ঢাকা, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬,
সময়: ০২:৩৬:১৭ PM

বরিশাল-৬ আসনে আলোচনায় আবুল হোসেন খান

মান্নান মারুফ
21-01-2026 12:47:44 PM
বরিশাল-৬ আসনে আলোচনায় আবুল হোসেন খান

আসন্ন ১২ তারিখের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বরিশাল-৬ আসনে নির্বাচনী উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। এই আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সমর্থিত সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খানকে ঘিরে জনমনে ব্যাপক আলোচনা ও আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধা, জনমানুষের নেতা এবং অভিজ্ঞ রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত আবুল হোসেন খান তার নির্বাচনী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয় একটি নাম। স্থানীয় রাজনীতি সংশ্লিষ্টদের মতে, বরিশাল-৬ আসনে এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠতে পারে আবুল হোসেন খান ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের আমিরের মধ্যে। এছাড়া মাঠে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের প্রার্থীও। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয় ভোটারদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, আবুল হোসেন খানের বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি।

মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত মুখ

আবুল হোসেন খান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ধারাকে ধারণ করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। স্থানীয়দের মতে, তার রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরেও তিনি একজন সহজ-সরল, মানুষের পাশে থাকা নেতা হিসেবে পরিচিত।

২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে বরিশাল-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আবুল হোসেন খান। তিনি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়কালে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক উন্নয়নে তার ভূমিকার কথা এখনো স্মরণ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এলাকায় জনপ্রিয়তার ভিত্তি

বাখেরগঞ্জসহ বরিশাল-৬ আসনের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির ঐতিহ্যগত জনপ্রিয়তা রয়েছে। সেই জনপ্রিয়তার সঙ্গে আবুল হোসেন খানের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা যুক্ত হওয়ায় তিনি নির্বাচনী মাঠে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় বিএনপি সমর্থক রেজাউল ইসলাম বলেন,“এলাকার মানুষের সঙ্গে আবুল হোসেন খানের আত্মার সম্পর্ক রয়েছে। তিনি শুধু নির্বাচন এলে নয়, সব সময় মানুষের পাশে থাকেন। সুখ-দুঃখে তাকে পাওয়া যায়—এটাই তার বড় শক্তি।”

স্থানীয় বাজার, চা-দোকান ও গ্রামাঞ্চলে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকেই আবুল হোসেন খানকে একজন অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত নেতা হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, জাতীয় রাজনীতির কঠিন সময়ে তিনি এলাকার স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও রাজনৈতিক সমীকরণ

এবারের নির্বাচনে আবুল হোসেন খানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের আমিরের নাম উঠে আসছে। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের প্রার্থীও নির্বাচনী মাঠে সক্রিয়। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটের হিসাব-নিকাশে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থীর সঙ্গেই মূল লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

একজন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,“বরিশাল-৬ আসনে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি এখনো উল্লেখযোগ্য। তার ওপর আবুল হোসেন খানের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা যুক্ত হওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বীরা কিছুটা চাপে রয়েছে।”

ভোটারদের প্রত্যাশা

এই আসনের ভোটারদের বড় একটি অংশ উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও অভিজ্ঞ নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছেন। কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ ও মধ্যবিত্ত ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা এমন একজন প্রতিনিধিকে সংসদে দেখতে চান যিনি এলাকার সমস্যা জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে পারবেন।

একজন প্রবীণ ভোটার বলেন,“আমরা এমন মানুষকে ভোট দিতে চাই, যিনি আমাদের চেনেন, আমাদের কষ্ট বোঝেন। আবুল হোসেন খান আমাদের এলাকার মানুষ, এটা বড় বিষয়।”

নির্বাচনী পরিবেশ

এলাকাজুড়ে পোস্টার, ব্যানার ও প্রচারপত্রে সরব হয়ে উঠছে নির্বাচনী মাঠ। তবে এখনো পর্যন্ত বড় ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। সব মিলিয়ে বরিশাল-৬ আসনে এবারের নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক কৌতূহল তুঙ্গে। মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান তার অভিজ্ঞতা, জনসম্পৃক্ততা ও দলের সাংগঠনিক শক্তিকে পুঁজি করে এগিয়ে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও শেষ পর্যন্ত জনগণের রায়ই নির্ধারণ করবে বিজয়ী কে হবেন, তবুও বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে আবুল হোসেন খান এই আসনের অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী—এ কথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।