করত—
“এভাবে দূরে থেকেও কী প্রেম হয়?”
সমাপ্তি আর নীল হেসে থাকত।
কারণ তারা জানত—
শরীরের দূরত্ব
মনের কাছাকাছিকে
কখনো হারাতে পারে না।
তাদের প্রেম স্বর্গীয় মনে হতো
এই কারণেই।
কারণ সেখানে চাওয়া কম,
বোঝা বেশি।
কথা কম,
অনুভব গভীর।
সমাপ্তি বুঝে গিয়েছিল—
যে প্রেমে বারবার প্রমাণ দিতে হয়,
সেখানে বিশ্বাস দুর্বল।
আর নীল জানত—
যেখানে বিশ্বাস গভীর,
সেখানে নীরবতাও কথা বলে।
কিছু কিছু রাতে
সমাপ্তি আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকত।
কোনো তারা দেখলে
মনে হতো,
নীলও হয়তো অন্য কোনো শহর থেকে
একই আকাশ দেখছে।
এই ভাবনাটুকুই
তাকে শান্ত করত।
নীল কখনো বলত—
“আমরা আলাদা শহরে,
কিন্তু মন তো একই জায়গায়।”
এই এক লাইনে
সমাপ্তি সব উত্তর পেয়ে যেত।
তাদের প্রেমের কোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ছিল না।
তবু বর্তমানটা ছিল
অদ্ভুতভাবে পূর্ণ।
কারণ তারা জানত—
সব সম্পর্ক গন্তব্যের জন্য হয় না।
কিছু সম্পর্ক
শুধু অনুভব করার জন্য।
মন–মন যোগাযোগ
তাই তাদের প্রেমের
সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ।
কেউ দেখুক বা না দেখুক,
কেউ বিশ্বাস করুক বা না করুক—
সমাপ্তি আর নীল জানত,
তাদের মনের ভাষা
শব্দ ছাড়াই পৌঁছে যায়।
এই প্রেম
চোখে দেখা যায় না,
কিন্তু হৃদয়ে গভীরভাবে
অনুভূত হয়।
আর সেখানেই
এই স্বর্গীয় প্রেমের
আসল বাস।