পর্ব–৪
তাজুল বলল,
— একটা সর্বনাশ হয়ে গেছে মিতু।
মিতুর বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল। তাজুলের মুখের দিকে তাকিয়েই বোঝা যাচ্ছিল—কিছু একটা সত্যিই ভয়ংকর ঘটেছে।
মিতু ধীরে বলল,
— কী হয়েছে?
রাতের আর সকালের সবকিছু ভুলে মিতু তাজুলের দিকে স্বাভাবিকভাবে তাকিয়ে রইল। এই মুহূর্তে তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল তাজুলের চোখে ভেসে ওঠা সেই অদ্ভুত আতঙ্ক।
তাজুল যেন ঠিকভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিল না। তার হাত দুটো কাঁপছে।
— আমার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গেছে মিতু… বিশ্বাস করো, আমার কোনো দোষ নেই। আমি কিছু করিনি!
মিতু ভ্রু কুঁচকে বলল,
— ভালো করে বলো কী হয়েছে? তুমি কি রাতের ঘটনা নিয়ে কথা বলতে এসেছ? যদি তাই হয় তাহলে এসব নিয়ে আমরা বাসায় গিয়ে কথা বলতে পারবো।
তাজুল মাথা নাড়ল।
— না! রাতের বিষয় কিছু না।
— তাহলে কী হয়েছে? ভালো করে বলো।
তাজুল একবার চারপাশে তাকাল। যেন কেউ শুনে ফেলবে এমন একটা ভয় কাজ করছে তার মধ্যে।
তারপর ধীরে বলল,
— আমি লাঞ্চ করতে বাসায় গিয়েছিলাম।
মিতু কিছুটা অবাক হলো।
— তারপর?
তাজুলের কণ্ঠ কেঁপে উঠল।
— বাসায় ঢুকে দেখি দরজা খোলা।
— দরজা খোলা?
— হ্যাঁ।
মিতুর মনে হঠাৎ অদ্ভুত একটা অস্বস্তি জন্ম নিল।
— তারপর?
তাজুল কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। যেন কথাগুলো বলতে তার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে।
— আমি ভেবেছিলাম হয়তো কাজের বুয়া এসেছে।
মিতু ধীরে বলল,
— তারপর?
তাজুল গিলল।
— আমি ভেতরে ঢুকে ডাকলাম… আফরিন… আফরিন…”
তার কণ্ঠ আরও ভারী হয়ে গেল।
— কিন্তু কোনো উত্তর পেলাম না।
মিতুর বুকের ভেতরটা ধীরে ধীরে ভারী হয়ে উঠছে।
তাজুল বলল,
— তারপর ড্রইংরুমে ঢুকে দেখি… সবকিছু এলোমেলো।
— এলোমেলো?
— আলমারি খোলা… ড্রয়ার খোলা… মেঝেতে কাগজপত্র ছড়িয়ে আছে।
মিতুর কণ্ঠ শুকিয়ে গেল।
— তারপর?
তাজুল চোখ বন্ধ করল।
— তারপর আমি রুমে রুমে গেলাম।
মিতুর গলা শুকিয়ে আসছিল।
চলবে……….