ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬,
সময়: ০৩:২১:১৭ PM

টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় বলবেন মুশফিক

এমডি ফারুক,সিনিয়র স্পোর্টস রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
15-05-2026 02:29:29 PM
টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় বলবেন মুশফিক

সিলেট থেকে: বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের সঙ্গে মুশফিকুর রহিমের নামটি যেন অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে গেছে। প্রায় দুই দশকের ক্যারিয়ারে বাংলাদেশের টেস্ট সংস্কৃতিরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে গেছেন তিনি। ২০২২ সালে টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়া মুশফিক ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলেছেন ক্যারিয়ারের শেষ ওয়ানডে। এখন কেবল টেস্ট ম্যাচই খেলছেন, তাও ক্যারিয়ারের শেষলগ্নে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, অবসর নিয়ে। তবে মুশফিকের ভাবনায় এখনো বিদায়ের তাড়া নেই।
বরং যতদিন সম্ভব মাঠে থাকতে চান, টেস্ট ক্রিকেটকে উপভোগ করতে চান। আর যখন বিদায় বলবেন, সেটি যেন হয় নিজের সেরা সময়টাতেই!
 
শনিবার সিলেটে মাঠে গড়াবে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাচ।
তার আগে শুক্রবার সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুশফিক বলেন, ‘না ভাই, এরকম আপাতত কোনো গোল নাই। কালকের ম্যাচও শেষ হয়ে যেতে পারে আবার বাকিটা উপর আল্লাহ জানে।’

তবে দীর্ঘ ক্যারিয়ারের বাস্তবতাও জানেন মুশফিক। জানেন, একসময় তাকে থামতে হবে। কিন্তু সেই বিদায়টা যেন আসে ঠিক সময়েই, এটাই তার চাওয়া, ‘এখন ছাড়বো বা কবে ছাড়বো এটা আসলে এখন ঐরকম করে ডিসাইড করি নাই। বাট ইনশাআল্লাহ খুব ভালো সময় থাকতে ইনশাআল্লাহ ছেড়ে দিব।’

টেস্ট ক্রিকেটকে তিনি দেখেন জীবনেরই এক অংশ হিসেবে। তাই মাঠে কাটানো প্রতিটি দিন তার কাছে বিশেষ, ‘আমি চেষ্টা করি প্রতিটা ম্যাচ... মৃত্যুর আগে লাস্ট কয়টা দিন বেঁচে থাকার খুব ইচ্ছা। তো বেঁচে থেকে যে কয়টা মাঠের দিন কাটাতে পারি, এই ইচ্ছাটাই আছে।’সিনিয়রদের বিদায়ের পর স্বাভাবিক ভাবেই তৈরি হয় শূন্যতা। মুশফিক চান না তার বিদায়ের পরও এমন কিছু হোক। তাই নিজের উত্তরসূরিদের প্রস্তুত করাও তিনি দায়িত্বের অংশ মনে করেন, ‘আমি চেষ্টা করবো যে আমি ছাড়ার আগে যেন অ্যাটলিস্ট আরও দুই-তিনটা প্লেয়ার ওই জায়গাটাতে থাকে। সো দ্যাট বাংলাদেশ টিম... তিন-চারজন চলে যাওয়ার পর যেন ওই জায়গায় একটা গ্যাপ সৃষ্টি না হয়।’

নিজের শেষ সময়টুকুতেও দলের জন্য কিছু রেখে যেতে চান মুশফিক। বাংলাদেশের সেরা এই উইকেট কিপার ব্যাটার যখন থাকবেন না, তখন যেন তার এই অর্জন নিয়ে গর্ব হয়, তেমন কিছুই করে যেতে চান মুশফিক, ‘আর যে কয়টা দিনই খেলবো ইনশাআল্লাহ, চেষ্টা থাকবে যেন নিজেও কন্ট্রিবিউট করতে পারি এবং বাংলাদেশ টেস্ট টিমকে স্পেশালি আরও কিছু ভালো দারুণ জয়ের মুহূর্ত দিতে পারি। যেটা কিনা আমার অবসরের পর সেটা নিয়ে যেন একটু হলেও গর্ব করতে পারি।’

মাঠের বাইরে মুশফিক এখন দলের তরুণ ক্রিকেটারদের জন্যও এক নির্ভরতার নাম। অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়াকেই তিনি নিজের দায়িত্ব মনে করেন। জুনিয়র ক্রিকেটাররা কোন সমস্যায় পড়লেই ছুটে যান তার কাছে। তার পরিশ্রম, নিবেদন জুনিয়র ক্রিকেটাদের কাছে অনুকরণীয়। সেটি মুশফিকও জানেন। তাইতো তার উপলব্দি, ‘আমি আমার এক্সপেরিয়েন্স শেয়ার করি। এত বছর খেলেছি—এরকম সিচুয়েশন কিরকম হতে পারে বা অপোনেন্ট কখন কী করতে পারে, একটু হলেও ধারণা আছে। মুমিনুল বলেন বা এখনকার ইয়াং ক্রিকেটাররা বলেন, আমরা প্রায় ২৫-৩০ বছর ধরে একে অপরকে চিনি... আমাদের সবার বোঝাপড়াটা একটু অন্যরকম ভালো।’
 
কেবল টেস্ট খেলছেন মুশফিক। বাকি দুই ফরম্যাট না খেলায় মুশফিকের আছে অফুরন্ত সময়। আগে ব্যস্ততার কারনে পরিবারকে সময় দিতে পারেননি তিনি। সময় দিতে না পারার আক্ষেপও আছে তার। এখন সেটার কিছুটা পূরণ হচ্ছে বলেই মনে করেন মুশফিক, ‘আমি আমার ফ্যামিলিকে অনেক বেশি সময় দিতে পারছি। যেটা আমি লাস্ট ১৫-১৬ বছর হয়তো দিতে পারি নাই। তো এটাও আমার জন্য অনেক বড় একটা পাওয়া, পরিবারকে সময় দিতে পারছি।’