ঢাকা, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সময়: ১০:১৪:২৯ AM

আব্বাস ফিরতেই ঢাকায় রাজনৈতিক বসন্ত

মান্নান মারুফ
01-09-2026 03:42:50 PM
আব্বাস ফিরতেই ঢাকায় রাজনৈতিক বসন্ত

সুন্দর মুখ, সহজ-সরল হাসি, আর পুরোনো ঢঙে কর্মীদের সঙ্গে প্রাণ খুলে কথা বলা—এই মানুষটির নাম মির্জা আব্বাস। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে তাঁর দেশে ফেরাকে ঘিরে রাজধানী ঢাকার বিএনপির রাজনীতিতে যেন নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। এতদিন যে রাজনৈতিক আড্ডাগুলো অনেকটা চায়ের কাপের ধোঁয়ার মতো নিস্তেজ হয়ে ছিল, সেখানেই এখন আবার কথার ঝড়। কোথাও মিছিলের প্রস্তুতি, কোথাও ফুলের তোড়া, আবার কোথাও চায়ের দোকানে চলছে ‘আব্বাস ফিরেছেন’ শিরোনামে অনানুষ্ঠানিক গোলটেবিল বৈঠক!

দীর্ঘদিন চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে থাকার পর মির্জা আব্বাসের দেশে ফেরাকে নেতা-কর্মীরা দেখছেন নতুন উদ্যম, নতুন চেতনা ও নতুন রাজনৈতিক ছন্দের সূচনা হিসেবে। তাঁর আগমনে ঢাকার রাজনীতিতে যেন নতুন সূর্যের উদয় হয়েছে—অন্তত তাঁর সমর্থকদের চোখে সেই সূর্যের আলো বেশ উজ্জ্বল।

নেতার দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর প্রত্যাবর্তনের মুহূর্তে নেতা-কর্মীদের আবেগের চিত্রও ছিল দেখার মতো। কেউ চোখের পানি মুছেছেন, কেউ আবেগ ধরে রাখতে না পেরে কেঁদেছেন, আবার কেউ প্রিয় নেতাকে সামনে পেয়ে এমনভাবে জড়িয়ে ধরেছেন, যেন বহুদিন পর হারানো আপনজনকে ফিরে পেয়েছেন। কারও মুখে হাসি, কারও চোখে জল—সব মিলিয়ে আবেগের এমন মিশ্রণ যে, ঢাকার রাজনৈতিক আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিতে গেলে আবহাওয়া অধিদপ্তরকেও হয়তো নতুন কোনো ‘আবেগ সূচক’ চালু করতে হবে!

খিলগাঁও থেকে সবুজবাগ, পল্টন থেকে বনশ্রী, শান্তিনগর থেকে গুলিস্তান, শাহবাগ থেকে এলিফ্যান্ট রোড, মগবাজার, মালিবাগ, বাড্ডা, মৌচাক, রামপুরা—রাজধানীর অলিগলি, পাড়া-মহল্লা ও চায়ের দোকানে মির্জা আব্বাসকে নিয়েই আলোচনা। কোথাও তাঁকে নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, কোথাও তাঁর সুস্থতা নিয়ে স্বস্তি, আবার কোথাও চলছে ভবিষ্যৎ রাজনীতির হিসাব-নিকাশ। চায়ের দোকানের আড্ডায় এমন পরিস্থিতি—চা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু এ আলোচনা শেষ হচ্ছে না!

রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—বস্তির বাসিন্দা, রিকশাচালক, দোকানি কিংবা গলির চায়ের দোকানের নিয়মিত আড্ডাবাজ—অনেকের আলোচনায়ই এখন মির্জা আব্বাস। কেউ বলছেন, ‘নেতা ফিরেছেন, এবার রাজনীতিতে গতি আসবে।’ কেউ আবার একটু রসিকতা করে বলছেন, ‘ঢাকার রাজনৈতিক ব্যাটারিতে আবার চার্জ লাগানো হয়েছে!’

দীর্ঘ অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে দেশে ফেরায় তাঁর পরিবার, আত্মীয়স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং নেতা-কর্মীদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরেছে। প্রিয় মানুষটি সুস্থ হয়ে নিজের মানুষের কাছে ফিরে এসেছেন—এ আনন্দের সঙ্গে রাজনৈতিক আবেগও যুক্ত হয়েছে।

মির্জা আব্বাসের প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা অনেকটা রাজনৈতিক মহামিলনের আবহ তৈরি করেছে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর নেতাকে কাছে পেয়ে কর্মীদের উচ্ছ্বাসে বোঝা যাচ্ছে, রাজনীতিতে ব্যক্তি নেতৃত্বের আবেগ এখনো কতটা শক্তিশালী।

সব মিলিয়ে মির্জা আব্বাসের দেশে ফেরা শুধু একজন নেতার প্রত্যাবর্তন নয়—তাঁর অনুসারীদের কাছে এটি যেন দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রিয় মুখটি আবার ঘরে ফেরার আনন্দ। ঢাকার রাজনীতির আকাশে সত্যিই নতুন সূর্য উঠেছে কি না, তার উত্তর সময়ই দেবে। তবে আপাতত এটুকু বলা যায়—মির্জা আব্বাস ফিরেছেন, আর তাঁর সঙ্গে ঢাকার অনেক অলিগলির চায়ের কাপে আবার রাজনীতির ঝড় উঠেছে!