ঢাকা, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সময়: ১০:৫৪:৪৩ AM

৪২ কোটির অভিযোগ, পদোন্নতির দৌড়ে ওমর

স্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
04-09-2026 12:38:40 PM
৪২ কোটির অভিযোগ, পদোন্নতির দৌড়ে ওমর

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অডিট অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক শেখ মোহাম্মদ ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে প্রায় ৪২ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, ঘুষ গ্রহণ এবং বিভিন্ন অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অভিযোগের আর্থিক দিক যাচাই করতে দুদকের উপপরিচালক খায়রুল হক দেশের ৬১টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চিঠি দিয়েছেন। একই সঙ্গে ওমর ফারুক, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের নামে থাকা সম্পদ ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহের জন্য দেশের তিন জেলাসহ বিভিন্ন এলাকার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, সংগৃহীত এসব তথ্যের মাধ্যমে ওমর ফারুক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের আয়, সম্পদ এবং ব্যাংক লেনদেনের সঙ্গে ঘোষিত আয়ের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে।

অডিট টিম নিয়োগে ঘুষের অভিযোগ
দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, চাকরিতে থাকাকালে ওমর ফারুক এলজিইডির বিভিন্ন ইউনিটের অডিট টিম নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়মের আশ্রয় নিতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি অডিট টিম নিয়োগের বিনিময়ে তিনি প্রায় ২০ লাখ টাকা করে ঘুষ গ্রহণ করতেন।

এ ছাড়া অর্থের বিনিময়ে এলজিইডিসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি করে দেওয়ার অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে।

অডিট আপত্তি নিষ্পত্তিতে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সাবেক সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন প্রকল্পের অনিয়ম ও অর্থ লুটপাটসংক্রান্ত অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও প্রভাব খাটানো হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নথি বা ফাইল আটকে রেখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদক ওমর ফারুকের সম্পদ ও আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে।

পরিবারের সদস্যদের সম্পদও যাচাই
দুদকের অনুসন্ধানের আওতায় ওমর ফারুকের পাশাপাশি তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, বিনিয়োগ এবং অন্যান্য আর্থিক লেনদেনের তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে।

অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তারা এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে অভিযোগে উল্লিখিত অনিয়মের সঙ্গে বাস্তব আর্থিক লেনদেনের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করবেন।

পদোন্নতি পাওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, দুদকের অনুসন্ধান চলমান থাকা অবস্থায়ও ওমর ফারুক ঘুষের মাধ্যমে পদোন্নতি পাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে এ অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত নয়। অনুসন্ধানের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করা হবে।

দুদক সূত্রের দাবি, ব্যাংক ও সম্পদসংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনার পর অভিযোগগুলোর বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অনুসন্ধানে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

তবে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগ এখনো প্রমাণিত হয়নি। দুদকের অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ওমর ফারুকের বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।