মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
সশ্রদ্ধ নিবেদন এই যে, আমি গভীর বেদনা ও ক্ষোভ নিয়ে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি ভোলা জেলার এক মর্মান্তিক ঘটনার বিষয়ে, যা আজও আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়।
ফ্যাসিস্ট তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসনামলে ভোলা জেলা বিএনপির একটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। সেই ঘটনায় ভোলা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শহীদ নূরে আলম এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা শহীদ আবদুর রহিম নির্মমভাবে নিহত হন। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন ভোলা থানার ওসি (তদন্ত) আরমান হোসেন খুব কাছ থেকে গুলি করে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেন।
অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, সম্প্রতি জানা গেছে যে, অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তা বর্তমানে পদোন্নতি পেয়ে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি, যিনি সরাসরি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে, তিনি শাস্তি না পেয়ে বরং পুরস্কৃত হচ্ছেন—এটি আমাদের জন্য গভীর উদ্বেগ ও হতাশার বিষয়।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
যেখানে আমাদের সহযোদ্ধারা রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে, সেখানে খুনিদের প্রমোশন পাওয়া ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। এটি শুধু শহীদদের প্রতি অবিচার নয়, বরং রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।
অতএব, আপনার নিকট বিনীত অনুরোধ—
১. উক্ত কর্মকর্তা আরমান হোসেনকে অবিলম্বে বর্তমান পদ থেকে প্রত্যাহার করা হোক।
২. ভোলা জেলার সেই ঘটনার ওপর একটি নিরপেক্ষ বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক।
৩. দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
এটি আমাদের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের প্রাণের দাবি এবং শহীদদের আত্মার প্রতি ন্যূনতম সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান।
আপনার ন্যায়বিচার ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।
ধন্যবাদান্তে,
বিনীত
আক্তার জাহান
ভোলা