ঢাকা, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সময়: ০৫:০৩:৪৫ AM

তথ্যমন্ত্রনালয়কে জনবান্ধব করার উদ্দ্যেগ

মান্নান মারুফ
09-09-2026 10:36:25 PM
তথ্যমন্ত্রনালয়কে জনবান্ধব করার উদ্দ্যেগ

দেশের তথ্য ও গণমাধ্যম খাতকে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব করে গড়ে তুলতে কাজ করছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা যুগোপযোগী করা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের জন্য কার্যকর কাঠামো তৈরি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত এবং মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর আধুনিকায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তথ্য মন্ত্রণালয় একটি আধুনিক ও গণমাধ্যমবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী শুরু থেকেই মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমকে সময়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের তথ্য ও গণমাধ্যম খাতের বিদ্যমান সমস্যা, সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের পরিবর্তন নিয়ে তিনি নিয়মিত কাজ করছেন। বিশ্বের অন্যান্য দেশ প্রযুক্তি ও গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনায় যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশও কেন একইভাবে এগিয়ে যেতে পারবে না—এমন চিন্তাভাবনা থেকেই তিনি আধুনিকায়নের বিভিন্ন উদ্যোগকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে  তথ্যমন্ত্রী হিসাবে আন্ধালিব রহমানের যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে। সংশ্লিষ্টদের আশা, দুই মন্ত্রীর সমন্বিত উদ্যোগ, আলোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক তথ্যব্যবস্থা এবং সাংবাদিক সমাজকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশা রয়েছে গণমাধ্যমসংশ্লিষ্টদের মধ্যে।

ডিজিটাল যুগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে বিদ্যমান আইন, বিধি ও নীতিমালা পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সাইবার প্রাঙ্গণের দ্রুত বিস্তারের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার কাঠামো তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক আধুনিকায়নও এ উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইন্টারনেট, ক্লাউড প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল সম্প্রচারের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বাংলাদেশ বেতার এবং জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের অবকাঠামো ও কার্যপদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর লক্ষ্য হলো আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে এসব প্রতিষ্ঠানকে আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী করে তোলা।

গণমাধ্যমের ওপর অতীতের নিয়ন্ত্রণমূলক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে অবাধ তথ্যপ্রবাহ, স্বাধীন সাংবাদিকতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করতে সরকার ও গণমাধ্যমের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ছাড়া তথ্যসেবাকে আরও জনবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্যে আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে নাগরিকদের কাছে দ্রুত ও সহজে তথ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি তথ্য ও গণমাধ্যম খাতের বিভিন্ন কার্যক্রমকে একটি আধুনিক কাঠামোর মধ্যে আনার সুযোগ তৈরি হবে।

সাংবাদিক সমাজের প্রত্যাশা, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও সমন্বিত উদ্যোগে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় শুধু একটি আধুনিক প্রতিষ্ঠান হিসেবেই গড়ে উঠবে না, বরং এটি সাংবাদিকদের স্বাধীনতা, পেশাগত মর্যাদা এবং অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের গণমাধ্যম খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পথ আরও সুগম হবে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের স্বার্থ রক্ষা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করব। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের গণমাধ্যম খাতকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক মানের গণমাধ্যমব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় নীতিমালা, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।