ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬,
সময়: ০১:৩৬:১৯ AM

কে হচ্ছেন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক

স্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
18-05-2026 09:54:56 PM
কে হচ্ছেন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক

দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদল-এর কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। দলীয় নীতিনির্ধারকদের মতে, নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন হলে সংগঠনের কার্যক্রমে গতি আসবে, দায়িত্ব বণ্টন সহজ হবে এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে কাজের উদ্দীপনা বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা জোরদার করার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম কমে আসবে বলে তারা আশা করছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ঢাকা মহানগর যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে আংশিক বা আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে সংগঠন পরিচালিত হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের স্থবিরতা ও হতাশা তৈরি হয়েছিল। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।

সূত্রগুলো আরও জানায়, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশনায় এবারের কমিটিতে ত্যাগী, পরিশ্রমী এবং দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখা নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যারা বিগত রাজনৈতিক কর্মসূচি ও আন্দোলনে মাঠে সক্রিয় ছিলেন, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের মূল্যায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। পাশাপাশি নবীন ও প্রবীণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কমিটি গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

দলীয় পর্যায়ে ইতোমধ্যে পদপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাই শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে। কয়েক মাস আগে ১৫১ সদস্যের একটি কমিটি অনুমোদনের জন্য হাইকমান্ডে জমা দেওয়া হলেও তা নিয়ে ভিন্নমত ও বিতর্ক তৈরি হয়। কেউ কেউ এটিকে পক্ষপাতমূলক ‘মাইম্যান’ কমিটি হিসেবে আখ্যা দেন। এর মধ্যেই নতুন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের আলোচনা জোরালো হয়।

২০২৪ সালে আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে। তবে কমিটি ঘোষণার প্রায় ২২ মাস পরও তা পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। এর মধ্যে সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় তিনি সংগঠনে পূর্ণ সময় দিতে পারছেন না বলে দলীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। এই বাস্তবতায় দ্রুত নতুন নেতৃত্ব আনার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে দলটি।

যুবদলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে এরই মধ্যে বিভিন্ন স্তরে জোর আলোচনা চলছে। বিশেষ করে সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক নেতার নাম সামনে এসেছে। আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব, ছাত্রদলের সাবেক শীর্ষ নেতা এবং ঢাকা মহানগর পর্যায়ের অভিজ্ঞ কয়েকজন সংগঠক।

দলীয় সূত্র বলছে, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সংগঠনিক দক্ষতা এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আস্থা—এই তিনটি বিষয়কে ভিত্তি করে সম্ভাব্য নেতৃত্ব বাছাই করা হচ্ছে। কেউ কেউ দীর্ঘদিন ধরে মাঠ পর্যায়ে সংগঠনকে সক্রিয় রাখায় অগ্রাধিকার পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন।

এছাড়া ঢাকা মহানগর যুবদলের নতুন কমিটি ঘোষণাকে ঘিরে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অনেকেই তাদের বিগত দিনের রাজনৈতিক ভূমিকা ও আন্দোলনে অংশগ্রহণের বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে তুলে ধরছেন।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক স্থায়ী কমিটির সদস্য জানান, ঈদের পর যুবদলসহ সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটি পুনর্গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর দলীয় পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আরও বড় ধরনের সাংগঠনিক পরিবর্তন আসতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের আংশিক কমিটি ব্যবস্থার কারণে যুবদলের সাংগঠনিক কাঠামোতে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল, পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের মাধ্যমে তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে বিএনপি। তবে নতুন কমিটি ঘোষণার পর নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা ও সমন্বয়ের চ্যালেঞ্জও তৈরি হতে পারে।

সব মিলিয়ে জাতীয়তাবাদী যুবদলের আসন্ন পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নেতাকর্মীরা আশা করছেন, নতুন নেতৃত্ব সংগঠনকে আরও সক্রিয়, সুসংগঠিত এবং আন্দোলনমুখী করে তুলবে।