ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬,
সময়: ০৭:০৭:২১ PM

ভারতে এসে তিক্ত অভিজ্ঞতা মার্কিন তরুণীর

আর্ন্তজাতিক রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
31-03-2026 11:49:18 AM
ভারতে এসে  তিক্ত অভিজ্ঞতা মার্কিন তরুণীর

ভারত সফরে এসে যৌন নিগ্রহের শিকার হওয়ার এক তিক্ত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন এক মার্কিন তরুণী। দিল্লি মেট্রোর ভিড়ের মধ্যে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় অভিযুক্ত একজন প্রায় ১৫ বছর বয়সী নাবালক। ঘটনাটি শুধু নিগ্রহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং প্রতিবাদ করতে গিয়ে উল্টো দোষারোপের শিকার হতে হয়েছে ওই তরুণীকে। পুরো ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার হওয়ার পর তা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। নিউ জার্সির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারতীয় বংশোদ্ভূত অধ্যাপক সৌরভ সবনিস এই ঘটনার বিবরণ প্রথম প্রকাশ করেন। তিনি জানান, তার এক সাবেক ছাত্রী ভারতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার আগে তার কাছ থেকে ভ্রমণ সংক্রান্ত পরামর্শ চেয়েছিলেন। তখনই অধ্যাপক তাকে সতর্ক করে দেন যে, ভারতের কিছু শহরে বিশেষ করে জনবহুল এলাকায় নারীদের প্রতি হয়রানির ঘটনা ঘটে থাকে এবং বিদেশি নারীরা অনেক সময় সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন। দুঃখজনকভাবে, তার সেই আশঙ্কাই পরে সত্যি হয়ে দাঁড়ায়।

তরুণীর বর্ণনা অনুযায়ী, দিল্লিতে পৌঁছানোর পর থেকেই তিনি অনেকের কাছ থেকে সেলফি তোলার অনুরোধ পেতে থাকেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তিনি তা এড়িয়ে যান। কিন্তু একদিন মেট্রোতে ভ্রমণের সময় এক কিশোর তার কাছে সেলফি তোলার অনুরোধ করে। ছেলেটির সঙ্গে তার মা ও বোনও উপস্থিত ছিলেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় তরুণী অনুরোধটি প্রত্যাখ্যান না করে সম্মতি দেন।

প্রথমে ছেলেটি তার কাঁধে হাত রাখে, যা তিনি স্বাভাবিক ভেবেই মেনে নেন। কিন্তু হঠাৎ করেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। কিশোরটি আকস্মিকভাবে তরুণীর স্তনে খামচে ধরে এবং তার নিতম্বে জোরে আঘাত করে। এমন আচরণে হতবাক হয়ে পড়েন তিনি। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই ঘটনার পর ছেলেটি হাসতে থাকে, যেন এটি একটি সাধারণ মজা।

নিজের সম্মান রক্ষায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে তরুণী ছেলেটির কলার চেপে ধরেন। কিন্তু এরপর যা ঘটে, তা তাকে আরও বেশি হতাশ ও ক্ষুব্ধ করে তোলে। ছেলেটির মা ও বোন এগিয়ে এসে তাকে থামানোর পরিবর্তে উল্টো তরুণীকেই দোষারোপ করতে শুরু করেন। তারা দাবি করেন, ছেলেটি আগে কখনও এমন “ফর্সা” মেয়েকে কাছ থেকে দেখেনি, তাই হয়তো এমন আচরণ করেছে। এই যুক্তি শুনে তরুণী গভীরভাবে মর্মাহত হন।

ঘটনার পর তিনি অধ্যাপক সবনিসকে একটি বার্তায় নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। সেখানে তিনি লিখেন, “আপনি যে আশঙ্কার কথা বলেছিলেন, সেটাই আমার সঙ্গে ঘটেছে।” তিনি আরও জানান, এই অভিজ্ঞতা তার মনে গভীর আঘাত দিয়েছে এবং তিনি অত্যন্ত নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করেছেন। যদিও তিনি ভারতের সংস্কৃতি ও মানুষের প্রতি আগ্রহ নিয়ে এসেছিলেন, এই ঘটনার পর তার দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় পরিবর্তন এসেছে।

তরুণী আরও প্রশ্ন তোলেন, সমাজে কিশোরদের কীভাবে বড় করা হচ্ছে এবং কেন এমন আচরণ তাদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে। তার মতে, এটি শুধুমাত্র একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং সামাজিক ও পারিবারিক শিক্ষার অভাবের একটি প্রতিফলন। তিনি মনে করেন, নারীদের প্রতি সম্মান ও সংবেদনশীলতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।

শেষ পর্যন্ত তিনি একটি কঠোর সিদ্ধান্তের কথাও জানান। তার ভাষায়, “আমি ভারতকে ভালোবাসি ঠিকই, কিন্তু সচেতনভাবে আর কখনও সেখানে যাব না।” শুধু ভারত নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়াতেই ভ্রমণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি। এই মন্তব্য অনেকের কাছেই উদ্বেগজনক, কারণ এটি একটি দেশের সামগ্রিক ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এই ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন। একই সঙ্গে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

সার্বিকভাবে, এই ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দেয় যে, জনসমাগমস্থলে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কতটা জরুরি। শুধু আইন প্রয়োগ নয়, বরং সামাজিক সচেতনতা, পারিবারিক শিক্ষা এবং দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমেই এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব।