ঢাকা-১১ আসনকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে ‘ভূমিদস্যুতা’ অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগকে ‘গুজব’ ও পরিকল্পিত অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ধারাবাহিকতায় তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য একটি মহল সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তিনি জানান, ২০০৩ সালে তৎকালীন মেয়র সাদেক হোসেন খোকা, মেজর কামরুলসহ কয়েকজনের উদ্যোগে রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার অনুমোদন নিয়ে একটি হাউজিং কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি সে সময়ের সরকার, অর্থাৎ বিএনপির আমলে গঠিত হলেও পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অনেক উদ্যোক্তাকেই প্রতিষ্ঠান থেকে সরে যেতে হয়।
তার দাবি, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিরোধী রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তিনি স্বাভাবিকভাবে কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেননি। ২০১৪ সালে তাকে দ্বিতীয়বার গুমের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এরপর দীর্ঘ সময় তাকে দেশের বাইরে অবস্থান করতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে ‘ভূমিদস্যুতা’র মতো অভিযোগকে তিনি অযৌক্তিক বলে মনে করেন।
২০২৪ সালে দেশে ফিরে তিনি পুনরায় নিজস্ব ব্যবসা ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে সক্রিয় হন। তবে ২০২৫ সালের শেষ দিকে তার বিরুদ্ধে নতুন করে ‘ভূমিদস্যু’ তকমা ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তার রিয়েল এস্টেট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই অভিযোগ প্রচার করছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত কয়েক মাস ধরে তার নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১১–এর বিভিন্ন স্থানে ২০-৩০ জনের ছোট ছোট দল নিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এসব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তার দাবি, ‘ভূমি মালিক সমিতি’ নামে যে ব্যানারে কর্মসূচি হচ্ছে, এমন কোনো সংগঠনের বাস্তব অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া অনেকেই সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা নন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
মানববন্ধনে তার বিরুদ্ধে একই ধরনের বক্তব্য বারবার উপস্থাপন করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। এর পেছনে একটি নির্দিষ্ট সূত্র থেকে পরিচালিত চিত্রনাট্য রয়েছে বলে তার অভিযোগ। পাশাপাশি, তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কারের দাবি জানানো হচ্ছে, যা তিনি ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেন।
তার ভাষ্যমতে, দীর্ঘ ১৭ বছর বিরোধী রাজনৈতিক অবস্থানে থেকেও তিনি দলের নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন এবং একাধিক মামলার বোঝা বহন করেছেন। এমনকি একপর্যায়ে বিদেশে, বিশেষ করে মালয়েশিয়ার একটি শরণার্থী ক্যাম্পে জীবনযাপনের কঠিন অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। সে সময় তার পাসপোর্ট বাতিল করে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন।
এছাড়া তিনি দাবি করেন, তার নির্বাচনী এলাকায় ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে জয়ী করা হয়েছে, যার নিজস্ব কোনো শক্তিশালী জনসমর্থন ছিল না। তার মতে, এই ধরনের রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে একটি পক্ষ নিজেদের অবস্থান নিয়ে অনিরাপত্তায় ভুগছে এবং সেই থেকেই পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করছে।
সাম্প্রতিক একটি ঘটনায় ফিরোজ নামের একজনকে জড়িয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে তিনি এটিকে ‘নাটক’ আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, প্রমাণসহ ইতোমধ্যে বিষয়টি খণ্ডন করা হয়েছে।
সবশেষে তিনি বলেন, তার হাউজিং প্রকল্প অবস্থিত সাঁতারকুল এলাকায় তিনি প্রতিটি কেন্দ্রে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন। স্থানীয় জনগণের সমর্থন তার প্রতি রয়েছে বলেই তিনি মনে করেন। তার মতে, এই বাস্তবতা এবং মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট অসঙ্গতি রয়েছে।ঢাকা-১১–এ ‘ভূমিদস্যুতা’ অভিযোগকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতি মূলত রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের প্রতিফলন বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের এই ধারাবাহিকতা শেষ পর্যন্ত কী প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে নিরপেক্ষ তদন্ত ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সত্য উদঘাটনের ওপর।