ঢাকা, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬,
সময়: ১১:০৩:৩৪ PM

বিপুল ভোটে বিজয়ের সম্ভাবনায় মির্জা আব্বাস

মান্নান মারুফ
31-01-2026 08:14:48 PM
বিপুল ভোটে বিজয়ের সম্ভাবনায় মির্জা আব্বাস

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বর্ষীয়ান নেতা মির্জা আব্বাস আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন এলাকার সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ঢাকা শহরের হাজার হাজার কর্মী ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোয় রাজধানীতে তার একটি শক্তিশালী প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।

এলাকার বাসিন্দাদের মতে, এবারের নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী বিভিন্ন বক্তব্য ও মন্তব্য করলেও মির্জা আব্বাস সেসবের জবাবে কোনো উচ্চ বা উত্তেজনাপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করছেন না। বরং তিনি নীরবে গণসংযোগ ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রেখে এগিয়ে যাচ্ছেন। তার এই সংযত আচরণ ও অতীতের অবদানের কারণেই ভোটারদের মধ্যে তার প্রতি আস্থার জায়গা আরও দৃঢ় হয়েছে।

শাহজাহানপুর এলাকার একজন ভোটার বলেন, “মির্জা আব্বাস একজন সরল মনের মানুষ। তিনি কখনো মানুষের ক্ষতি করেননি। কিন্তু তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র চলছে।”
আরেক ভোটার খবিরুল ইসলাম বলেন, “ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা আব্বাস দীর্ঘদিন ধরেই ষড়যন্ত্রের শিকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। কিন্তু এসব অপপ্রচারেও তার জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি।” বরং আরো জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

স্থানীয়দের দাবি, যতই অপপ্রচার চালানো হোক না কেন, এলাকায় মির্জা আব্বাসের জনপ্রিয়তা ব্যাপক। এ কারণেই তারা এবারের নির্বাচনে তার বিপুল ভোটে বিজয়ের আশা করছেন।

পরিচিতি ও রাজনৈতিক অবস্থান

আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, যিনি মির্জা আব্বাস নামে অধিক পরিচিত, ৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৫১ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী। অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি তিনি একাধিকবার জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। তিনি বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী।

পারিবারিক জীবন

মির্জা আব্বাস ১৯৮৩ সালের ১৩ জানুয়ারি আফরোজা আব্বাসকে বিয়ে করেন। আফরোজা আব্বাস বিএনপির অঙ্গসংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি। তাদের সংসারে দুই ছেলে ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে।

কর্মজীবন ও সামাজিক অবদান

রাজনীতির পাশাপাশি মির্জা আব্বাস ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত ছিলেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘মির্জা এন্টারপ্রাইজ’-এর সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং ১৯৯৫ সালে ব্যাংকটির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

শিক্ষা বিস্তারে তার অবদানও উল্লেখযোগ্য। ১৯৮০ সালে ঢাকার শাহজাহানপুর এলাকায় নারী শিক্ষার প্রসারে তিনি ‘মির্জা আব্বাস মহিলা কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা এখনো নারী শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

রাজনৈতিক জীবন

জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গঠিত হলে মির্জা আব্বাস শুরু থেকেই এ দলে যোগ দেন এবং দলের প্রথম দিককার নেতাদের একজন হিসেবে পরিচিতি পান।

১৯৮০-এর দশকে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনামলে তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানে তিনি একজন গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক হিসেবে কাজ করেন।

১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-৬ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই বছরই তিনি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত এ পদে ছিলেন।

১৯৯৬ সালের বিতর্কিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং স্বল্প সময়ের জন্য ভূমিমন্ত্রী ও গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তবে একই বছরের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন।

২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় ঢাকা-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার মন্ত্রণালয়কালেই ২০০৬ সালে ইমারত নির্মাণ বিধিমালার সংশোধিত আইন পাস হয়। পরবর্তী সময়ে মামলা ও দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি তিনি। 

নির্বাচনী প্রত্যাশা

দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং ঢাকার উন্নয়নে ভূমিকার কারণে মির্জা আব্বাস এখনো রাজধানীর রাজনীতিতে একটি প্রভাবশালী নাম। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও ব্যক্তিগত সরলতার কারণে এবারের নির্বাচনে তার প্রতি ভোটারদের আস্থা দৃঢ় রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এলাকার ভোটারদের ভাষ্য, “মির্জা আব্বাস শুধু একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি মানুষের বিপদে-আপদে পাশে থাকা একজন অভিভাবক।” এসব কারণেই তারা বিশ্বাস করেন, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবেন।