সরবরাহ বাড়ানোর নির্দেশনা থাকলেও রাজধানীর তেলের পাম্পগুলোতে চিত্র বদলায়নি। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের জন্য যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চাহিদামতো তেল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চালক ও সাধারণ গ্রাহকরা। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে সরকার ডিজেল, অকটেন, পেট্রল ও কেরোসিনের দাম এক লাফে লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়।কর্মকর্তারা বলছেন, দমকলের ২০টিরও বেশি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আগুন যাতে অন্যান্য এলাকায় ছড়িয়ে না পড়ে সেই প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এছাড়াও পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানের জন্য কারিগরি দল ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ঘটনাস্থলে রয়েছে।দাম বাড়ার পরও পাম্পগুলোতে তেলের সরবরাহ ঠিক না হওয়াতে তেলের লাইন আগের মতোই দীর্ঘ দেখা যায়।
পরে এই পরিস্থিতি সামাল দিতে গত রোববার (১৯ এপ্রিল) রাতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) তেল সরবরাহকারী তিন কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনাকে সরবরাহ বাড়ানোর নির্দেশ দেয়।
নির্দেশনা অনুযায়ী, সোমবার থেকে অকটেনের সরবরাহ ২০ শতাংশ এবং পেট্রল ও ডিজেলের সরবরাহ ১০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
তবে সরকারি এই নির্দেশনার প্রভাব মাঠ পর্যায়ে এখনো দৃশ্যমান নয়।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর বনশ্রী ফিলিং স্টেশন লিমিটেড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রধান সড়ক ছাড়িয়ে তেলের জন্য অপেক্ষমাণ যানবাহনের লাইন গলি পর্যন্ত পৌঁছেছে।
সেখানে অপেক্ষারত মোটরসাইকেলচালক আরমান হোসেন বলেন, শুনলাম সরবরাহ বেড়েছে, কিন্তু এখানে এসে দেখি সেই আগের মতোই লাইন। এক ঘণ্টার বেশি দাঁড়িয়ে আছি, এখনো পাম্পের কাছে পৌঁছাতে পারিনি।
একই চিত্র দেখা গেছে হাজীপাড়া সিএনজি ফিলিং স্টেশনেও। সেখানে ডিজেলের জন্য ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের দীর্ঘ জটলা তৈরি হয়েছে। চালকদের অভিযোগ, সরবরাহ বাড়ার কথা বলা হলেও পাম্প কর্তৃপক্ষ ‘লিমিট’ করে তেল দিচ্ছে।
রামপুরা থেকে আসা প্রাইভেটকারচালক মোবারক বলেন, তেল নাকি পর্যাপ্ত আছে, কিন্তু আমাদের বলা হচ্ছে ১০০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া যাবে না। সরবরাহ বাড়লে আমাদের এই ভোগান্তি কেন?
এদিকে রাজারবাগ সার্ভিস স্টেশন পেট্রল পাম্পেও গ্রাহকদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ লাইনের কারণে ওই এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। গরমে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে।
পাম্প কর্তৃপক্ষের দাবি, সরবরাহ বাড়লেও চাহিদা আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। দাম বাড়ার পর মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করছে, যার ফলে সবাই ট্যাংক পূর্ণ করে রাখতে চাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, নতুন দর অনুযায়ী প্রতিলিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রল ১৩৫ টাকা ও কেরোসিন ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও কয়েকদিন সময় লাগতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।