ঢাকা, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সময়: ০৫:১৬:৩২ PM

সালেহ শিবলীর নীরব দায়িত্বশীলতার গল্প

মান্নান মারুফ
06-09-2026 04:20:08 PM
সালেহ শিবলীর নীরব দায়িত্বশীলতার গল্প

সালেহ শিবলী (আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ)—মেধাবী, ঠান্ডা মেজাজের, মিষ্টভাষী ও হাসিখুশি একজন মানুষ। মানুষের সঙ্গে সহজে মিশে যেতে পারা এবং সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাই যেন তার স্বভাবের অংশ। নিজের কষ্ট কিংবা ব্যথার চেয়ে অন্য মানুষের দুঃখ-কষ্টে পাশে দাঁড়াতে পারাকেই তিনি দায়িত্ব মনে করেন। আর সেই দায়িত্ববোধই তার ব্যক্তিজীবন ও কর্মজীবনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে।

দক্ষ ও বুদ্ধিদীপ্ত সাংবাদিক হিসেবে দীর্ঘ সময় কাজ করার পর বর্তমানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিবের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্বের পরিধি বিশাল হলেও প্রচারের আলোয় নিজেকে তুলে ধরার কোনো আগ্রহ নেই তার। বরং প্রচারের চেয়ে কাজকেই বেশি গুরুত্ব দেন সালেহ শিবলী। নীরবে নিজের দায়িত্ব পালন করাই তার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়।

তার ঘনিষ্ঠদের ভাষ্য, সালেহ শিবলীর অন্যতম বড় গুণ হলো নিরহংকার থাকা। গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার পরও তার আচরণে অহংকারের ছাপ খুব একটা দেখা যায় না। সহকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সবার সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলেন তিনি। কাউকে বিরাগভাজন না করে নিজের অবস্থান থেকে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেন। মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতাই তার স্বভাবের মূল শক্তি।

দেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও গভীরভাবে চিন্তা করেন তিনি। কাজের ফাঁকে দেশের নানা সমস্যা, সম্ভাবনা ও করণীয় নিয়ে ভাবেন। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন এবং কোনো একটি সমস্যার সমাধান কীভাবে করা সম্ভব—সেটি নিয়ে চিন্তা করেন। দেশের মানুষের সমস্যা তার চিন্তার একটি বড় জায়গা জুড়ে রয়েছে।

সালেহ শিবলী একজন পরিশ্রমী মানুষ হিসেবেও পরিচিত। দিন-রাতের হিসাব তার কাছে অনেক সময় গৌণ হয়ে যায়; কাজটাই হয়ে ওঠে প্রধান বিষয়। দায়িত্ব শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাজ করে যাওয়ার মানসিকতা তার মধ্যে প্রবল। তিনি মনে করেন, নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করাও মানুষের সেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সাংবাদিকতা জীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত দায়িত্বশীল একজন সাংবাদিক। পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সততা, নিষ্ঠা ও মনোযোগকে গুরুত্ব দিয়েছেন। সাংবাদিকতা থেকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্বে আসার পরও সেই কর্মনিষ্ঠার জায়গায় খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। বরং দায়িত্ব যত বেড়েছে, দায়িত্ববোধও তত গভীর হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রেস সচিব হিসেবে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গণমাধ্যমের যোগাযোগ, সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম ও বার্তা গণমাধ্যমে যথাযথভাবে তুলে ধরা এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে সমন্বয় রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের সঙ্গে তার দায়িত্ব জড়িত। এই দায়িত্ব কতটা কঠিন, তা তিনি নিজেও উপলব্ধি করেন।

তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এমন একটি দায়িত্বে নিয়োজিত থাকা সহজ নয়। প্রতিদিনই নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। তারপরও দায়িত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। তার কাছে দায়িত্ব শুধু একটি পদ বা পরিচয় নয়; এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র আমানত।

সালেহ শিবলীর কর্মজীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক সম্ভবত এটাই—তিনি নিজেকে প্রচারের চেয়ে কাজের মাধ্যমে তুলে ধরতে বিশ্বাস করেন। আলোচনায় থাকার চেয়ে দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করাই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের পাশে থাকা, দেশের বিষয়ে চিন্তা করা এবং নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করাই তার কাছে সাফল্যের মানদণ্ড।

নীরবে কাজ করে যাওয়া এই মানুষটির পরিচয়ের সবচেয়ে বড় জায়গা তাই তার পদ নয়, তার কর্মনিষ্ঠা। মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ, নিরহংকার আচরণ এবং কাজের প্রতি গভীর নিষ্ঠাই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।