ঢাকা, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬,
সময়: ০৭:৪৯:২৬ AM

ঢাকা-৩ আসনে গয়েস্বর রায়ের বিজয় সম্ভাবনা বেশি

মান্নান মারুফ
13-01-2026 09:51:55 PM
ঢাকা-৩ আসনে গয়েস্বর রায়ের বিজয় সম্ভাবনা বেশি

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা-৩) আসনে বিএনপির হেভীওয়েট প্রার্থী, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েস্বর চন্দ্র রায়ের জয় সম্ভাবনা যথেষ্ট উজ্জ্বল বলে মনে করছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ। চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসনে প্রার্থীদের পার্থক্য এবং জনমতের ধারা বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, এই আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে গয়েস্বর চন্দ্র রায়ের অবস্থান সবচেয়ে শক্তিশালী। এর আগে কেরানীগঞ্জ আসনটি সাধারণত প্রধানত দুই দলের দখলে থাকত—বৃহত্তর রাজনৈতিক চিত্রে বিএনপি বা আওয়ামী লীগ। বিগত নির্বাচনে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, এই আসনটি ঐতিহাসিকভাবে প্রতিযোগিতা দুই বড় দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। তবে চলতি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোন প্রার্থী না থাকার কারণে বিএনপি প্রার্থী গয়েস্বর চন্দ্র রায়ের জন্য পরিস্থিতি বিশেষভাবে সুবিধাজনক হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের ধারণা, রাজনৈতিক দক্ষতা ও দীর্ঘ রাজনীতির অভিজ্ঞতার কারণে গয়েস্বর রায় এই আসনে কার্যত কোন প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি নন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ সমর্থকরা এই নির্বাচনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না,ফলে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে গয়েস্বর রায়ের সুযোগ ও গ্রহণযোগ্যতা বেড়ে গেছে।

একাধিক স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ ভোটার মনে করছেন, গয়েস্বর রায়ের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং এলাকার মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক তাকে অন্য প্রার্থীদের তুলনায় অনেক এগিয়ে দিয়েছে। গয়েস্বর রায় একদিকে একজন প্রবীণ রাজনীতিক, অন্যদিকে তার জনপ্রিয়তা এলাকায় আকাশচুম্বি। এই দুই ফ্যাক্টরের সমন্বয়ই তাকে কেরানীগঞ্জ (ঢাকা-৩) আসনে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে প্রমাণ করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সঙ্গে এলাকার সাধারণ মানুষও মনে করছেন, যদি নির্বাচনে কোনো ধরনের কারচুপি বা কৌশলী বাধা না থাকে, তাহলে গয়েস্বর চন্দ্র রায় বিপুল ভোটে জয়ী হবেন। বিএনপি সমর্থক রুহুল আমিন বলেন, “কোনও অনৈতিক প্রভাব বা মেকানিজম ছাড়া যদি নির্বাচন হয়, তাহলে আমাদের প্রার্থী বাবু গয়েস্বর চন্দ্র রায় সুষ্ঠুভাবে বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন।”

গয়েস্বর রায়ের জনপ্রিয়তার একটি বড় কারণ হলো তার দীর্ঘকালীন সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং জনসাধারণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ রাখা। তিনি এলাকায় নানা সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে সরাসরি জড়িত ছিলেন। এতে করে সাধারণ মানুষ তার প্রতি বিশ্বাস এবং সমর্থন বৃদ্ধি পেয়েছে।

এছাড়া, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, কেরানীগঞ্জের রাজনৈতিক চিত্র সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে। তবে নির্বাচনের মৌলিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী, এখানকার ভোটাররা সাধারণত অভিজ্ঞ ও পরিচিত রাজনৈতিক নেতাদের ওপর আস্থা রাখেন। এই প্রেক্ষাপটে গয়েস্বর রায়ের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, বিএনপির জন্য কেরানীগঞ্জ আসন গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ঢাকা বিভাগের একটি কৌশলগত ও জনবহুল এলাকা। এই আসনে জয় পেলে বিএনপির রাজনৈতিক প্রভাব ঢাকার রাজনৈতিক মানচিত্রে আরও দৃঢ় হবে। ফলে দলটি এই আসনে বিশেষ মনোযোগী ও প্রস্তুত রয়েছে।

স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষ এই নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ভোটাভুটি প্রত্যাশা করছে। তারা আশা করছেন, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা হওয়া সত্ত্বেও কোনো ধরনের অবৈধ প্রভাব  থাকবে না। ভোটারদের মধ্যে একটি প্রকাশ্য মনোভাব দেখা যাচ্ছে—বিএনপি প্রার্থী গয়েস্বর রায়ের বিজয় আংশিকভাবে নিশ্চিত বলে গণ্য করা হচ্ছে।

এ অঞ্চলের রাজনৈতিক ইতিহাস ও জনমতের উপর ভিত্তি করে দেখা যায়, ভোটাররা মূলত একজন দক্ষ, পরিচিত ও এলাকার উন্নয়নে সক্রিয় নেতাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। এই দিক থেকে গয়েস্বর রায় এলাকায় সবার মধ্যে গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয়। ফলে, যদি নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু থাকে, তাতে তিনি সহজেই বিপুল ভোটে জয়ী হতে পারবেন।

সংক্ষেপে বলা যায়, কেরানীগঞ্জ (ঢাকা-৩) আসনে বিএনপির প্রার্থী গয়েস্বর চন্দ্র রায়ের অবস্থান সবদিক থেকে শক্তিশালী। আওয়ামী লীগের প্রার্থীর অনুপস্থিতি, তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, স্থানীয় জনপ্রিয়তা এবং সাধারণ মানুষের সমর্থন মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে যে, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হলে এই আসনে বিএনপির জয় সম্ভাব্য।

এছাড়া, স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি, ভোটার সচেতনতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত থাকলে এই আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা এই প্রার্থীর পক্ষেই থাকবে।