ঢাকা, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬,
সময়: ০১:৫৮:০২ AM

দলীয় ডিসি-এসপিদের বদলি চায় জামায়াত

দৈনিক সমবাংলা
07-01-2026 08:30:25 PM
দলীয় ডিসি-এসপিদের  বদলি চায় জামায়াত

প্রশাসনে রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা রয়েছেন বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের। তিনি বলেছেন, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের মধ্যে অনেক দলীয় ডিসি নিয়োগ করা হয়েছে। তাই তারা দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমরা এসব ডিসি এসপির বদলির ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে বলেছি। বুধবার (৭ জানুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক সম্পর্কে আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, প্রার্থিতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে একাধিক বৈষম্য তাদের নজরে এসেছে। কারও মনোনয়ন গ্রহণ করা হয়েছে, আবার কারওটি বাতিল করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিএনপির ১২ থেকে ১৩ জন প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও তাদের মনোনয়ন গ্রহণ করা হলেও জামায়াতের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে তা করা হয়নি। একই আইনের ভিন্ন প্রয়োগের প্রতিবাদ তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, দলীয়ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের কারণে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এ কারণে এসব ডিসি ও এসপির বদলির দাবি জানানো হয়েছে। দেশে সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ নেই বলেও অভিযোগ করেন তিনি। কারও ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, আবার অন্যদের ক্ষেত্রে তা করা হচ্ছে না। নির্বাচনের সময়ে এটি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সরকারের আচরণে সমতা থাকা প্রয়োজন বলেও জানান। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন নীতিগতভাবে একমত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সিসিটিভি ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে জামায়াতের এই নায়েবে আমির বলেন, কমিশন জানিয়েছে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সিসি ক্যামেরা চালু করা হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি আবার সাজানো নির্বাচন হয়, তাহলে দেশ অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে। একটি বড় রাজনৈতিক দল কার্যত নির্বাসিত অবস্থায় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাস্তবতা মেনে দেশের স্বার্থে সবাইকে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।

সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, কমিশনের কাছে তারা কোনো নির্দিষ্ট ডিসি বা এসপির তালিকা দেননি। পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পরবর্তীতে তালিকা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে মাঠপর্যায়ে তাদের নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে হবে।