ঢাকা, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬,
সময়: ১০:৪১:৪৬ AM

আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের:সম্ভাবনাময় নেতা

মান্নান মারুফ
09-01-2026 08:06:45 PM
আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের:সম্ভাবনাময় নেতা

সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের একজন জনপ্রিয় ও স্বনামধন্য নেতা, যিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের মাধ্যমে কুমিল্লা তথা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি স্থায়ী পরিচয় তৈরি করেছেন। ১৯৫৮ সালে জন্ম নেওয়া এই রাজনীতিবিদ কুমিল্লা-১১ আসনের প্রাক্তন সংসদ সদস্য এবং জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। তার রাজনৈতিক পথচলা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য নয়, বরং দেশের জনগণ ও দলের কল্যাণকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। কুমিল্লার রাজনৈতিক ইতিহাসে তার অবদান চিরস্মরণীয়, এবং দেশের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার সক্রিয় ভূমিকা অমূল্য। সাধারণ মানুষ তাকে সৎ, মেধাবী এবং গুণী নেতা হিসেবে চেনে।

এ বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি কুমিল্লা-১১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, এবং তার এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের হারানো কঠিন বলেই মনে করা হচ্ছে।


রাজনৈতিক জীবন ও যাত্রা

তাহেরের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ইসলামী ছাত্র শিবিরে। ছাত্র রাজনীতির মধ্য দিয়ে তিনি নেতৃত্বের প্রাথমিক শিক্ষা নেন এবং দলের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করেন। তার সক্রিয় নেতৃত্বের ফলে তাকে শিবিরের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে ১৯৮৫-৮৬ এবং ১৯৮৬-৮৭ সালে তিনি কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এই সময়ে তাহের দলের সংগঠন শক্তিশালী করতে কাজ করেন এবং সদস্যদের মধ্যে নৈতিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেন। তার নেতৃত্ব শুধু প্রশাসনিক নয়, বরং নৈতিক ও আদর্শিক দিকেও প্রশংসনীয় ছিল, যা তার পরবর্তী রাজনৈতিক জীবনের ভিত্তি স্থাপন করে।

২০০১ সালে তিনি কুমিল্লা-১১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সপ্তম জাতীয় সংসদে তার কার্যকাল চলাকালীন তিনি দুটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সদস্য ছিলেন—সাধারণ হিসাব পরিদর্শন কমিটি এবং পাবলিক আন্ডারটেকিং কমিটি। এই সময়ে তিনি দেশের অর্থনৈতিক নীতিমালা, বাজেট পর্যালোচনা এবং সরকারি প্রকল্পসমূহের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

তাহেরের সংসদীয় কাজ ছিল জনগণের কল্যাণমুখী। স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষার প্রসার, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক নিরাপত্তা—all এই সব ক্ষেত্রেই তার সক্রিয় অবদান রয়েছে। কুমিল্লার মানুষ তাকে শুধু নেতা নয়, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ নেতা হিসেবে চেনে।


গ্রেপ্তার ও বিচারকালীন পরিস্থিতি

সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের রাজনৈতিক জীবনে বহুবার দমন-পীড়নের মুখোমুখি হয়েছেন। সেনা-সমর্থিত তত্তাবধায়ক সরকারের সময়, ৭ মার্চ ২০০৭ সালে তাকে সহ-সেনাবাহিনী ও অন্যান্য সংস্থার যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ ছিল বনভূমি দখল, লুটপাট এবং অশান্তি সৃষ্টির।

তবে তিনি ৭ আগস্ট ২০০৮ সালে আংশিক জামিনে মুক্তি পান। এরপরও বিভিন্ন সময়ে তার ওপর রাজনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকে। সর্বশেষ ২০১৩ সালে ২ জানুয়ারি তাকে আরএবি (র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন) গ্রেপ্তার করে। অভিযোগ ছিল অগ্নিসংযোগ, পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর আক্রমণ এবং সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। পরে তাকে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়।

এই সব ঘটনা তার রাজনৈতিক প্রতিজ্ঞা ও দৃঢ়তা প্রমাণ করে। রাজনৈতিক চাপে কখনো হাল ছাড়েননি, বরং প্রতিটি ঘটনা তাকে আরও দৃঢ়, অভিজ্ঞ এবং সক্রিয় নেতা হিসেবে গড়ে তুলেছে।


সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড

২০১৩-এর পর থেকে সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। তিনি দেশের মানুষের সঙ্গে সংযোগ বজায় রেখেছেন, দলের কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে তিনি মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন এবং ১৬ অক্টোবর ২০২৩ সালে মার্কিন দূতাবাসের প্রথম রাজনৈতিক সচিব ম্যাথু বে-র সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকগুলো তার কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাবকে আরও দৃঢ় করেছে।

২০১৩-এর পর তিনি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবেও উঠে এসেছেন। তার লক্ষ্য হলো নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু করা, দলের শক্তি বাড়ানো এবং এলাকার মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা। তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় জনগণের আস্থা এবং দলের ঐক্যকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেন।


কুমিল্লায় অবদান

কুমিল্লা শহর এবং চৌদ্দগ্রাম অঞ্চলে তাহেরের অবদান ব্যাপক। শিক্ষার উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক কর্মসূচি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে তার ভূমিকা অমূল্য। স্থানীয় মানুষ তাকে ভরসাযোগ্য নেতা হিসেবে মানেন, যিনি সর্বদা তাদের সমস্যার সমাধান করতে প্রস্তুত।

তাহেরের নেতৃত্বে কুমিল্লার বিভিন্ন সামাজিক এবং রাজনৈতিক সমস্যা সমাধান হয়েছে। তিনি শুধু ভোটারদের কাছে নয়, দেশের সাধারণ মানুষের কাছে ও একটি নৈতিক ও দায়িত্বশীল নেতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত।


রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধ

সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের প্রমাণ করেছেন যে নেতৃত্ব মানে শুধু পদ নয়, বরং জনগণের আস্থা অর্জন করা, দলের শক্তি রক্ষা করা এবং দেশের কল্যাণে নিবেদিত থাকা। তার রাজনৈতিক নীতির মূল ভিত্তি হলো—জনগণের আস্থা, দলীয় ঐক্য এবং দেশের সার্বিক উন্নয়ন

তাহের একজন সৎ, মেধাবী ও গুণী নেতা, যিনি রাজনৈতিক ও সামাজিক যেকোনো সংকট মোকাবিলায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তার জীবন ও কাজ দেশপ্রেম এবং জনকল্যাণের নিদর্শন।


সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের রাজনৈতিক জীবন একটি উদাহরণস্বরূপ নেতৃত্বের ইতিহাস। তিনি কেবল কুমিল্লার জন্য নয়, বাংলাদেশের রাজনীতির জন্যও একটি স্থায়ী অবদান রেখেছেন। তার প্রতিটি সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক পদক্ষেপ এবং সাংসদীয় কাজ দেশের জনগণ এবং দলের কল্যাণকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম আসনের প্রার্থী হিসেবে তার পুনরায় নির্বাচনী প্রচারণা দেখায় যে, তিনি জনগণের আস্থা অর্জন এবং দলকে শক্তিশালী করার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দেশ ও দলের জন্য তার অবদান চিরকাল স্মরণীয় থাকবে।

সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের শুধু একজন নেতা নয়; তিনি এক জননেতা, দায়িত্বশীল রাষ্ট্রচিন্তক এবং দেশের মানুষের প্রতি অবিচল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নেতা। কুমিল্লা তথা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তার নাম একটি স্থায়ী পরিচয় হিসেবে চিরস্মরণীয় থাকবে।