(বাংলাদেশের কণ্ঠ বিশ্বমঞ্চে, রোহিঙ্গা সংকট ও গঙ্গার পানি বিতরণ)
১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে এবং ২০০০-এর গোড়ার দিকে বাংলাদেশ কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে না; দেশের অর্থনীতি, সামাজিক কাঠামো, এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কও নতুন মোড় নিচ্ছিল। সেই সময়ে একজন নারী নেতা দেশের নেতৃত্বে উঠে এসে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের কণ্ঠকে শক্তিশালী ও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরলেন—তিনি হলেন বেগম খালেদা জিয়া।
দেশের সীমান্তে রোহিঙ্গা সংকট, নদী ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন—সব বিষয়ই আন্তর্জাতিক আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বাংলাদেশের জনগণ প্রত্যাশা করছিলেন, যে নেত্রী শুধু দেশের অভ্যন্তরে নয়, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও দেশকে শক্তিশালীভাবে উপস্থাপন করবেন।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের কণ্ঠ
একবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হলো। বেগম খালেদা জিয়া হোটেল এবং পার্লামেন্ট হালকা আলোয় ভরা হলের মঞ্চে উঠে দাঁড়ালেন। তার চোখে দৃঢ়তা, কণ্ঠে আত্মবিশ্বাস। তিনি জানতেন, বাংলাদেশের মানুষের আশা এবং দেশের স্বার্থ এই মুহূর্তে তার হাতে।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে তিনি বললেন,
“আমাদের দরিদ্র দেশ শত শত হাজার শরণার্থীকে আশ্রয় দিচ্ছে। আমরা তাদের মানবিক সহায়তা দিচ্ছি, কিন্তু এটি আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া সম্ভব নয়। বিশ্বের কাছে আমি অনুরোধ করছি, মানবিকতা এবং ন্যায়ের পথে আমাদের পাশে দাঁড়ান।”
তার বক্তব্যে ছিল নিখাদ মানবিকতা, শক্তিশালী কূটনৈতিক জ্ঞান, এবং দেশের স্বার্থ রক্ষার অঙ্গীকার। শুধুমাত্র কথা নয়, তিনি সমাধানের উপায়ও প্রস্তাব করেছিলেন—শরণার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক তহবিল, খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা, এবং প্রত্যাবাসনের সুসংগঠিত পরিকল্পনা।
গঙ্গার পানি বিতরণ ইস্যু
একই সময়ে, ভারতের সঙ্গে গঙ্গা নদীর পানি বিতরণ নিয়ে বাংলাদেশে উত্তেজনা ছিল। পানি বিতরণের সমঝোতা চুক্তি না হলে কৃষি ও জীবনযাত্রা বিপন্ন হতে পারত।
বেগম খালেদা জিয়া আন্তর্জাতিক মঞ্চে দৃঢ় অবস্থান নিলেন। তিনি বললেন,
“নদী বণ্টন শুধু দুই দেশের স্বার্থের বিষয় নয়। এটি হাজার হাজার কৃষক, মৎসজীবী এবং গ্রামীণ মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে। আমাদের সুনির্দিষ্ট সমঝোতার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।”
তিনি নিজের দল, বিদেশি কূটনীতিক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে কঠোর আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বার্থকে নিশ্চিত করেছিলেন। এতে দেশের কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা, এবং পরিবেশ সংরক্ষণে একটি স্থায়ী সমাধান তৈরি হয়।
হোয়াইট হাউস সফর
২০০০-এর দশকে তিনি হোয়াইট হাউসে আমেরিকার কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন। সেখানে বাংলাদেশের অর্থনীতি, উন্নয়ন কর্মসূচি, এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে তিনি বিস্তারিত আলোচনার জন্য প্রস্তুত ছিলেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি বললেন,
“বাংলাদেশ শুধুই একটি ক্ষুদ্র দেশ নয়। আমাদের ইতিহাস, আমাদের জনগণ, এবং আমাদের অর্থনীতি বিশ্বমঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। আমরা চাই, সমন্বিত উন্নয়ন, শান্তি এবং সহযোগিতার মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হোক।”
এই সফরে তিনি শুধু বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করলেন না; দেশকে আন্তর্জাতিক মানচিত্রে সমাদৃত করলেন। তিনি দেখালেন, একজন শক্তিশালী নারী নেতা দেশের কণ্ঠকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে শক্তিশালীভাবে তুলে ধরতে পারেন।
কূটনৈতিক দক্ষতা ও গণতান্ত্রিক শক্তি
তার নেতৃত্ব কেবল কূটনীতির নয়, এটি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন। তিনি বুঝেছিলেন, দেশের বাইরে শক্তি প্রয়োগের পাশাপাশি, দেশের মানুষের আস্থা, ন্যায়পরায়ণতা, এবং মানবিক মূল্যবোধও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিটি আলোচনায় তিনি শান্ত, সংযত, কিন্তু দৃঢ় ছিলেন। কোনো ধরনের চাপ, হুমকি বা রাজনৈতিক প্রভাব তাকে ন্যায়পরায়ণতা থেকে সরাতে পারেনি। তার এই মনোভাব বাংলাদেশের কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে।
সাধারণ মানুষের অনুভূতি
দেশে মানুষ জানত—নেত্রী বিদেশে গেলেও দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। গণমাধ্যমে তার বক্তব্য সম্প্রচারিত হলে, শিশু, যুবক, নারী—সবার মুখে হাসি, চোখে আশা। তারা বুঝেছিল, বাংলাদেশের কণ্ঠ আন্তর্জাতিক মঞ্চে শক্তিশালী হয়েছে, এবং দেশের নেতৃত্ব তাদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ়।
এক শিক্ষক বলেছিলেন,
“আমরা দেখছি, শুধু রাজনৈতিক ক্ষমতা নয়, মানবিকতা, ন্যায়পরায়ণতা, এবং দৃঢ় নীতি মিলিয়ে নেতৃত্ব দেশকে বিশ্বমঞ্চে এগিয়ে নিয়ে যায়।”
ইতিহাসে স্থান
এই সময়ের অর্জন কেবল কয়েকটি চুক্তি বা সফরের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ নয়। এটি প্রমাণ করল—
- একজন নারী নেতা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে দেশের স্বার্থ রক্ষা করতে পারে।
- মানবিকতা ও ন্যায়পরায়ণতা আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিচিত হয়।
বাংলাদেশ আজও সেই অধ্যায়কে স্মরণ করে। রোহিঙ্গা সংকট, নদী বণ্টন, আন্তর্জাতিক সফর—সবই প্রমাণ যে, নির্ভীক, আপসহীন এবং দৃঢ় নীতি বিশিষ্ট নেতা দেশকে বিশ্বমঞ্চে এগিয়ে নিতে পারে।
পরিণতি
বেগম খালেদা জিয়ার আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব দেশের মানুষের মনে আত্মবিশ্বাস স্থাপন করল। মানুষ বুঝল—যে নেতা দেশের স্বার্থের কথা চিন্তা করে, দেশের মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করে এবং মানবিকতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়, তার নেতৃত্বে দেশ বিশ্বমঞ্চেও সমাদৃত হয়।
এই অধ্যায় থেকে শিক্ষা নেয়া যায়—দৃঢ় নীতি, আপসহীন মনোভাব, এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সংমিশ্রণে দেশের কণ্ঠ আন্তর্জাতিক মঞ্চে শক্তিশালী হয় এবং দেশকে সমৃদ্ধ ও মর্যাদাপূর্ণ করে।
চলবে……………..