আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-১ আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী আলতাফ হোসেন চৌধুরী বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। দলের পটুয়াখালী জেলা বিএনপির একাধিক নেতা দাবি করেন, সাধারণ মানুষের কাছে আলতাফ হোসেন চৌধুরী একজন পরিচ্ছন্ন, সৎ ও উন্নয়নবান্ধব রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় বিএনপি নেতা মনির খোন্দকার বলেন, “আলতাফ হোসেন চৌধুরীর জনপ্রিয়তা এখনো মানুষের হৃদয়ে অটুট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে সাধারণ মানুষ ভালোভাবে চেনেন না। আলতাফ চৌধুরী স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী থাকাকালে পটুয়াখালী জেলার বিশেষ করে মির্জাগঞ্জ থানায় ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করেছেন। সেই উন্নয়ন আজও মানুষ মনে রেখেছে।”
একজন সাধারণ ভোটার আলতাফ হোসেন চৌধুরীর প্রশংসা করে বলেন, “তিনি মন্ত্রী থাকাকালে এলাকার রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি একজন সৎ ও ব্যক্তিত্ববান মানুষ। অন্যায়ের সঙ্গে কখনো আপস করেননি—এটাই তার সবচেয়ে বড় পরিচয়।”
সামরিক জীবনের উজ্জ্বল অধ্যায়
আলতাফ হোসেন চৌধুরী একজন বাংলাদেশি বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান ও একজন খ্যাতিমান সামরিক কর্মকর্তা। তার কর্মজীবনের শুরু হয় পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে একজন ফাইটার পাইলট হিসেবে। তিনি ডাসল্ট মিরাজ-৩ যুদ্ধবিমানের লিড পাইলট হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেন। ১৯৭১ সালে তিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধের পর পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের আটক থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালে তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে যোগ দেন। তিনি স্কোয়াড্রন লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তী সময়ে পাইলট প্রশিক্ষণ স্কুলে প্রশিক্ষক হিসেবে ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তার সামরিক দক্ষতা ও নেতৃত্বগুণের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনীতিতে পদচারণা
দীর্ঘ সামরিক জীবনের পর ১৯৯৪ সালে আলতাফ হোসেন চৌধুরী সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগদান করেন এবং দ্রুতই দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পটুয়াখালী-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একই সময়ে তিনি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তার মন্ত্রিত্বকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন বলে তার সমর্থকদের দাবি।
২০০৮ সালে তিনি পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে ২০০৮ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাহজাহান মিয়ার কাছে পরাজিত হন। পরবর্তীতে ২০১৬ সাল থেকে তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
মামলা ও অভিযোগের প্রেক্ষাপট
গত প্রায় দেড় দশক ধরে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে আলতাফ হোসেন চৌধুরী রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করে বিএনপি। দলীয় সূত্র জানায়, ওই সময়কালে তিনি একাধিক মামলায় অভিযুক্ত হন এবং কয়েক দফা কারাবরণ করতে হয় তাকে। বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, এসব মামলা ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিরোধী রাজনৈতিক কণ্ঠরোধের অংশ।
দলের স্থানীয় নেতারা বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাবাসের মধ্য দিয়েও আলতাফ হোসেন চৌধুরী আদর্শচ্যুত হননি। রাজনৈতিক চাপ, হয়রানি এবং ব্যক্তিগত দুর্ভোগ সত্ত্বেও তিনি দলীয় আদর্শ ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির পথ থেকে সরে যাননি। বরং এসব প্রতিকূলতা তাকে আরও দৃঢ় ও আপসহীন করেছে বলে মনে করেন তার সমর্থকরা।
একাধিক বিএনপি নেতা দাবি করেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যেও আলতাফ হোসেন চৌধুরী কখনো অন্যায়ের কাছে মাথানত করেননি এবং জনগণের পক্ষে অবস্থান ধরে রেখেছেন। এ কারণেই সাধারণ মানুষের কাছে তিনি একজন দৃঢ়চেতা ও নীতিনিষ্ঠ রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।
ব্যক্তিগত জীবন
আলতাফ হোসেন চৌধুরীর স্ত্রী সুরাইয়া চৌধুরী। তার এক ছেলে এক মেয়ের মধ্যে ছেলে দুর্ঘনায় মারাযান। এ ছাড়া দুই ভাই বাবুল চৌধুরী ও শাহিন চৌধুরী । এদের বাবুল চৌধুরী কয়েকবছর আগেই মারা গেছেন।
নির্বাচনী প্রত্যাশা
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা আশা প্রকাশ করছেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা, সামরিক শৃঙ্খলা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের স্মৃতিই এবারের নির্বাচনে আলতাফ হোসেন চৌধুরীর পক্ষে বড় ভূমিকা রাখবে। সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও তার গ্রহণযোগ্যতা থাকায় তারা এবারের নির্বাচনে তার বিজয় নিয়ে আশাবাদী।