ঢাকা, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬,
সময়: ০৮:৪০:২৪ PM

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে নতুন দিগন্ত

মান্নান মারুফ
18-04-2026 05:27:31 PM
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে নতুন দিগন্ত

ঢাকা, ১৮ এপ্রিল: গণতান্ত্রিক ধারার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রব্যবস্থায় জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে গত দুই মাসে একাধিক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর নেতৃত্বাধীন সরকার। দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র ৬০ দিনের মধ্যে সরকারের গৃহীত ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ইতোমধ্যে দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দীর্ঘ দেড় দশকের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনমুখী নীতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে প্রতিদিন ১৬ ঘণ্টার বেশি সময় কাজ করে যাচ্ছেন এবং তার নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা ও প্রশাসনের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সম্মিলিতভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সামাজিক সুরক্ষা ও মানবিক উদ্যোগ

সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা সহায়তা প্রদান শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে তারা ১০ ধরনের সুবিধা পাচ্ছেন। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।

ধর্মীয় সম্প্রীতি জোরদারে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের জন্য মাসিক সম্মানী চালু করা হয়েছে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য বিশেষ সহকারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচনে জাকাত ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা

সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হয়েছে।

শিল্পখাতে গতি আনতে বন্ধ চিনিকল, পাটকল ও রেশম কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাই-টেক পার্ক ও ইপিজেডে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক শিল্প ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।

কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ

সরকারি খাতে ৪ লাখ ৬৮ হাজার শূন্যপদ পূরণের জন্য তিন ধাপের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু করা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে শ্রমচুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার

শিক্ষাখাতে প্রতিবছরের পুনঃভর্তি ফি বাতিল করা হয়েছে এবং শিক্ষাবৃত্তি দ্বিগুণ করা হয়েছে। বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যখাতে ১ লাখ নতুন কর্মী নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যার ৮০ শতাংশই নারী। ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার অংশ হিসেবে ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালু করা হচ্ছে এবং হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

অবকাঠামো ও প্রযুক্তি উন্নয়ন

নদী ও জলাশয় রক্ষায় ২০ হাজার কিলোমিটার খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প’ গ্রহণের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের মরুকরণ রোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ঢাকায় পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস এবং নারীদের জন্য বিশেষ ‘পিংক বাস’ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বিমানবন্দর ও ট্রেনে ফ্রি ইন্টারনেট সেবা চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রশাসনিক সংস্কার ও সুশাসন

সরকার প্রশাসনিক খাতে উল্লেখযোগ্য সংস্কার এনেছে। ভিভিআইপি প্রটোকল সীমিত করা হয়েছে এবং ট্রাফিক জট কমাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের জন্য শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট সুবিধা বাতিল করা হয়েছে—যা একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ডিজিটাল ভূমি সেবা চালু করে ই-নামজারি ও অনলাইন কর পরিশোধ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

পরিবেশ ও জলবায়ু উদ্যোগ

পরিবেশ সুরক্ষায় ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, যেখানে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃতি

সরকারের এই কার্যক্রম আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসা অর্জন করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর নেতৃত্ব ইতোমধ্যে বৈশ্বিক স্বীকৃতি পেয়েছে এবং তিনি বিশ্বখ্যাত ‘টাইম’ সাময়িকীর প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় স্থান অর্জন করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।

মাহদী আমিন বলেন, “জনগণ দীর্ঘদিন রাষ্ট্রব্যবস্থার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছিল। বর্তমান সরকার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কার্যকর নেতৃত্বের মাধ্যমে সেই বিশ্বাস পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।”

সরকারের এই ৬০টি পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়েছে এবং জনগণ কতটা উপকৃত হয়েছে, তার চূড়ান্ত মূল্যায়ন সময়ই করবে। তবে অল্প সময়ের মধ্যে এত ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ নিঃসন্দেহে একটি সক্রিয় ও কর্মমুখী প্রশাসনের ইঙ্গিত বহন করে।