ঢাকা, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬,
সময়: ০৪:৫৬:৫৯ AM

শোকের মহাকাব্য- পর্ব–২৩

মান্নান মারুফ
09-01-2026 12:02:21 PM
শোকের মহাকাব্য- পর্ব–২৩

(তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় ফিরে আসা এবং দেশের নতুন দিশা)

২০০১ সালের নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন ইতিহাসের সূচনা করল। পাঁচ বছর বিরোধী দলের অবস্থানের পর, বেগম খালেদা জিয়া আবারও জনগণের আস্থা সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরে এলেন। এই পুনরাগমন ছিল কেবল রাজনৈতিক জয় নয়, এটি জনগণের বিশ্বাস গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বিজয়ও বটে।

নির্বাচনের প্রেক্ষাপট

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে দেশের রাজনীতি ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। বিএনপি বিরোধী দলের ভূমিকায় থেকেও সংসদে শক্ত ভিত রক্ষা করেছিল। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলীয় অভ্যন্তরীণ একতা, সাংগঠনিক শক্তি এবং দেশের গণতন্ত্রকে অটল রাখার কৌশল দেশের মানুষকে দেখিয়েছিলবিরোধী অবস্থানেও দেশকে গঠনমূলক প্রভাব দেওয়া যায়।

তবে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নির্বাচনের আগে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি ছিল। জনগণ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য শক্তিশালী নেতৃত্বের প্রত্যাশা করছিল। খালেদা জিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টশুধু ক্ষমতা নয়, দেশের উন্নয়ন মানুষের কল্যাণই প্রাধান্য।

নির্বাচনী প্রচারণা জনমত

২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালায়। খালেদা জিয়া নিজে দেশের প্রত্যেক প্রান্তে গিয়ে মানুষকে বলেছেন,
আমরা আপনার আস্থা সমর্থন চাই, যাতে দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র এবং ন্যায়পরায়ণতা অটল থাকে। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিআপনাদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

গ্রামে গ্রামে, শহরের রাস্তায় রাস্তায় মানুষ তাকে স্বাগত জানাত। চোখে আশার আলো, হৃদয়ে বিশ্বাসমানুষ বুঝেছিল, এই নেতা তাদের সমস্যা, আশা এবং স্বপ্নকে চিরস্থায়ী গুরুত্ব দেয়।

নির্বাচনে জয়

নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হল। বিএনপি জোট বিজয়ীবেগম খালেদা জিয়া আবারও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় ফিরে এলেন। তবে এটি ছিল কেবল একটি রাজনৈতিক জয় নয়। এটি ছিল জনগণের আস্থা, গণতন্ত্রের শক্তি এবং দেশের স্থিতিশীলতার বিজয়।

প্রথমবার ক্ষমতায় ফেরার আনন্দ তার দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; দেশের মানুষও সমানভাবে উৎসাহিত হয়। স্কুল, কলেজ, বাজারসবার মুখে হাসি, চোখে আশার জ্যোতি। কেউ বলল,
আমরা দেখেছি, কঠিন সময়েও নেতা জনগণের বিশ্বাসের প্রতিফলন হয়ে ফিরে আসতে পারেন।

প্রশাসনিক রাজনৈতিক নতুন দিশা

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার লক্ষ্য স্পষ্টদেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, নারী ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়া। নির্বাচনের প্রারম্ভেই তিনি কৌশলী পরিকল্পনা প্রণয়ন করলেন।

. অর্থনীতি কর্মসংস্থান: নতুন শিল্পায়ন, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কৃষি উন্নয়নে পরিকল্পনা।
. শিক্ষা নারী ক্ষমতায়ন: বিদ্যালয়, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার প্রসার; নারী শিক্ষার জন্য বৃত্তি এবং কর্মসংস্থান।
. সামাজিক উন্নয়ন: স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং গ্রামীণ অঞ্চলের উন্নয়ন।
. আন্তর্জাতিক কূটনীতি: প্রতিবেশী দেশ আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা।

খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে প্রশাসন সক্রিয়ভাবে নতুন নীতি প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন শুরু করল। জনগণ দেখল, ক্ষমতায় ফিরে আসার পরও নেতা শুধু ক্ষমতার জন্য নয়, দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করছেন।

সামাজিক রাজনৈতিক প্রভাব

বিরোধী দলের সঙ্গে সংলাপ সমন্বয় বজায় রাখার মাধ্যমে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। দেশের মানুষ দেখল, দেশের উন্নয়নে সমন্বয় এবং নৈতিক নেতৃত্ব কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

এক নাগরিক বললেন,
আমরা শুধু ক্ষমতাশালী নেতা পাইনি; আমরা এমন একজন নেতা পেয়েছি, যে দেশের মানুষকে কেন্দ্রে রেখে নীতি প্রণয়ন করেন।

নারীরা বললেন,
নারী নেতার নেতৃত্বে আমরা দেশের উন্নয়ন নারী ক্ষমতায়নের নতুন সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি।

শিক্ষার্থীরা বলল,
এভাবে দেশের নেতৃত্ব আমাদের শিক্ষা দেয়সৎ, দৃঢ় এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা মানেই শক্তিশালী নেতৃত্ব।

আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ

২০০১ সালের পুনরাগমনের পর আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশ একটি স্থিতিশীল এবং কার্যকর নেতৃত্বের দেশ হিসেবে স্বীকৃত হলো। বিদেশি কূটনীতিকরা দেখল, বিরোধী শক্তি সরকার উভয়ই দেশের স্বার্থে সমন্বয় করে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।

এটি দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিতেও দৃঢ় প্রভাব ফেলল। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক সবই শক্তিশালী হলো।

ইতিহাসে স্থান

২০০১ সালের পুনরাগমন কেবল ক্ষমতার ফিরতি নয়; এটি নির্ভীক নেতৃত্ব, জনগণের আস্থা এবং গণতন্ত্রের বিজয়

  • এটি দেখায়, একজন নেতা জনগণের আস্থা সমর্থন পেলে দেশের নেতৃত্ব শক্তিশালীভাবে পুনঃস্থাপিত হতে পারে।
  • এটি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নৈতিক নেতৃত্ব এবং পরিকল্পনামূলক উন্নয়নের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
  • এটি আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেশের মর্যাদা স্বীকৃতি বৃদ্ধি করে।

বেগম খালেদা জিয়ার ২০০১ সালের পুনরাগমন প্রমাণ করল, কঠিন সময়েও নেতা জনগণের বিশ্বাস ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে দেশের নেতৃত্ব পুনঃস্থাপন করতে পারেন।

এই অধ্যায় বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি দৃঢ় প্রেরণা, রাজনৈতিক নৈতিকতার উদাহরণ এবং গণতান্ত্রিক শক্তির প্রতীক হিসেবে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।

চলবে………………