আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শেরপুর-১ (সদর) আসনে নির্বাচনী উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই জমে উঠছে প্রচারণা। জয় নিশ্চিত করতে মাঠ-ঘাট, হাট-বাজার ও গ্রাম-মহল্লা চষে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা। এই আসনে এবার মূলত ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে, যা ভোটের সমীকরণকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ভোটারদের মন জয় করতে প্রত্যেক প্রার্থীই তুলে ধরছেন ‘আধুনিক শেরপুর’ গড়ার স্বপ্ন। নির্বাচনী ইশতেহার ও জনসভায় উন্নয়নকে সামনে রেখে দেওয়া হচ্ছে একের পর এক প্রতিশ্রুতি। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো উন্নয়ন ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে প্রার্থীদের বক্তব্য।
উন্নয়নের রোডম্যাপে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত অগ্রাধিকার
শেরপুর জেলার দীর্ঘদিনের অবহেলিত চাহিদার কথা তুলে ধরে প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিভিন্ন জনসভায় তারা বলছেন, নির্বাচিত হলে শেরপুরকে একটি আধুনিক ও টেকসই জনপদে রূপান্তর করা হবে।
প্রার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো—
পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা:
কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলের শিক্ষার্থী ও কৃষিখাতের উন্নয়নে একটি বিশেষায়িত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অঙ্গীকার করা হয়েছে। প্রার্থীদের মতে, এতে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবে এবং আধুনিক কৃষি গবেষণার মাধ্যমে উৎপাদন বাড়বে।
সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন:
জেলার স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রার্থীরা। এতে করে চিকিৎসক তৈরির পাশাপাশি উন্নত চিকিৎসাসেবা স্থানীয় পর্যায়েই নিশ্চিত হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
আধুনিক ও স্পেশালাইজড হাসপাতাল:
সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দিতে একটি আধুনিক ও বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের কথাও প্রচারণায় গুরুত্ব পাচ্ছে। এতে জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য ঢাকামুখী হওয়ার প্রবণতা কমবে বলে দাবি প্রার্থীদের।
সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত শেরপুর গড়ার প্রতিশ্রুতি
উন্নয়ন প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি প্রার্থীরা একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ শেরপুর গড়ার অঙ্গীকারও করছেন। প্রচারণার বিভিন্ন পর্যায়ে তারা আশ্বস্ত করছেন—
-
নির্বাচিত হলে শেরপুর জেলাকে সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত করা হবে।
-
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
-
জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা হবে।
প্রার্থীদের বক্তব্যে বারবার উঠে আসছে—ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থ নয়, জেলার সার্বিক উন্নয়নই হবে তাদের মূল লক্ষ্য।
ভোটারদের প্রত্যাশা ও বাস্তবতা
প্রার্থীদের দেওয়া বড় বড় উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি ভোটারদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। তবে একই সঙ্গে প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে ভোটারদের মধ্যে আলোচনা ও বিশ্লেষণও চলছে। অনেক ভোটার মনে করছেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি যেন কেবল কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে।
একজন স্থানীয় ভোটার বলেন,
“প্রতিবারই নির্বাচনের সময় অনেক কথা শোনা যায়। আমরা চাই, এবার যিনি নির্বাচিত হবেন, তিনি যেন অন্তত কিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ দেন।”
শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও অপেক্ষা
নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসায় প্রার্থীরা এখন শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সমর্থন চাইছেন তারা। কোথাও উঠান বৈঠক, কোথাও পথসভা—সব মিলিয়ে শেরপুর সদর জুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর নির্বাচনী আবহ।
এখন দেখার বিষয়, ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালট যুদ্ধে শেরপুরবাসী শেষ পর্যন্ত কাকে তাদের আগামী দিনের প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেন। ত্রিমুখী এই লড়াইয়ের ফলাফল নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।