ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬,
সময়: ০৬:০৭:১৭ PM

সহনশীলতার অভাবে রাজনীতিতে নোংরামি

মান্নান মারুফ
29-01-2026 04:30:38 PM
সহনশীলতার অভাবে রাজনীতিতে নোংরামি

রাজনীতিতে সমালোচনা থাকা স্বাভাবিক। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই সমালোচনা শালীনতার সীমা ছাড়িয়ে নোংরামিতে রূপ নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আতিকুল ইসলাম। ঢাকায় বসবাসকারী ও পেশায় চাকরিজীবী আতিকুল ইসলাম সম্প্রতি একটি পত্রিকা অফিসে এসে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। আলোচনার একপর্যায়ে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার বক্তব্যে ছিল স্পষ্ট ক্ষোভ ও বেদনা। তিনি বলেন, “চারপাশে যা ঘটছে, তা অত্যন্ত হতাশাজনক। মানুষের মধ্যে সহনশীলতা নেই, মানবিক মূল্যবোধ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।” শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতিতে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক এক সহিংস ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এ ঘটনা এতদূর গড়ানোর কোনো প্রয়োজনই ছিল না। সামান্য ধৈর্য ও সহনশীলতা থাকলে একটি মূল্যবান জীবন হয়তো রক্ষা করা যেত।

একই সঙ্গে রহমান খান নামের একজন কলেজ শিক্ষকও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ঢাকার কয়েকটি আসনে প্রার্থীদের আচরণ ও বক্তব্য অত্যন্ত অশালীন ও শিষ্টাচারবহির্ভূত। এক প্রার্থী আরেক প্রার্থীকে নিয়ে যে তুচ্ছতাচ্ছিল্যপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করছেন, তা কোনো শিক্ষিত বা অশিক্ষিত মানুষের কাছেই গ্রহণযোগ্য নয়। তার মতে, রাজনৈতিক সৌজন্যবোধ যেন হারিয়ে যেতে বসেছে। এ ধরনের আচরণ পরিহার না করলে সাধারণ ঘটনাই ভবিষ্যতে বড় ধরনের সহিংসতার জন্ম দিতে পারে। কয়েকটি আসনে প্রার্থীদের মধ্যে একে অপরের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা সাধারণ ভোটাররা কখনোই প্রত্যাশা করে না।

ঝিনাইগাতির ঘটনার বর্ণনায় আতিকুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আন্তরিক চেষ্টা ছিল। তারা উপস্থিত থেকে উভয় পক্ষকে চেয়ার ভাগাভাগি করে বসার অনুরোধ জানায়। কিন্তু একটি দলের কর্মীরা আগেই সব চেয়ার দখল করে নেয় এবং প্রশাসনের অনুরোধ উপেক্ষা করে। পরবর্তীতে অন্য একটি দল সেখানে উপস্থিত হলে তাদের বসতে দেওয়া হয়নি; বরং মারধর করে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

পরিস্থিতি শান্ত করতে প্রশাসন একাধিকবার তর্কাতর্কি নিরসনের চেষ্টা করে এবং সংশ্লিষ্ট দলের নেতাদের উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানায়। এমনকি সংঘর্ষ এড়াতে কিছু নেতাকে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার অনুরোধও করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত এসব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

একপর্যায়ে মারধরের শিকার হয়ে একটি দলের সমর্থকেরা এলাকা ত্যাগ করার সময় পেছন থেকে ধাওয়া দেওয়া হলে তারা লাঠিসোঁটা নিয়ে পুনরায় ঘটনাস্থলে ফিরে আসে এবং সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে জামায়াত ও বিএনপির অন্তত ২৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর ছিল। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে জামায়াতের একজন স্থানীয় নেতা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। অপর তিনজন বিএনপি নেতা বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং তাদের অবস্থাও গুরুতর বলে জানা গেছে।

আতিকুল ইসলামের মতে, “নেতাদের মধ্যে যদি সহনশীলতা ও দায়িত্ববোধ থাকত, তাহলে এমন মর্মান্তিক ঘটনার জন্ম হতো না।” তিনি বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতা শুধু ব্যক্তি বা দলকে নয়, পুরো সমাজকে বিপর্যস্ত করে তোলে। গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ধৈর্যশীল ও সহনশীল হওয়া জরুরি।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে রাজনৈতিক সৌজন্যবোধ ও মানবিক মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি। মতভিন্নতা ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবেই, কিন্তু তা যেন কখনোই সহিংসতা বা প্রাণহানিতে রূপ না নেয়। একটি শান্তিপূর্ণ, সুস্থ ও গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে—এটাই সকল রাজনৈতিক দলের নেতাদের কাছে আসা করেন সাধারন মানুষ।।