ঢাকা, বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬,
সময়: ০৬:১২:০০ PM

মাধব চন্দ্রের বিপুল অবৈধ সম্পদের খোঁজ

স্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
19-08-2026 04:48:39 PM
মাধব চন্দ্রের বিপুল অবৈধ সম্পদের খোঁজ

ঢাকা দক্ষিণ বন্ডেড কমিশনারেটের অধীন ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ঢাকা ইপিজেড)-এ কর্মরত রাজস্ব কর্মকর্তা মাধব চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে শুল্ক ফাঁকিতে সহায়তা এবং ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্বল্প সময়ে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

রাজস্ব বোর্ডের ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর নথি পর্যালোচনার দাবি করে অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই নথিতে কৌশলে তার প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ আড়াল করা হয়েছে।

কাগজে-কলমে আয় ও সম্পদ:
আয়কর রিটার্নে মাধব চন্দ্র দাস বার্ষিক মোট আয় দেখিয়েছেন ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৯২৬ টাকা। একই নথিতে তার নিট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৪২ লাখ ৫১ হাজার ৩২১ টাকা।

জমি ও ফ্ল্যাট গোপনের অভিযোগ:
কর নথিতে ভাটারায় ১৭ লাখ ৩৮ হাজার টাকা মূল্যের অকৃষি জমি থাকার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, বাস্তবে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তার ও তার স্ত্রী পুনম রানী মহন্তের নামে ফ্ল্যাট, ভাটারায় মূল্যবান জমি এবং তার নিজ জেলা হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে নামে-বেনামে আরও সম্পদ রয়েছে।

জীবনযাত্রায় অসঙ্গতির অভিযোগ:
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে সীমিত আয়ের তুলনায় মাধব চন্দ্র দাসের জীবনযাপন বেশ বিলাসবহুল। অথচ আয়কর নথিতে তার বার্ষিক পারিবারিক ব্যয় দেখানো হয়েছে মাত্র ৩ লাখ ৪ হাজার টাকা। অভিযোগকারীদের দাবি, ঘোষিত আয় ও ব্যয়ের সঙ্গে তার জীবনযাত্রার দৃশ্যমান অসঙ্গতি রয়েছে।

শুল্ক ফাঁকি ও ঘুষের অভিযোগ:
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা ইপিজেডের বিভিন্ন আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট ও শুল্ক সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মাধব চন্দ্র দাস নিয়মিত অর্থ আদায় করেছেন। এ ছাড়া অতীতে বিভিন্ন কাস্টমস সার্কেলে দায়িত্ব পালনকালে অসাধু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকিতে সহায়তা এবং এর বিনিময়ে অর্থ গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, অসাধু ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিয়ে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ করে দেওয়া এবং ঘুষের মাধ্যমে মাধব চন্দ্র দাস বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। আয়কর নথিতে সম্পদ ও ব্যয়ের তথ্যেও অসঙ্গতি রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

উত্থাপিত অভিযোগ ও স্থাবর সম্পদের অসঙ্গতির বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাজস্ব কর্মকর্তা মাধব চন্দ্র দাসের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সম্পদের প্রকৃত উৎস সম্পর্কে তদন্তের বিষয়টি এখন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তের ওপর নির্ভর করছে।