ঢাকা, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬,
সময়: ১০:৫৭:০১ PM

ঢাবিতে তারেক রহমান:সহপাঠী ও ক্যাম্পাসজীবন

মান্নান মারুফ
23-05-2026 06:35:41 PM
ঢাবিতে তারেক রহমান:সহপাঠী ও ক্যাম্পাসজীবন

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর উপস্থিতিকে ঘিরে শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। এ সময় “ক্যাম্পাসের বড় ভাই, ক্যাম্পাসে স্বাগতম” স্লোগান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এর পর থেকেই নানা মহলে কৌতূহল তৈরি হয়—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তারেক রহমান কোন বিভাগে পড়তেন এবং তার সহপাঠীরা কারা ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, তারেক রহমান ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর আইন বিভাগে ভর্তি হন। তবে সেখানে মাত্র দুই মাস ক্লাস করার পর তিনি বিভাগ পরিবর্তন করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনের সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন।

জানা গেছে, আইন বিভাগ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ—দুই বিভাগ মিলিয়ে তারেক রহমানের সহপাঠীর সংখ্যা ছিল ১২২ জন। এর মধ্যে আইন বিভাগে ছিলেন ৭৭ জন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ছিলেন ৪৫ জন। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী কেবল যারা একাডেমিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে সনদ গ্রহণ করেন, মূলত তাদের তথ্যই আনুষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষিত থাকে।

আইন বিভাগে তারেক রহমানের সহপাঠীদের তালিকায় দেশের বর্তমান ও সাবেক গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন ব্যক্তিত্বের নাম পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, পরিবেশ ও মানবাধিকারকর্মী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং আপিল বিভাগের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব। এছাড়াও আরও অনেকে পরবর্তীকালে বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

তারেক রহমানের সহপাঠীদের তালিকা প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের পুরোনো স্মৃতি ও সে সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। বিশেষ করে ১৯৮০-এর দশকের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সামরিক শাসনের প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের শিক্ষাজীবন নতুন করে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে আসে।

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী থাকাকালে তারেক রহমানের সিনিয়র ছিলেন আসিফ নজরুল। তিনি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে উল্লেখ করেন, তারেক রহমানের সহপাঠীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন পরবর্তীকালে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি লাভ করেছেন। তিনি আরও লেখেন, সে সময় দেশে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ-এর সামরিক শাসন চলছিল এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ।

আসিফ নজরুলের ভাষ্যমতে, তৎকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিরাপত্তাজনিত কারণে তারেক রহমানের বিশ্ববিদ্যালয়জীবন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। সে সময় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে এরশাদ সরকারের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা অভিযোগ ও আলোচনা ছিল। এর প্রভাব তারেক রহমানের ব্যক্তিগত ও শিক্ষাজীবনেও পড়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তির পরও তারেক রহমানের সহপাঠীদের মধ্যে বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের নাম পাওয়া যায়। বিভাগটির ৪৫ জন শিক্ষার্থীর তালিকায় বিভিন্ন সামাজিক, প্রশাসনিক ও পেশাজীবী মহলে পরিচিত অনেকেই ছিলেন। যদিও তাদের অধিকাংশই বর্তমানে জনসমক্ষে খুব বেশি পরিচিত নন, তবুও বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই সময়কার শিক্ষার্থীদের কাছে বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের মতে, আশির দশকের ক্যাম্পাস ছিল রাজনৈতিক আন্দোলন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং মতাদর্শিক সংঘাতের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়। সে সময় ছাত্ররাজনীতি ছিল অত্যন্ত সক্রিয় এবং জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। ফলে রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হিসেবে তারেক রহমানকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ছিল স্বাভাবিক।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ সময় পর তারেক রহমানের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আগমন অনেক পুরোনো স্মৃতিকে সামনে নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে তার শিক্ষাজীবন, বিভাগ পরিবর্তন এবং সহপাঠীদের পরিচয় নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে এটিকে “ক্যাম্পাস ইতিহাসের পুনরাবিষ্কার” বলেও উল্লেখ করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিশ্ববিদ্যালয়জীবন নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ সবসময়ই থাকে। কারণ শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতা, সহপাঠী এবং তৎকালীন সামাজিক-রাজনৈতিক পরিবেশ একজন নেতার ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক চিন্তাধারার ওপর প্রভাব ফেলে। সেই দিক থেকে তারেক রহমানের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-সংক্রান্ত এই তথ্যগুলোও রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।

সব মিলিয়ে, দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানের বিশ্ববিদ্যালয়জীবন নিয়ে প্রকাশিত তথ্য ও সহপাঠীদের তালিকা জনমনে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের সঙ্গে একই ব্যাচে তার অধ্যয়ন এবং পরবর্তীকালে বিভাগ পরিবর্তনের বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

আইন বিভাগের সহপাঠী ৭৭ জন: ১. শিরীন শারমিন চৌধুরী ২. ফারাহ মাহবুব ৩. সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ৪. তাহমিনা আহমেদ ৫. মালেকা বাহার শামসী ৬. আজিজ আহমদ ৭. শামিমা আওশর রহমান ৮. মুবিনা আসাফ ৯. ফাহমিদা মারিয়াম ১০. জাহান আরা রহমান ১১. সানাইয়া ফাহীম আনসারী ১২. এহসানুল হাবীব ১৩. মুফাসসিল মুহাম্মদ মাজহার ১৪. আহমেদ ফয়সাল ১৫. শেখ আবু তাহের ১৬. মাহবুবা নাসরীন ১৭. পল্ট‍ু কুমার সিকদার ১৮. স্মৃতি কর্মকার ১৯. মো. শফিকুর রহমান ২০. মো. ইমাম হোসেন ২১. সাবেরা সোবহান ২২. সুফিয়া খাতুন ২৩. আব্দুন নাসের খান ২৪. মো. রফিকুল ইসলাম ২৫. জামিলা খাতুন ২৬. মো. মাহবুব-উল-আলম ২৭. মো. হেলাল উদ্দিন ২৮. কনিকা নারী সরকার ২৯. সুলতানা লিজা ৩০. সানিয়া সুলতানা ৩১. নাসরীন ফেরদৌস ৩২. অপূর্ব কুমার কর ৩৩. জাকিয়া পারভিন ৩৪. জওহর লাল দাশ ৩৫. মাহফুজা আহমেদ ৩৬. শফিকুল কবীর খান ৩৭. নারায়ন চন্দ্র মন্ডল ৩৮. সৌরেন্দ্র নাথ মন্ডল ৩৯. মো. মফিজুর রহমান ভূঞা ৪০. সায়কা তুহীন ৪১. ভীষ্মদেব চক্রবর্ত্তী ৪২. গোলক চন্দ্র বিশ্বাস ৪৩. পারভীন আফরোজ ৪৪. মনজুর মোরশেদ ৪৫. নরেশ চন্দ্র সরকার ৪৬. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ ৪৭. লিয়াকত আলী মোল্লা ৪৮. শেখ মফিজুর রহমান ৪৯. আ ন ম আনিসুর রহমান পাটোয়ারী ৫০. মো. ইকবাল কবির ৫১. মো. কায়সার আহমেদ ৫২. ফারিহা হুদা ৫৩. মো. জাহাঙ্গীর আলম ৫৪. মো. রেজা আলী ৫৫. আবু বকর সিদ্দিক ৫৬. গগাঙ্ক শেখর সরকার ৫৭. আসমা জাহান ৫৮. নাহিদা সুলতানা ৫৯. মো. হাবিবুল্লাহ শিকদার ৬০. সাহানা কাদের চৌধুরী ৬১. শাহনাজ বেগম ৬২. মো. আব্দুস সামাদ আজাদ ৬৩. সুফিয়া খাতুন ৬৪. মো. হুমায়ুন কবির ৬৫. মো. জাকির হোসেন ৬৬. মো. আব্দুল মান্নান ৬৭. মো. হুমায়ুন কবির ৬৮. মো. দেলোয়ার হোসেন ৬৯. মো. আাবু সাঈদ ৭০. মো. তৈয়ব আনোয়ার ৭১. নাজির আহম্মেদ ৭২. কাজী মিজানুর রহমান ৭৩. এ,টি,এম, এমরুল আহমেদ ৭৪. মো. ওসমান গনি ভূঁঞা ৭৫. মো. আজমীর ফকির ৭৬. মো. নুরুল ইসলাম ৭৭. মো. মোস্তাফিজুর রহমান। ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৪২ জন: ১. মো. এনায়েত মাওলা ২. মুহা. রুহুল আমীন ৩. মো. জসীম উদ্দিন ৪. সৈয়দ মাহমুদ আক্তার ৫. দেলোয়ার হুসেন ৬. স্বপ্না জুলিয়েট কেরোলীনা ৭. মো. ফুয়াদ রেজা ৮. পলিন মেরী কুইয়া ৯. ফজলে ইলাহি মাহমুদ ১০. মো. রুহুল আমিন ১১. তাহসীন মাহবুব ১২. মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী ১৩. শাহীন আক্তার ১৪. ফারহানা আমীন ১৫. শারমিন নছিমা বানু ১৬. এস.এম. মাহমুদ হাসান ১৭. স্নিগ্ধা চক্রবর্ত্তী ১৮. ফৌজিয়া আহমেদ ১৯. জি. এম. আবুল কালাম ২০. কানিজ সাইয়েদা হায়দার ২১. বি.এম. বেনজীর আহমেদ ২২. গোলাম ফারুক ২৩. মো. সামছুদ্দোহা ২৪. কাজী জাহিদ হোসেন ২৫. ফারহানা জাহান ২৬. রহিমা হক ২৭. জিনাত আরা চৌধুরী ২৮. মো. বদিউজ্জামান ২৯. গোলাম মোহাম্মদ ৩০. মো. এবাদুর রহমান ৩১. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন ৩২. ফারহানা ৩৩. মো. আলমগীর হোসেন ৩৪. আফরোজা আক্তার ৩৫. সাহিদা শিকদার ৩৬. মো. মাজহারুল হক ৩৭. শায়লা পারভীন ৩৮. উম্মে সালমা ৩৯. রাহী রহমান ৪০. আসমা ভূঁইয়া ৪১. দিলরোজ বেগম ৪২. মো. রেফাতুল ইসলাম ৪৩. এলিজাবেথ ডি. কস্তা ৪৪. মো. বদরুল ইসলাম ৪৫. মো. শামসুদ্দীন হোসেন