পর্ব ১২: ছায়ার সন্ধান
ঢাকার সন্ধ্যা নেমে এসেছে। রাস্তায় হালকা বাতাস বইছে, আর দূরের গাছপালার ছায়া বাড়ির দেয়ালে পড়ছে। কুদ্দুছ আর অ্যামেলিয়া বারান্দায় বসে আছে। আজকের দিনটা ছিল অন্যরকম—ছোট ছোট সমস্যা, আর অজানা কিছু ভয় তাদের চোখের সামনে।
“কুদ্দুছ,” অ্যামেলিয়া ফিসফিস করে বলল, “তুমি কি মনে করছ, আমরা কি সব বাধা পার করতে পারব?”
কুদ্দুছ ধীরে নিঃশ্বাস নিল। “আমি জানি, ঝুঁকি এখনও আছে। ভিসা, পরিবার, আমাদের জীবন—সবই অস্থির। তবে তুমি পাশে থাকলে, সবই সম্ভব।”
“আমরা কি কখনও হারাব?” অ্যামেলিয়া প্রশ্ন করল, চোখে ভয়ের আলো।
কুদ্দুছ হাত ধরে বলল, “হ্যাঁ, কখনও ভয় থাকবে। কিন্তু আমরা একে অপরকে হারাব না। ভালোবাসা সব বাধা পার হয়।”
রাস্তায় বাতাস বইছে, মাটির ঘ্রাণ ভাসছে। ঢাকার এই ছোট্ট আঙিনা, হালকা আলো, এবং দূরের মানুষের কোলাহল—সব মিলেমিশে একটি নতুন পৃথিবী তৈরি করেছে তাদের জন্য।
“তুমি জানো,” অ্যামেলিয়া বলল, “আমি আজ বুঝতে পারছি—ভালোবাসা শুধু সুখ নয়। এটি প্রতিরোধ, এটি ধৈর্য, এটি একে অপরকে সমর্থন করা।”
কুদ্দুছ হেসে বলল, “তুমি ঠিক বলেছ। আমাদের ভালোবাসা শুধু চোখে চোখ নয়। এটি শক্তি, এটি সাহস, এটি একে অপরকে ধরে রাখার প্রতিজ্ঞা।”
হঠাৎ, দরজায় কাঁপন। কুদ্দুছ মনে করল—ভিসার হুমকি এখনও রয়ে গেছে। সে অ্যামেলিয়ার দিকে তাকাল।
“আমি জানি,” সে বলল, “আমাদের জীবনে ঝুঁকি আছে। তবে আমি তোমাকে হারাতে পারব না।”
অ্যামেলিয়া হাত শক্ত করে ধরে বলল, “আমি জানি। আমরা একে অপরকে হারাব না। আমরা আমাদের ছোট পৃথিবী রক্ষা করব।”
সন্ধ্যার আলো ফেলে বাড়ির দেয়ালে দীর্ঘ ছায়া। কুদ্দুছ আর অ্যামেলিয়ার হাত ধরা—ছায়ার মতো দৃঢ়। তারা বুঝতে পারে, এই ছোট্ট আঙিনা, এই মাটির ঘ্রাণ, এই শহরের কোলাহল—সব মিলেমিশে তাদের ভালোবাসার ছায়া তৈরি করেছে।
কুদ্দুছ ফিসফিস করে বলল, “আমাদের জীবনে ঝুঁকি যত বড় হোক না কেন, ভালোবাসা সব বাধা পার করবে।”
অ্যামেলিয়ার চোখে ঝলক। “আমি জানি। আজ থেকে আমরা একে অপরকে হারাব না। আমাদের ছায়ার মতো ভালোবাসা চিরকাল থাকবে।”
রাত্রি গভীর, শহরের কোলাহল কমেছে। তারা বারান্দায় বসে, হাতে হাত ধরে, চোখে চোখ মিলিয়ে। কেবল একে অপরের দিকে তাকিয়ে।
“আজ আমরা শুধু ভালোবাসার গল্প লিখছি,” কুদ্দুছ ফিসফিস করে বলল।
“এবং এই গল্প চিরকাল থাকবে,” অ্যামেলিয়া হেসে বলল।
“ছায়ার সন্ধান—আমাদের চোখে চোখ, হাতের স্পর্শ, এবং হৃদয়ের বন্ধন। সব মিলেমিশে আমাদের নতুন পৃথিবী তৈরি করল, যেখানে ভালোবাসা সবকিছুর চেয়ে শক্তিশালী।”