ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,
সময়: ০৮:৪৮:০২ PM

শেরপুরে গৃহবধূ মর্জিনাকে ‘শ্বাসরোধে হত্যা

ষ্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
05-02-2026 06:53:38 PM
শেরপুরে গৃহবধূ মর্জিনাকে ‘শ্বাসরোধে হত্যা

শেরপুর সদর থানায় মর্জিনা আক্তার (৩০) নামে এক গৃহবধূকে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার নাটক সাজানোর অভিযোগ উঠেছে। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার ও আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে আজ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে শেরপুরের নিউ মার্কেটে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন নিহতের শোকাতুর বাবা-মা। নিহতের পরিবার ও থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৩ বছর আগে শেরপুর সদর উপজেলার পশ্চিম দড়িপাড়া গ্রামের মৃত কলিম উদ্দিনের ছেলে মো. হাছেন আলীর সাথে মর্জিনা আক্তারের পারিবারিকভাবে বিবাহ হয়। তাঁদের দাম্পত্য জীবনে মোছা. সানিয়া আক্তার (০৮) ও মোহাম্মদ আলী (০৪) নামে দুটি সন্তান রয়েছে। বিগত প্রায় ৪ বছর ধরে মর্জিনার স্বামী হাছেন আলী জীবিকার তাগিদে প্রবাসে অবস্থান করছেন। স্বামী প্রবাসে থাকার সুবাদে মর্জিনা তাঁর সন্তানদের নিয়ে শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন। অভিযোগ রয়েছে, এই সময়ে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে শ্বশুর কেফাজ উদ্দিন ও শাশুড়ি মহরা বেগমসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা মর্জিনার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন।

নিহতের মা মোছা. নার্গিস বেগম উল্লেখ করেন, গত ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিকাল আনুমানিক ৩:৩০ ঘটিকায় পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শ্বশুর ও শাশুড়ি মর্জিনাকে মারধর করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। এরপর ৩১ জানুয়ারি গভীর রাত ৩টার দিকে নিহতের পরিবারকে মোবাইলে জানানো হয় যে, মর্জিনা ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

নিহতের মা সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন: "আমরা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি আমার মেয়ে মর্জিনার মরদেহ ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না দিয়ে ঝুলছে, কিন্তু তার হাঁটু খাটের ওপর লেগে ছিল। এটি স্পষ্টত একটি সাজানো নাটক। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, ৩০ জানুয়ারি রাত ১০টা থেকে ৩১ জানুয়ারি রাত ৩টার মধ্যে যেকোনো সময় শ্বশুরবাড়ির লোকজন মর্জিনাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশটি ঝুলিয়ে রেখেছে।"

এ ঘটনায় শেরপুর সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। মামলায় প্রধান অভিযুক্তরা হলেন: ১. মো. কেফাজ উদ্দিন ওরফে কেফা (৬০) (শ্বশুর) ২. মোছা. মহরা বেগম (৫০) (শাশুড়ি) ৩. মোছা. মমতা বেগম (৩০) (ননদ) ৪. মোছা. মুম্মিতা বেগম (২৫) (ননদ) ৫. মো. মজিবর রহমান (৪০) ৬. মো. কোকিল মিয়া (৩০) এবং আরও অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন।

সংবাদ সম্মেলনে মর্জিনার বাবা-মা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং প্রশাসনের প্রতি আকুল আবেদন জানান যেন অতিদ্রুত এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা হয়। তারা অভিযোগ করেন, আসামীরা প্রভাবশালী হওয়ায় এবং ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করায় এখনো তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। তারা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

শেরপুর সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছিল এবং প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।