ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬,
সময়: ১০:৫৩:১৪ PM

আঘাত এলে পাল্টা আঘাত আসবে:নাহিদ ইসলাম

ষ্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
27-01-2026 09:15:47 PM
আঘাত এলে পাল্টা আঘাত আসবে:নাহিদ ইসলাম

ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ তুলে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘যদি আমাদের প্রার্থীদের ওপর আঘাত হয়, তবে এখন থেকে পাল্টা আঘাত আসবে।’মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ঢাকা-৮ আসনের অন্তর্গত ফকিরাপুলে দলটির স্থানীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আজ হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে গেলে সেখানে তাকে বাধা দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘এ সময় তার ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। গতকাল ঢাকা-১৮ আসনের প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আদিবের ওপরও বিএনপি নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে।’

নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যদি আঘাত আসে, তাহলে পাল্টা আঘাত দেওয়া হবে। এক দলের প্রার্থীদের দিকে ডিম নিক্ষেপ করা হলে অন্য দলের প্রার্থীদের ওপরেও ডিম পড়বে। আমরা এই ধরনের পরিবেশ চাই না। তবে নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসন যদি নীরব ভূমিকা পালন করে, তবে আমাদের যা করণীয় আমরা তা-ই করব।’

গত কয়েক দিনে দেশের ছয়-সাতটি জেলায় ১১ দলের অন্যতম শরিক দল জামায়াতে ইসলামীর নারীকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন এনসিপি আহ্বায়ক।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ও পুলিশের নীরবতার সুযোগে একটি বিশেষ দল ও জোট আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সুবিধা নিচ্ছে, যা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করছে।’

বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আপনারা যদি আওয়ামী লীগের মতো সন্ত্রাসী কায়দায় প্রতিদ্বন্দ্বীকে মাঠ থেকে সরাতে চান, তবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আপনাদের পার্থক্য কী? আপনারা আওয়ামী লীগের ভোট পাওয়ার জন্য মঞ্চে জয় বাংলা স্লোগান দিচ্ছেন। কিন্তু মনে রাখবেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে জনগণ কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মেনে নেবে না।’

বিএনপিকে ২০১৮ সালের নির্বাচন ও ২৮ অক্টোবরের আন্দোলনের ব্যর্থতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নাহিদ বলেন, ‘১৮ সালে আপনারা মাঠে নামতে পারেননি, ২৮ অক্টোবর তিন মিনিটও দাঁড়াতে পারেননি। তখন আমরা আপনাদের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছি। কিন্তু এখন আপনারা সমালোচনা সইতে পারছেন না। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আপনারা বেয়াদব বলছেন; কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণই ব্যালটের মাধ্যমে নির্ধারণ করবে কে বেয়াদব আর কে গ্যাংস্টার।’

সংবাদ সম্মেলনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, তিনি ও তার দল শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে প্রচারণা চালাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজে যাওয়ার পর তাদের ওপর ইট-পাটকেল ও ডিম নিক্ষেপ করা হয়।

তিনি বলেন, ‘পুলিশের উপস্থিতিতেই আমাদের ভাইদের ওপর উপর্যুপরি কিল, ঘুষি ও লাথি মারা হয়েছে। আমাদের নারী সদস্যদের ওপর বরফ নিক্ষেপ করা হয়েছে, যার ফলে একজনের মাথায় চারটি সেলাই লেগেছে।’

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে মির্জা আব্বাসের ভাগনে আদিত্যের নাম উল্লেখ করেন। এছাড়া হামলায় হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান মাসুদ, সাবেক সদস্য শাহিন উদ্দিন মল্লিক এবং সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শরিফ সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।