(দৃঢ় নীতি, অদম্য সাহস, গণতন্ত্রের প্রতীক)
১৯৮০-এর দশকের শেষার্ধ। দেশের রাজনীতি উত্তাল, মানুষের মন দ্বিধাগ্রস্ত। স্বৈরশাসক জেনারেল এরশাদের কঠোর নজরদারি, সেনাবাহিনীর টহল, গণমাধ্যমে সেনা সরকারের প্রভাব—সবই দেশের মানুষকে চুপ করানোর চেষ্টা করছিল। কিন্তু তার ভেতরে কোনো ভয় ছিল না।
তিনি, যে নারী জিয়াউর রহমানের স্ত্রী থেকে ধীরে ধীরে দেশের রাজনৈতিক কেন্দ্রে উঠে এসেছেন, তার চোখে দৃঢ়তা এবং কথায় ন্যায়পরায়ণতা স্পষ্ট। তিনি বুঝতে পারতেন—যেখানে নেতা আপস করে, সেখানে জনগণের আস্থা হারায়। আর জনগণের আস্থা হারালে, দেশের গণতন্ত্রও হারায়।
এই সময় তাকে ‘আপোষহীন নেত্রী’ বলা শুরু হলো। এটি কোনো খেতাব নয়; এটি অর্জিত হয়েছে তার দৃঢ় নীতি, অসীম সাহস, জনগণের অধিকার রক্ষার অঙ্গীকার এবং দেশের গণতন্ত্রকে রক্ষা করার অদম্য সংকল্পের মাধ্যমে।
আপসহীন নেতৃত্বের প্রথম পরীক্ষা
একটি গুরুত্বপূর্ণ দলের সভায় সিনিয়র নেতারা স্বৈরশাসকের সঙ্গে কিছু আপস করতে চেয়েছিলেন। তারা বলল,
“প্রেসে কম কথা বললে, কিছু সুবিধা পাওয়া যাবে। পরিস্থিতি মসৃণ হবে।”
অনেকেই রাজি হল। কিন্তু তিনি স্থির ছিলেন। চোখে দৃঢ়তা, কণ্ঠে স্থিরতা। তিনি বললেন,
“চলবে না। গণতন্ত্রকে যদি আমরা বিক্রি করি, তবে আমরা জনগণের বিশ্বাসকে কীভাবে ফিরিয়ে আনব? আপস নয়। আমাদের নীতি অটল।”
সিনিয়র নেতারা চমকে গেল। তারা বুঝল—এই নারী কেবল কথা নয়, কাজের মধ্যেও দৃঢ়।
গ্রেপ্তার ও হুমকির মুখেও অটল
তার আপসহীন নীতি স্বৈরশাসকের কাছে অসহনীয় হয়ে ওঠে। একাধিকবার হুমকি, গ্রেপ্তার, জিজ্ঞাসাবাদ—সবই আসে। কিন্তু তিনি ভয় দেখাননি। কারাবাসে থাকার সময়ও তিনি দল এবং জনগণের জন্য চিন্তিত ছিলেন। তিনি মানুষকে বলতেন,
“আমাদের সংগ্রাম থামবে না। আমরা গণতন্ত্রের পথে দাঁড়াব। ভয়কে জয় করতে হবে।”
এই সময় তার নেতৃত্ব শুধু রাজনৈতিক নয়, মানবিক এবং নৈতিকও ছিল। কারো সঙ্গে অবিচার দেখলে তিনি প্রতিবাদ করতেন। কোনো আপস তাকে কখনো ন্যায়বিচার থেকে সরাতে পারেনি।
জনগণের হৃদয়ে স্থান
তার আপসহীন অবস্থান জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নিল। মানুষ জানল—এই নারী কেবল নেতা নয়, তারা গণতন্ত্রের অগ্রদূত। রাস্তায় ছাত্র-ছাত্রীরা, গ্রামে সাধারণ মানুষ—সবাই তার নাম উচ্চারণ করতে লাগল শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের সঙ্গে।
এ সময় তার নেতৃত্বের বিশেষ দিক হলো—শান্ত, সংযত কিন্তু দৃঢ় মনোবল। কোনো হিংসা, কোনো তিক্ততা, কোনো আপস—কিছুই তার কণ্ঠ বা কাজে স্থান পায়নি। তার সাহস এবং নীতি শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করল।
আন্দোলনের নতুন শক্তি
ছাত্রদল, সাধারণ মানুষ, দলের নেতারা—সবাই তার নেতৃত্বে একত্রিত হলো। হঠাৎ দেখলেন, যে নারী একসময় নীরবভাবে সভায় বসতেন, এখন তিনি দেশের রাজনীতির অগ্রদূত। তার আপসহীন নেতৃত্ব নতুন শক্তি নিয়ে এল।
আপোষহীন নেত্রী এবং গণতন্ত্র
এই অধ্যায়ে স্পষ্ট হলো—আপসহীন নীতি, দৃঢ় মনোবল এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা ছাড়া প্রকৃত নেতৃত্ব সম্ভব নয়।
তিনি দেখিয়েছেন, একজন নারী কেবল রাজনৈতিক পদ নয়, দেশের গণতন্ত্র রক্ষার প্রতীক হতে পারে। তার সাহস, দৃঢ়তা এবং আপসহীন মনোভাব তাকে ইতিহাসের পাতায় স্থায়ী করে তুলেছে।
নেতৃত্বের পরীক্ষার মুহূর্ত
একবার একটি বড় মিছিল পরিকল্পনা করা হয়। স্বৈরশাসক সরকারের পুলিশ তৎপর। হুমকি, ভয়, বাধা—সবই ছিল। অনেক নেতা ভয় পেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি স্থির। তিনি নিজে মিছিলে নেমেছিলেন। হাতে মাইক্রোফোন, চোখে অদম্য দৃঢ়তা। জনগণ দেখল—নেত্রী ভয় পায় না। সেই দৃশ্য শিক্ষার্থীদের এবং সাধারণ মানুষকে অনুপ্রাণিত করল।
মিছিল শেষ হলে, শহরের রাস্তায় হাজারো মানুষ তাকে ঘিরে ধরল। কোনো অভিযোগ, কোনো গর্হিততা—কিছুই তার সাহসকে নষ্ট করতে পারল না। বরং এই দৃঢ়তা তাকে ‘আপোষহীন নেত্রী’ হিসেবে ইতিহাসে প্রতিষ্ঠিত করল।
পরিণতি
তিনি শুধু বিএনপি-এর নেতা নয়। তিনি হয়ে উঠেছেন গণতন্ত্রের প্রতীক, জনগণের আশা, এবং দেশের অগ্রযাত্রার দিশারী।
‘আপোষহীন নেত্রী’—এই খেতাব অর্জিত হয়েছে তার অসীম সাহস, দৃঢ় নীতি এবং মানুষের প্রতি অপরিসীম দায়বদ্ধতার মাধ্যমে।
এই অধ্যায়টি দেখায়, কিভাবে একজন নেতা ভয়কে জয় করে, আপস না করে, এবং জনগণের আস্থা বজায় রেখে সত্যিকারের পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।
চলবে…………..