ঢাকা, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬,
সময়: ০১:৩৭:৩১ AM

বদলি অমান্য করে বহাল হিসাবরক্ষক

স্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
16-08-2026 05:19:53 PM
বদলি অমান্য করে বহাল হিসাবরক্ষক

চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষকের (সিএফ) কার্যালয়ে কর্মরত হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ ইউছুপের বিরুদ্ধে সরকারি বদলি আদেশ অমান্য, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে অবস্থান, বদলি বাণিজ্য, মাসোহারা আদায় ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের এপ্রিলের দিকে চট্টগ্রাম অঞ্চলের তৎকালীন বন সংরক্ষক বিপুল কৃষ্ণ দাসের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে মোহাম্মদ ইউছুপকে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগে বদলি করা হয়। তবে আদেশ জারির পরও তিনি সিএফ কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, পরবর্তীতে ওই বদলি আদেশের নথি এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের দাপ্তরিক ই-মেইলে থাকা আদেশের কপিও সরিয়ে ফেলা হয়। এ কাজে তৎকালীন দক্ষিণ বন বিভাগের ডিএফও আব্দুল্লাহ আল মামুনের সহযোগিতা ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বদলি আদেশ কার্যকর না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদ ইউছুপ একই কার্যালয়ে প্রভাবশালী অবস্থান ধরে রেখেছেন। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম অঞ্চলের অধীন বিভিন্ন বন বিভাগ ও স্থাপনা থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বন কর্মচারীর অভিযোগ, অর্থ না দিলে বদলি, হয়রানি কিংবা কর্মস্থলে নানা ধরনের চাপের মুখে পড়তে হয়।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ডিভিশনের শহর বা সদর রেঞ্জ এবং চেকস্টেশন থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের মাসোহারা নেওয়া হয়। এছাড়া বান্দরবান, পাল্পউড প্ল্যান্টেশন ও লামা বন বিভাগের জোত পারমিটের ক্ষেত্রেও ঘনফুটপ্রতি অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ্যে না আসায় বিষয়গুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

আরও অভিযোগ রয়েছে, পছন্দের বা ‘প্রাইজ পোস্টিং’ পেতে এবং নির্ধারিত কর্মকাল কমানো-বাড়ানোর সুবিধা পেতে ইউছুপের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন করা হয়। অভিযোগকারীরা বলছেন, এর ফলে একদিকে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী দীর্ঘদিন সুবিধাজনক পদে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন, অন্যদিকে দুর্গম বা প্রতিকূল এলাকায় কর্মরত অনেকে বছরের পর বছর একই কর্মস্থলে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।

বর্তমান চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো-এর সময়েও এসব অনিয়ম অব্যাহত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে মোহাম্মদ ইউছুপের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি।

অভিযোগকারীদের দাবি, বিষয়টি শুধু বদলি আদেশ বাস্তবায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে গত এক যুগে তার বিরুদ্ধে ওঠা অর্থনৈতিক অনিয়ম, সম্পদ অর্জন ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ তদন্ত করা প্রয়োজন। তারা বন অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযোগ সত্য হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, বদলি আদেশ, ই-মেইল রেকর্ড, আর্থিক লেনদেনের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি। অভিযুক্তদের বক্তব্য ও তদন্তের ফলাফলই নির্ধারণ করবে অভিযোগগুলোর বাস্তব ভিত্তি কতটা।