ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬,
সময়: ০৪:১২:৫৬ PM

অপেক্ষা - ৩

মান্নান মারুফ
20-01-2026 12:12:21 PM
অপেক্ষা - ৩

একদিন হঠাৎ করে কিছু হয়নি।
আকাশ ভেঙে পড়েনি।
চোখে জল আসেনি।
বুক কাঁপেনি।

সেদিনটা ছিল একেবারে সাধারণ।
আর ঠিক সেই সাধারণ দিনের মাঝেই
সে মনে মনে একটা সিদ্ধান্ত নিল।

সে বুঝতে পারল—
ভালোবাসা মানে প্রতিদিন নতুন উত্তেজনা নয়।
ভালোবাসা মানে প্রতিদিন কাউকে আবার বেছে নেওয়া।
কথা হোক বা না হোক,
কাছে থাকা হোক বা দূরে—
ভালোবাসা মানে এক ধরনের স্থির থাকা।

সে নিজের জীবনের দিকে তাকাল।
একসময় কত স্বপ্ন ছিল।
কিছু পূরণ হয়েছে, কিছু হয়নি।
ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক আশা ছিল, আবার ভয়ও ছিল।

কিন্তু সব কিছুর মাঝেও
একটা জায়গায় সে কখনো দ্বিধায় পড়েনি—
সে তাকে ভালোবাসে।

এই ভালোবাসা হঠাৎ করে আসেনি।
এটা ধীরে ধীরে তৈরি হয়েছে।
অভ্যাসের মতো।
নিঃশ্বাসের মতো।
এমন ভালোবাসা, যেটাকে আলাদা করে বোঝাতে হয় না।

সেই মুহূর্তে সে কিছু বলেনি।
কারণ সে জানত—
কিছু সিদ্ধান্ত মুখে বললে দুর্বল হয়ে যায়।

সে শুধু নিজের ভেতরে ঠিক করল—
সে শুধু নিজেকে নয়,
নিজের ভবিষ্যৎ, স্বপ্ন আর সব সম্ভাবনাকে
তার সঙ্গে জুড়ে দেবে।

এই সিদ্ধান্তে কোনো নাটক ছিল না।
কোনো বড় প্রতিশ্রুতি ছিল না।
সে কিছু চাইছিল না, কিছু দাবি করছিল না।
সে শুধু নিজের পথটা বদলাচ্ছিল।

সে জানত—
এই সিদ্ধান্ত মানে,
কষ্ট এলে সে অভিযোগ করবে না।
একাকীত্ব এলে কাউকে দোষ দেবে না।
কারণ এই পথ সে নিজেই বেছে নিয়েছে।

সে বুঝেছিল—
ভালোবাসা মানে নিজেকে হারানো নয়।
ভালোবাসা মানে নিজের জীবনকে
আরেকজনের সুখের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া।
যাতে সে ভালো থাকলে
নিজের কষ্টও সহনীয় লাগে।

অনেক মানুষ ভালোবাসার নামে বড় বড় কথা বলে।
ভবিষ্যতের গল্প শোনায়।
কিন্তু সময় এলে সরে যায়।

সে তাদের মতো হতে চায়নি।
সে চেয়েছিল—
তার ভালোবাসা যেন ভরসার হয়।
ঝড়ে ভেঙে না পড়ে।
খারাপ সময়ে পালিয়ে না যায়।

এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর
তার মন হালকা হয়ে গেল।
বোঝা বাড়েনি, বরং কমেছে।
কারণ দ্বিধাই সবচেয়ে ভারী।

সিদ্ধান্ত মানুষকে স্থির করে।

সে জানত—
হয়তো কোনোদিন এই ভালোবাসার স্বীকৃতি আসবে না।
হয়তো কেউ জানবেই না, সে কী দিয়েছে।
তবু তার সিদ্ধান্ত বদলাবে না।

সে নিজেকে বলেছিল—
“আমি থাকব।
শব্দে না হোক, কাজে।
দূরে থাকলেও পাশে।
চুপচাপ, কিন্তু দৃঢ়।”

বাইরের জীবন আগের মতোই চলতে লাগল।
কাজ, সময়, দায়িত্ব—সব একই।
কিন্তু ভেতরে কিছু বদলে গেছে।

সে আর দ্বিধায় নেই।
সে আর নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করছে না।

এই সিদ্ধান্ত তাকে সাহসী করেছে।
কারণ ভালোবাসার সিদ্ধান্ত মানেই ঝুঁকি।
হারানোর ঝুঁকি।
না পাওয়ার ঝুঁকি।
ভুল বোঝার ঝুঁকি।

তবু সে ভয় পায়নি।
কারণ সে জানত—
ভালোবাসা না করার আফসোস
সব ঝুঁকির চেয়েও বড়।

জীবন হয়তো তাকে সব দেয়নি।
কিন্তু সে জীবনকে কিছু দিতে পেরেছে।
এই দেওয়াটাই ছিল তার ভালোবাসা।

সে কোনোদিন বলবে না—
“আমি তোমার জন্য সব ছেড়ে দিয়েছি।”
কারণ ভালোবাসা ছেড়ে দেওয়ার নাম নয়,
ভালোবাসা বেছে নেওয়ার নাম।

এই ছিল তার সিদ্ধান্ত।
কোনো আবেগী ঘোষণা নয়।
কোনো নাটকীয় মুহূর্ত নয়।

একটি শান্ত, গভীর, নিঃশব্দ সিদ্ধান্ত—
যেটা সে প্রতিদিন নতুন করে মেনে চলে