ঢাকা, বুধবার, ২০ মে ২০২৬,
সময়: ১০:৫৪:৫৯ PM

যুবদল পদপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ তুঙ্গে

মান্নান মারুফ
20-05-2026 08:43:00 PM
যুবদল পদপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ তুঙ্গে

বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে আরও গতিশীল এবং তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী করতে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর কমিটি পুনর্গঠন নিয়ে দলীয় অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও গুঞ্জন চলছে। সম্ভাব্য নতুন কমিটিতে শীর্ষ পদ পেতে ইতোমধ্যে পদপ্রত্যাশীদের তৎপরতা, লবিং ও তদবিরও বেড়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির অষ্টম জাতীয় কাউন্সিলের আগেই যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি এবং ঢাকার দুই মহানগর ইউনিটের নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে। তবে বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের একটি তালিকা বিএনপির হাইকমান্ডের কাছে জমা থাকায় নতুন কমিটি গঠনের বিষয়টি নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে।

বর্তমানে ২০২৪ সালের ৯ জুলাই ঘোষিত আংশিক কমিটিতে সভাপতি হিসেবে আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নুরুল ইসলাম নয়ন দায়িত্ব পালন করছেন। তবে নুরুল ইসলাম নয়ন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর নিজ নির্বাচনী এলাকায় ব্যস্ত হয়ে পড়ায় সংগঠনের কার্যক্রমে নিয়মিত সময় দিতে পারছেন না বলে জানা গেছে। এতে সংগঠনের নেতৃত্ব কাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

দীর্ঘদিন কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় যুবদলের অভ্যন্তরে অসন্তোষ ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে নেতাকর্মীরা অভিযোগ করছেন। পদপ্রত্যাশীদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ড দুর্বল হয়ে পড়েছে। এতে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনের কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলেও মনে করছেন অনেকে।

অন্যদিকে নতুন কমিটি গঠনের আলোচনা চললেও বর্তমান নেতৃত্ব পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে ১৫১ সদস্য ও ২৫১ সদস্যবিশিষ্ট দুটি পূর্ণাঙ্গ কমিটির প্রস্তাব হাইকমান্ডের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

সাবেক ছাত্রদল ও যুবদলের একাধিক নেতা মনে করছেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটি হলে ত্যাগী ও দীর্ঘদিনের কর্মীদের সাংগঠনিক স্বীকৃতি পাওয়া সহজ হবে। তবে কারা শীর্ষ নেতৃত্বে আসবেন তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। একইসঙ্গে বর্তমান কমিটির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে থাকা নেতাদের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

দলীয় একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রস্তাব আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। কারণ বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব যোগ্য, ত্যাগী এবং তরুণদের অগ্রাধিকার দিয়ে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন পুনর্গঠন করতে চান। এর ফলে ভবিষ্যতে নতুন নেতৃত্বের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুবদলের একাধিক নেতা অভিযোগ করছেন, দীর্ঘ সময় ধরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় সংগঠনের কার্যক্রমে গতি কমে গেছে। এতে সাংগঠনিক দুর্বলতা বাড়ছে এবং ভবিষ্যতে এর নেতিবাচক প্রভাব পুরো বিএনপির ওপর পড়তে পারে। তাই দ্রুত নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠন পুনর্গঠনের দাবি উঠেছে।

এদিকে শীর্ষ পদ নিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন সাবেক নেতা আলোচনায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সহসভাপতি এবং ঢাকা মহানগর পর্যায়ের একাধিক নেতা। আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা, কারাবরণ ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে বিবেচনায় নিয়ে অনেকের নাম সামনে আসছে বলে জানা গেছে।

যুবদলের সাবেক একাধিক নেতা দাবি করেছেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যারা সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে পারবে। তারা মনে করেন, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠনকে পুনরায় সক্রিয় করা সম্ভব।

অন্যদিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, যেসব কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে সেগুলো পর্যায়ক্রমে পুনর্গঠন করা হবে। তিনি বলেন, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে এবং আগামী জাতীয় কাউন্সিলের আগেই সাংগঠনিক পুনর্গঠন সম্পন্ন করা হবে।

সব মিলিয়ে যুবদলের নতুন কমিটি ঘিরে সংগঠনের ভেতরে যেমন আশাবাদ তৈরি হয়েছে, তেমনি অনিশ্চয়তা ও প্রতিযোগিতাও বাড়ছে। পদপ্রত্যাশীদের সক্রিয়তা এবং কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পুরো সংগঠন এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের দিকে তাকিয়ে আছে।