ঢাকা, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬,
সময়: ০৪:২৮:০৬ AM

চীন সফরের পর কেন ফেলে দেওয়া হলো উপহার?

ডেস্ক রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
16-05-2026 08:07:22 PM
চীন সফরের পর কেন ফেলে দেওয়া হলো উপহার?

চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping–এর নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে দুই দিনব্যাপী উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধিদল শুক্রবার (১৫ মে) বেইজিং ত্যাগ করেছে। সফর শেষে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে হোয়াইট হাউসের কর্মী, নিরাপত্তা সদস্য এবং সফরসঙ্গী সাংবাদিকদের কাছ থেকে সফরকালে ব্যবহৃত বা সংগ্রহ করা বিভিন্ন সামগ্রী জমা নেওয়া হয়। এসব সামগ্রীর মধ্যে ছিল বার্নার ফোন, পরিচয়পত্র, ল্যাপেল পিন এবং চীন সফরের সময় ব্যবহৃত অন্যান্য আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র।

মার্কিন প্রেস পুলের এক সাংবাদিকের বরাতে জানা যায়, এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে বিমানের সিঁড়ির নিচে রাখা একটি নির্দিষ্ট বাক্সে ওইসব জিনিস ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “চীনের দেওয়া সব উপহার ডাস্টবিনে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র” শিরোনামে খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

নিউইয়র্ক পোস্টের হোয়াইট হাউস প্রতিনিধি Emily Goodin সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লেখেন, “চীন থেকে কোনো কিছুই বিমানে আনার অনুমতি ছিল না।” তার এই মন্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে আরও কৌতূহল তৈরি হয়। তবে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি কেন ওইসব সামগ্রী পরিত্যাগ করা হয়েছে।

সফরের বিভিন্ন ছবিতে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পসহ মার্কিন প্রতিনিধি দলের কয়েকজন সদস্যের কোটে বিশেষ ল্যাপেল পিন লাগানো ছিল। প্রতিনিধিদলের মধ্যে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক Steven Cheung, Tim Cook, Jensen Huang এবং সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরাও ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, এসব পিন ও অন্যান্য সামগ্রীই পরে জমা নেওয়া হয়।

যদিও পুরো ঘটনাটি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে এর পেছনে মূল কারণ হতে পারে গোয়েন্দা ও সাইবার নিরাপত্তা শঙ্কা। দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা চীনের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি, সাইবার হামলা এবং প্রযুক্তিগত নজরদারির অভিযোগ করে আসছে। ফলে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সফরের সময় ব্যবহৃত যেকোনো সামগ্রীকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কূটনৈতিক সফরে বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে থাকে। সফরের সময় দেওয়া উপহার, ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা পরিচয়পত্রের মধ্যে আড়িপাতা প্রযুক্তি বা ট্র্যাকিং ডিভাইস যুক্ত থাকার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এ কারণেই সফর শেষে অনেক সময় এসব সামগ্রী ধ্বংস করা বা ফেলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এখানে বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে “বার্নার ফোন”। বার্নার ফোন হলো অস্থায়ীভাবে ব্যবহারের জন্য তৈরি বিশেষ মোবাইল ডিভাইস, যা সাধারণত সংবেদনশীল সফর বা নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে ব্যবহার করা হয়। সফর শেষ হলে এসব ফোন ফেলে দেওয়া বা নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা প্রটোকলের অংশ হিসেবেই বিবেচিত হয়। কারণ এসব ডিভাইস সফরের সময় হ্যাকিং, নজরদারি বা তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক নানা কারণে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাণিজ্য যুদ্ধ, প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা, তাইওয়ান ইস্যু এবং সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। যদিও এবারের শীর্ষ বৈঠকে উভয় পক্ষই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করেছে, তবুও পারস্পরিক অবিশ্বাস পুরোপুরি দূর হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন ঘটনা শুধু চীনের ক্ষেত্রেই নয়; বিশ্বের বিভিন্ন শক্তিধর রাষ্ট্রই নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একই ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। অতীতে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক সফরে ব্যবহৃত ডিভাইস ধ্বংস বা আলাদা করে সংরক্ষণের ঘটনাও সামনে এসেছে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে বলা হচ্ছে যে “চীনের দেওয়া সব উপহার ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয়েছে”, বাস্তবে ঘটনাটি পুরোপুরি সেভাবে নয়। মূলত সফরকালে ব্যবহৃত নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট সামগ্রী, অস্থায়ী ডিভাইস এবং কিছু আনুষঙ্গিক জিনিস জমা নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য ছিল নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়ানো এবং সম্ভাব্য নজরদারি থেকে সংবেদনশীল তথ্য রক্ষা করা।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে পুরো ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে আলোচনা ও জল্পনা অব্যাহত রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের বড় অংশ মনে করছেন, এটি মূলত একটি রুটিন নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যা যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলো প্রায়ই অনুসরণ করে থাকে।