সাধারণ মানুষের একটি শেষ আশ্রয় থাকে—একটি চূড়ান্ত আস্থার জায়গা। আর কিছু রাজনৈতিক দল এখন সেই জায়গাটি দখলের চেষ্টা করছে। ঠিক সেই মুহূর্তে একজন নেতা, নায়কের মতো সামনে এসে দাঁড়ান, এই শেষ আশ্রয়টি ফিরিয়ে দিতে সাধারণ মানুষের জন্য।বৃহস্পতিার সিলেটের জনসভায় ঠিক সেটাই করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান। জনসভায় তিনি হজ করে ফিরে আসা এক ভদ্রলোককে মঞ্চে ডেকে এনে দেখান, কীভাবে ধর্মকে ব্যবসায় রূপান্তর করা হচ্ছে। তিনি বলেন, কিছু দল জান্নাত ও দোজখের “টিকিট” বিক্রি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। শান্ত অথচ স্পষ্ট ভাষায় তিনি তুলে ধরেন, কীভাবে বিশ্বাসকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তারেক রহমান বারবার “গুপ্ত” শব্দটি ব্যবহার করেন। তিনি এটিকে সেই দল বোঝাতে ব্যবহার করেন, যারা আওয়ামী লীগের সতেরো বছরের শাসনামলে নীরব ও অদৃশ্য থাকলেও ছায়ার আড়ালে সবসময় সক্রিয় ছিল। দেশের ভেতরে গোপনে সক্রিয় থাকা দলটি আজ প্রকাশ্যভাবে ভারতের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোড়ার চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে দেশের বড় রাজনৈতিক দল সম্পর্কে এমন কোনো অভিযোগ শোনা যায় না। এবং আশা করা যায়, ভবিষ্যতেও তা হবে না।
প্রথম বড় জনসভা হিসেবে তারেক রহমানের উপস্থিতি অসাধারণভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তার বাচনভঙ্গি, কণ্ঠস্বরের ছন্দ, শব্দচয়ন—all কিছুই স্বতঃস্ফূর্ত এবং প্রাকৃতিক মনে হয়েছে। কোথাও অতিনাটকীয়তা বা ধার করা স্লোগান ছিল না।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তিনি সেই নৈতিক জায়গাটি পুনরুদ্ধার করেছেন, যেটিকে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন দখল হয়ে গেছে। তার বক্তব্য মনে করিয়ে দিয়েছে—ধর্ম কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি নয়, মুক্তি কোনো সাবস্ক্রিপশন সার্ভিস নয়, আর রাজনীতি চিরকাল ঐশী মোড়কে আড়াল করা সম্ভব নয়।