ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬,
সময়: ০৮:৩০:৩৪ PM

প্রথম পরিচয়-৫

মান্নান মারুফ
16-01-2026 12:39:46 PM
প্রথম পরিচয়-৫

পর্ব ৫: প্রথম বন্ধন
সিডনির বিকেলটি ধীরে ধীরে গোধূলিতে মিলেছে। কফের গরম বাষ্প বাতাসে ছড়িয়ে, রাস্তায় মানুষের হালকা পদচারণা। কুদ্দুছ আর অ্যামেলিয়া ছোট একটি টেবিলে বসে আছেন। আজকের আলো তাদের চোখে নতুন করে ঝলকাচ্ছে—এক ধরনের আশার আলো।
“তুমি কি জানো,” অ্যামেলিয়া হেসে বলল, “তোমার গল্প শুনতে শুনতে আমার মনে হলো—আমার জীবন এত ছোট, এত প্রস্তুত, আর তুমি দেখালে—যত সহজ এবং সুন্দর হতে পারে।”
কুদ্দুছ চোখ মেলে তাকাল। “তুমি জানো, ছোটখাটো জিনিসগুলোই প্রকৃত সুখ দেয়। কখনও ভাবোনি, বর্ষার বৃষ্টিতে কাদা ভিজে, গ্রামের মাটির ঘ্রাণে তুমি খুঁজে পাও আনন্দ।”
অ্যামেলিয়ার চোখে বিস্ময়। “আমি কখনও এমন কিছু অনুভব করিনি। তোমার চোখে সবকিছু জীবন্ত হয়ে ওঠে।”
কুদ্দুছ ধীরে হেসে বলল, “হয়তো, কারণ আমি সত্যিই অনুভব করি। আর যিনি সত্যি অনুভব করে, তিনি বুঝতে পারেন, আনন্দ কোথায়।”
তাদের চোখে এক অদৃশ্য বন্ধন। শব্দ নয়, শুধু অনুভূতি। কফির গরম, বাতাসের হালকা ছোঁয়া, রাস্তায় মানুষের দূরত্ব—সব মিলেমিশে একটি অদ্ভুত শান্তি তৈরি করল।
“তুমি কি কখনও ভেবেছ,” অ্যামেলিয়া বলল, “একজন মানুষ শুধু গল্প শুনে তার জীবন বদলে দিতে পারে?”
কুদ্দুছ চুপ। “হয়তো, যদি সে সত্যি শোনে। তোমার চোখে আমি দেখি—তুমি শোনার মতো।”
অ্যামেলিয়ার মুখে মৃদু হাসি। “আমি চাই শোনার। আমি চাই তোমার পৃথিবীতে প্রবেশ করতে।”
কাফের বাইরে রাস্তায় হালকা বাতাস। পেছন থেকে হঠাৎ একটি গাড়ি বেজে উঠল। তারা একে অপরের দিকে তাকাল। কোন শব্দের প্রয়োজন নেই।
কুদ্দুছ ফিসফিস করে বলল, “আমি জানি, এই সম্পর্ক ঝুঁকিপূর্ণ। তোমার পরিবার, আমার ভিসা, সবই আমাদের পিছনে।”
অ্যামেলিয়া হাত ধরে বলল, “যদি সত্যি ভালোবাসা থাকে, আমরা পেরিয়ে যাব। চোখে চোখ রাখলেই বোঝা যায়।”
মুহূর্তটি দীর্ঘ। কফির বাষ্প, বাতাস, এবং তাদের হৃদয়ের স্পন্দন—সব মিলেমিশে এক নতুন বাস্তবতা তৈরি করল।
“আমি ভয় পাচ্ছি,” অ্যামেলিয়া ফিসফিস করে বলল, “কিন্তু ভয় পেলে আমরা একে অপরকে ধরে রাখি।”
কুদ্দুছ হেসে বলল, “হ্যাঁ। সেই ধরনেই আমরা আমাদের পৃথিবী বানাব।”
কফের শেষ মুহূর্তে, তারা ছোট ছোট গল্প শুরু করল—কিভাবে বর্ষার দিনে মাটির ঘ্রাণে আনন্দ, গ্রামের মেঠো পথে ছুটে যাওয়া। কুদ্দুছ বলল,
“একদিন তুমি আমার গ্রামের রাস্তা দেখবে। যেখানে মাটির ঘ্রাণ আর ছোট সুখ—সবই একসাথে।”
অ্যামেলিয়া চোখে জ্বলজ্বলানি। “আমি চাই। আমি আসব।”
তাদের সংলাপগুলো ছোট, সরল, কিন্তু হৃদয় স্পর্শ করে। কফের গরম আর বাতাসের নরমতা—সব মিলেমিশে একটি অদ্ভুত পৃথিবী তৈরি করল।
“তুমি জানো, এই মুহূর্তে,” কুদ্দুছ ধীরে বলল, “আমি মনে করি, পৃথিবী আমাদের জন্য এক টুকরো জায়গা দিচ্ছে। এই ছোট টেবিল, এই আলো, আমাদের চোখে চোখ—সবই নতুন পৃথিবী।”
অ্যামেলিয়ার হাত কুদ্দুছের হাতে। “হ্যাঁ। আমরা একে অপরকে হারাব না। আমাদের সম্পর্ক শুধু আজ নয়, আগামীদিনেও থাকবে।”
একটি ছোট হাসি, একটি ছোট স্পর্শ। দুজনের মধ্যেকার প্রথম বন্ধন দৃঢ়। কফের কাপ শেষে তারা একে অপরের চোখে ভর করে বলল,
“এটাই আমাদের নতুন শুরু।”
কাফের বাইরে রাস্তায় মানুষের চলাচল, হালকা বাতাস—সব মিলেমিশে মনে হলো, শহরটি এখন তাদের। এক নতুন পৃথিবী, যেখানে প্রেম সবকিছুর চেয়ে বড়।

চলবে...........