বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রবীণ, পরীক্ষিত ও সংগ্রামী নেতাদের তালিকায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় একটি সুপরিচিত নাম। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এই রাজনীতিক আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৩ (দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ) আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনী মাঠে তার সক্রিয় উপস্থিতি ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবদান এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।
কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে ঘিরে ব্যাপক জনসমর্থন গড়ে উঠেছে। সাধারণ ভোটারদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা এবং রাজনৈতিক সংগ্রামে দৃঢ় অবস্থানের কারণেই তিনি জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াকুব আলী বলেন,
“গয়েশ্বর রায় সাহেব বহু বছর ধরে কেরানীগঞ্জের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। রাস্তাঘাট, যোগাযোগ, এলাকাভিত্তিক সমস্যা—সবখানেই তার অবদান আছে। তিনি আমাদের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলেন। তাই এবার আমরা তাকেই ভোট দেব।”
আরেক ভোটার বলেন,
“নির্বাচন যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়, তাহলে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন—এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।”
উন্নয়নের রূপান্তরে কেরানীগঞ্জ
এক সময়ের অবহেলিত ও জলাবদ্ধতায় জর্জরিত কেরানীগঞ্জ আজ দৃশ্যত বদলে গেছে। অতীতে বর্ষা মৌসুম এলেই যেখানে রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যেত, যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল দুর্বল, খাল-বিল আর কাঁচা রাস্তার কারণে জনজীবন ছিল দুর্বিষহ—সেই কেরানীগঞ্জ আজ আধুনিক নগরায়ণের ছোঁয়ায় বদলে যাওয়া এক জনপদ।
স্থানীয়দের মতে, এই পরিবর্তনের পেছনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের দীর্ঘ রাজনৈতিক তৎপরতা ও উন্নয়ন-চিন্তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে কেরানীগঞ্জে পাকা রাস্তা, যানবাহন চলাচলের সুবিধা, আবাসিক ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে মানুষের জীবনযাত্রার মান বেড়েছে।
একজন প্রবীণ বাসিন্দা বলেন,
“আমরা নিজের চোখে কেরানীগঞ্জের পরিবর্তন দেখেছি। আগে নৌকাই ছিল ভরসা, এখন গাড়িতে চলাচল করি। এই পরিবর্তনের পেছনে যারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন, গয়েশ্বর রায় তাদের অন্যতম।”
রাজনৈতিক জীবনের পথচলা
গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের জন্ম ১ নভেম্বর ১৯৫১ সালে। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে তিনি ১৯৭০-এর দশকে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং দ্রুতই একজন গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারের সময় তিনি পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মন্ত্রিসভায় থাকা অবস্থায় পরিবেশ সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় তার ভূমিকা আলোচিত হয়।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিএনপির রাজপথের আন্দোলন, দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য।
আন্দোলন-সংগ্রাম ও আইনি চ্যালেঞ্জ
রাজনৈতিক সংগ্রামের পথে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে বহুবার কারাবরণ করতে হয়েছে। ২০১৫ সালের একটি নাশকতার মামলাসহ একাধিক মামলায় তিনি বিভিন্ন সময় কারাগারে ছিলেন। দলীয় নেতাকর্মীরা এসব মামলাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপ্রসূত বলে দাবি করে আসছেন।
২০২৫ সালের অক্টোবরে একটি দীর্ঘকালীন দুর্নীতি মামলায় আদালত কর্তৃক খালাস পাওয়ায় তার রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন এবং পূর্ণ উদ্যমে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
নির্বাচনী প্রচারণা ও বার্তা
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ঢাকা-৩ আসনে ব্যাপক গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিভিন্ন জনসভা, পথসভা ও উঠান বৈঠকে তিনি জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন।
তার বক্তব্যে বারবার উঠে আসছে—সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জনগণই পরিবর্তনের রায় দেবে।
পরিবার ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার
গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পৈতৃক নিবাস ঢাকার কেরানীগঞ্জে। তার পরিবারও রাজনীতিতে সক্রিয়। তার পুত্রবধূ নিপুণ রায় চৌধুরী বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এতে করে এলাকায় দলীয় সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
প্রত্যাশার নির্বাচনী লড়াই
সব মিলিয়ে, প্রবীণ এই রাজনীতিকের অভিজ্ঞতা, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, উন্নয়নে ভূমিকা এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক—সবকিছু মিলিয়ে ঢাকা-৩ আসনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় একজন শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
ভোটারদের প্রত্যাশা, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে কেরানীগঞ্জের মানুষ তাদের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতাকেই আবারও সংসদে পাঠাবে।