জাতীয় ফুটবল দলের ডাগআউটে হামজা চৌধুরীদের দিকনির্দেশনা দিতে কে আসছেন, তা নিয়ে গত কয়েকদিনের ধোঁয়াশা অবশেষে কাটতে চলেছে। হাই-প্রোফাইল ওয়েলশ কোচ ক্রিস কোলম্যানকে আনার আলোচনা থেকে পুরোপুরি সরে এসেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, সব কিছু ঠিক থাকলে সাবেক আমেরিকান ফুটবলার ও কোচ থমাস ডুলিই হচ্ছেন লাল-সবুজের নতুন কান্ডারি। চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকায় আগামীকাল শুক্রবারই তার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে পারে ফেডারেশন।বাফুফের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন দেশের ফুটবল সমর্থকদের একাংশ। হাই-প্রোফাইল কোচের তালিকায় থাকা কোলম্যান কিংবা স্টোকসের পরিবর্তে কেন ডুলিকে বেছে নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বাফুফে ভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তারা।
আন্দোলনকারী সমর্থকরা বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল এবং কোচ নির্বাচন প্রক্রিয়ার অন্যতম প্রধান দায়িত্বপ্রাপ্ত টেকনিক্যাল ডিরেক্টর সাইফুল বারী টিটুর কঠোর সমালোচনা করেন। এ সময় ‘ফুটবল ফেডারেশন থেকে সিন্ডিকেট দূর করার’ দাবিতে বিভিন্ন স্লোগানও দেন তারা।
বিক্ষোভ চলাকালীন ক্ষুব্ধ সমর্থক রাফি ইকবাল ফেডারেশনের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘যেখানে দেশের ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নতুন কোচের জন্য আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে, সেখানে ডুলির মতো কম বাজেটের কোচকে কেন আনা হচ্ছে? আমরা আরও বেশি খরচে আন্তর্জাতিক মানের কোচ চাই। ফেডারেশন যদি অর্থের জোগান দিতে না পারে, তবে দেশের ফুটবলের স্বার্থে আমরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলে এনে দেব।’
সমর্থকদের একাংশের আপত্তির মূল জায়গাটি কোচের বয়স ও ফেডারেশনের দ্বিমুখী নীতি নিয়ে। বাফুফে এর আগে জানিয়েছিল, ৬০ বছরের বেশি বয়সী কাউকে তারা কোচ হিসেবে বিবেচনা করবে না; অথচ ডুলির বর্তমান বয়স ৬৫ বছর।
এছাড়া আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মেহেদী হাসান অভি নামের আরেক সমর্থক বলেন, ‘ডুলি এর আগে গায়ানায় মাত্র ৮ হাজার ডলার বেতনে কাজ করেছেন। বাংলাদেশে হয়তো তার চেয়ে সামান্য কিছু বেশি টাকা পাবেন। তাহলে কোচের জন্য বরাদ্দকৃত বিশাল বাজেটের বাকি অর্থ কোথায় খরচ করা হবে?’