আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন—এমন একটি তালিকা সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তালিকাটিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতার নাম উল্লেখ করে তাঁদের কথিত অবস্থান হিসেবে ভারত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম ও নেপালের নাম দেওয়া হয়েছে।
তালিকায় প্রথমেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম রয়েছে এবং তাঁর অবস্থান ভারত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ ছাড়ার পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন—এ বিষয়টি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে নিশ্চিত হয়েছে। তবে তাঁর সুনির্দিষ্ট ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বা ভারতে কী মর্যাদায় অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছেও পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছেন।
এ ছাড়া তালিকায় শেখ সেলিম, মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়া, জাহাঙ্গীর কবির নানক, জেবুন্নেছা হক, খায়রুজ্জামান লিটন, ওবায়দুল কাদের, মোহাম্মদ নাছিমসহ বেশ কয়েকজন নেতার নামের পাশে ভারত উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে কয়েকজনের অবস্থান হিসেবে লন্ডন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, বেলজিয়াম, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও নেপালের নাম দেওয়া হয়েছে।
তালিকায় হাসান মাহমুদকে বেলজিয়াম, সাঈদ খোকনকে নিউজিল্যান্ড এবং ইকবাল হোসেন অপুকে নেপালে অবস্থান করছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব দাবির প্রত্যেকটির পক্ষে সাম্প্রতিক ও নির্ভরযোগ্য সূত্র পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তালিকাটিকে যাচাই করা তথ্যের চূড়ান্ত তালিকা হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।
বিশেষ করে তালিকাটিতে কয়েকজন ব্যক্তির নাম পূর্ণাঙ্গভাবে উল্লেখ করা হয়নি; কোথাও ডাকনাম, কোথাও সংক্ষিপ্ত নাম এবং কোথাও শুধু পদবি ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে একই নামে একাধিক ব্যক্তি থাকার কারণে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করাও কঠিন।
এদিকে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে বাংলাদেশের অনুরোধ পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ভারত জানিয়েছে, বিষয়টি বিদ্যমান আইন ও প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিবেচনা করা হচ্ছে।
সুতরাং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তালিকাটি নিয়ে পাঠকদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কারও বিদেশে অবস্থান, রাজনৈতিক আশ্রয়, পালিয়ে থাকা কিংবা প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, তাঁর আইনজীবী, পরিবার, সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষ অথবা নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করা জরুরি। যাচাই ছাড়া কাউকে ‘পলাতক’ হিসেবে চিহ্নিত করা বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
১, শেখ হাসিনা- ভারত ২, শেখ সেলিম -ভারত ৩, মায়া চৌধুরী -ভারত ৪, নানক- ভারত ৫, আ: রহমান- লন্ডন ৬,জেবুন্নেছা হক- ভারত ৭, খায়্রুজ্জামান লিটন - ভারত ৮, ওবায়দুল কাদের- ভারত ৯, হাসান মাহমুদ- বেলজিয়াম ১০, হানিফ - ভারত ১১, নাছিম- ভারত ১২, আশিকুর রহমান- আমেরিকা ১৩, ওয়াসিকা-কানাডা ১৪, উকিল হিরু - ভারত ১৫, সেলিম মাহমুদ - ভারত ১৬, আমিন- আমেরিকা ১৭, বিপ্লব বড়ুয়া- ভারত ১৮, সিরাজুল মস্ত- ভারত ১৯, ইঞ্জি:সবুর- ভারত ২০, জাহানারা - ভারত ২১, ম়ৃণাল- ভারত ২২, সিদ্দিক- আমেরিকা ২৩, অসীম - ভারত ২৪,ড. রোকেয়া- ভারত ২৫, বস্তা স্বপন- লন্ডন ২৬, খালিদ - লন্ডন ২৭, ক্যাশ কামাল- ভারত ২৮, মির্যা আজম -ভারত ৩০, নাদেল - ভারত ৩১, সুজিত রায়- ভারত ৩২, সায়েম খান - লন্ডন ৩৩, হাসানাত- ভারত ৩৪, ঠান্ডু - ভারত ৩৫, বিপুল - ভারত ৩৬, আখতার জাহান- ভারত ৩৭, ডা: মুসফিক - ভারত ৩৮, মেরিনা - ভারত ৩৯, সফুরা - ভারত ৪০, আরাফাত- আমেরিকা ৪১, তারানা - ভারত ৪২, সানজিদা- অস্ট্রেলিয়া ৪৩, ডালিয়া - ভারত ৪৪, আনোয়ার- আমেরিকা ৪৫, চিনু - আমেরিকা ৪৬, গ্লোরিয়া - ভারত ৪৭, রেমনড -ভারত ৪৮, সাঈদ খোকন - নিউজিল্যান্ড ৪৯, ডন- ভারত ৫০, বিডিয়ার শফিক - ভারত ৫১, নির্মল - ভারত ৫২, তারিক সুজাত- আমেরিকা ৫৩, এনামুল শাশীম- আমেরিকা ৫৪, ক্ল্পনা - ভারত ৫৫, শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক ৫৬, ইকবাল হোসেন অপু- নেপাল ৫৭, সাহাবুদ্দীন ফরাজি- নেপাল হাসা মাহমুদ ডেনমার্ক