ঢাকা, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,
সময়: ১১:০৫:১০ PM

একসময় যারা মুখ লুকিয়ে থাকতেন, তারা এখন ‘হ্যাঁ’ বলছে

ষ্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
02-02-2026 09:02:36 PM
একসময় যারা মুখ লুকিয়ে থাকতেন, তারা এখন ‘হ্যাঁ’ বলছে

 জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যারা ন্যায় ও ইনসাফের বাংলাদেশ চায় না, তারা পুরোনো বন্দোবস্ত বজায় রাখতে চায়। একসময় যারা মুখ লুকিয়ে বসে থাকতেন, কোনো কথা বলতেন না, এখন তারা বাধ্য হয়েছেন ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে কথা বলতে। তবে আমরা চাই, তাদের মুখের কথাই যেন তাদের অন্তরের সত্য প্রতিফলন হয়। তিনি আরও বলেন, ‘হ্যাঁ’-এর বিপক্ষে যারা অবস্থান নেবেন, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ ধরবে যে তারা ফ্যাসিবাদ পুনরায় কায়েম করতে চাইছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের পদুয়া এ সি এম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের যুবসমাজ দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার দাবি জানিয়ে আসছে। বিশ্ব দরবারে মর্যাদার সঙ্গে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রয়োজন। বিশেষ করে তরুণ সমাজের প্রথম ভোটটি যেন ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষেই যায়, সেই আহ্বান জানিয়ে তিনি যুবকদের এগিয়ে আসার জন্য উৎসাহিত করেন। এছাড়া তিনি ১২ তারিখ নির্বাচনে তরুণ সমাজকে দাঁড়িয়ে জয় নিয়ে নতুন বাংলাদেশ বুঝে নেওয়ার কথাও বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা জামায়াতের বিজয় চাই না; আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। ১৮ কোটি মানুষের বিজয় হলে সবার বিজয় হবে। আমি তার বাইরে থাকব না। কিন্তু যদি শুধু দল, পরিবার বা গোষ্ঠীর বিজয় হয়, পরে তা জাতির ওপর তাণ্ডব চালাতে পারে। সেই বিজয়কে আমি ধিক্কার জানাই। এমন বিজয় আমাদের প্রয়োজন নেই।”

তিনি আরও বলেন, “জয়ী হওয়ার পথে যুবকেরা কখনো বলেনি—আমাদের বেকার ভাতা দাও। তারা বলেছেন, আমাদের হাতে কাজ দাও। আমরা আমাদের দেশ ও জাতিকে গড়তে চাই। এজন্য যুবসমাজের হাতে আমরা অপমানজনক বেকার ভাতা তুলে দেব না; বরং তুলে দেব সম্মানের কাজ। এখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—সবাই একসঙ্গে কাজ করবে। এখানে দল বা ধর্ম নয়, গুরুত্ব পাবে দক্ষতা ও দেশপ্রেম।” এই চেতনা নিয়েই তিনি একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, যিনি সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া বক্তব্য রাখেন এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম, জামায়াতের নায়েবে আমির আনম শামশুল ইসলাম এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ব্যারিস্টার হামিদ হোসেন আজাদ।