ঢাকা, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬,
সময়: ০৩:৪৫:১১ PM

দায়িত্বই বড়—পদ নয়: উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় মির্জা আব্বাস

মান্নান মারুফ
08-03-2026 05:39:32 PM
দায়িত্বই বড়—পদ নয়: উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় মির্জা আব্বাস

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দৃঢ় নেতৃত্বের জন্য পরিচিত বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতা Mirza Abbas। দল ও দেশের প্রয়োজনে তিনি বরাবরই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছেন। মন্ত্রীত্ব না পেয়েও তিনি থেমে থাকেননি; বরং সরকারের দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তিনি মাঠে নেমেছেন নতুন উদ্যমে। দায়িত্বের প্রতি তার এই নিষ্ঠা ও কর্মস্পৃহা ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক অঙ্গন এবং সাধারণ মানুষের মাঝে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই অভিজ্ঞ নেতা সম্প্রতি দেশব্যাপী নদী, নালা ও খাল খনন এবং পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। পরিবেশ রক্ষা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই কর্মসূচিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তিনি।

জানা গেছে, এই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট সেলের সদস্যদের নিয়ে একাধিক বৈঠক করেছেন মির্জা আব্বাস। এসব বৈঠকে তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জলাবদ্ধতা, নদী-নালা ভরাট হয়ে যাওয়া এবং খাল দখলের সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।

মির্জা আব্বাস মনে করেন, বাংলাদেশের পরিবেশ ও কৃষি ব্যবস্থাকে টেকসই রাখতে হলে নদী ও খাল পুনরুদ্ধার অত্যন্ত জরুরি। তার মতে, “নদী-নালা খালগুলো শুধু পানি প্রবাহের মাধ্যম নয়; এগুলো দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ এবং মানুষের জীবিকার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।” তাই এই খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং এটি দেশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থাকা এই নেতা সবসময়ই মনে করেন—পদ নয়, কাজই মানুষের প্রকৃত পরিচয় তৈরি করে। মন্ত্রী না হয়েও দায়িত্ব পালন করা যায়—এমন বাস্তব উদাহরণ তিনি নিজেই তৈরি করছেন। তার ভাষায়, “দায়িত্ব কখনো ছোট বা বড় হয় না। দায়িত্ব মানেই দায়িত্ব। সেটি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে পারলে মানুষ ও সমাজের কাছে সম্মান পাওয়া যায়।”

এই মনোভাবই তাকে অন্য অনেক নেতার থেকে আলাদা করে তুলেছে বলে মনে করছেন তার ঘনিষ্ঠরা। দলের নেতাকর্মীদের প্রতি তার আন্তরিকতা এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ কর্মীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

রাজধানী ঢাকা এবং আশপাশের এলাকায় মির্জা আব্বাসের হাজার হাজার সমর্থক রয়েছেন। শুরুতে তাকে মন্ত্রী করা না হলে অনেক কর্মী-সমর্থকের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছিল। বিশেষ করে তার নির্বাচনী এলাকার নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা বিরূপ প্রতিক্রিয়াও লক্ষ্য করা গিয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই হতাশা অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছেন তারা।

কারণ মির্জা আব্বাস নিজেই কর্মীদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন যে রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণের সেবা করা। পদ থাকুক বা না থাকুক—জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাওয়াই একজন প্রকৃত নেতার দায়িত্ব। তার এই অবস্থান নেতাকর্মীদেরও নতুন করে অনুপ্রাণিত করেছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, মির্জা আব্বাস নিয়মিতভাবে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং তাদের সংগঠিত রাখার চেষ্টা করছেন। তিনি মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সমস্যার কথা শোনেন এবং সমাধানের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। এই কারণে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যেও তার জনপ্রিয়তা বেশ শক্তিশালী।

তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই মির্জা আব্বাস সংগঠনের প্রতি আন্তরিক এবং কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে পরিচিত। কঠিন রাজনৈতিক সময়েও তিনি দল এবং কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ফলে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তিনি কর্মীদের আস্থা অর্জন করতে পেরেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করেন, পদ না থাকলেও দায়িত্ববোধ এবং কর্মতৎপরতার মাধ্যমে একজন নেতা তার প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখতে পারেন। মির্জা আব্বাস সেই উদাহরণগুলোর একটি। উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তার এই সক্রিয়তা দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

বিশেষ করে নদী-নালা ও খাল পুনঃখনন কর্মসূচির মতো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা দেশের পরিবেশ ও কৃষি ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে নগরাঞ্চলের জলাবদ্ধতা কমাতেও এটি সহায়ক হবে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, দায়িত্বের প্রতি নিষ্ঠা, সংগঠনের প্রতি ভালোবাসা এবং উন্নয়নমূলক চিন্তার কারণে মির্জা আব্বাস আবারও প্রমাণ করছেন—রাজনীতিতে সত্যিকার নেতৃত্বের পরিচয় আসে কাজের মাধ্যমে, পদবির মাধ্যমে নয়।

দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে তিনি তাই শুধু একজন নেতা নন; বরং অনুপ্রেরণার উৎস। আর জনগণের কাছে তিনি এমন একজন রাজনীতিবিদ, যিনি দায়িত্বকে গুরুত্ব দেন, কাজকে অগ্রাধিকার দেন এবং দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকেন।