কক্সবাজার-২ (কুতুবদিয়া–মহেশখালী) আসনে আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়ছে। এই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ। স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এলাকার সাধারণ ভোটাররা বলছেন, হামিদুর রহমান আযাদ একজন অভিজ্ঞ ও পরিশ্রমী রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। সংসদ সদস্য থাকাকালে তিনি এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার এবং দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য পরিচিতি লাভ করেন। স্থানীয়দের মতে, তার উদ্যোগে অনেক দরিদ্র পরিবারের সন্তান শিক্ষা লাভের সুযোগ পেয়েছে এবং খেটে খাওয়া মানুষ স্বাবলম্বী হয়েছে।
স্থানীয় ভোটার রহমত উল্লাহ বলেন, “আগেও আমরা তাকে নির্বাচিত করেছি। এবারও তার অবস্থান শক্ত। মানুষ তার কাজ মনে রেখেছে।” তবে তিনি মনে করেন, এবারের নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে এবং লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি।
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
হামিদুর রহমান আযাদ একজন বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ ও কক্সবাজার-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রারম্ভিক জীবন
হামিদুর রহমান আযাদ ১৯৬৫ সালের ১ ডিসেম্বর কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মাওলানা ক্বারী আবদুস সালাম এবং মাতা আদিমুন্নিছা।
শিক্ষা জীবন
তিনি বিএ (অনার্স), এমএ, এমএম, এলএলবি এবং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০২৫ সালের ২৬ মার্চ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬০তম সিন্ডিকেট সভায় তার পিএইচডি ডিগ্রি অনুমোদিত হয়। তার গবেষণার বিষয় ছিল— “বাংলায় ইসলামী রাজনীতির উৎপত্তি ও বিকাশ (১৯০৫–১৯৭০)”।
রাজনৈতিক জীবন
১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতিতে তার পথচলা শুরু। তিনি সংগঠনটির চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি, ঢাকা মহানগর সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ ও মজলিসে শূরার সদস্য। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি কক্সবাজার-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
ব্যক্তিগত জীবন
তিনি ১৯৯৬ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং চার কন্যাসন্তানের জনক।
রাজনৈতিক নির্যাতন ও গ্রেফতার
রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সময়ে তিনি গ্রেফতার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। ১৯৯৮ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে তিনি গ্রেফতার হন। ২০০০ সালে তৎকালীন সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে দুই দফা গুরুতর আহত ও গুলিবিদ্ধ হন।
আসন্ন নির্বাচনে হামিদুর রহমান আযাদের ফলাফল কী হবে—তা নির্ধারণ করবে ভোটের দিন ভোটারদের রায়। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কক্সবাজার-২ আসনে এবারের নির্বাচন হবে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।