ঢাকা, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬,
সময়: ০৯:১৭:০১ PM

শাহ-আলম ফারুকসহ ৮ জনের ২৩ কোটি টাকা আত্মসাত

স্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
09-10-2026 08:05:23 PM
শাহ-আলম ফারুকসহ ৮ জনের ২৩ কোটি টাকা আত্মসাত

আগ্রাবাদ কনভেনশন হলের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ ফাহিম আহমেদ এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাবেক উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ও বর্তমানে বাগেরহাট গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহ-আলম ফারুক চৌধুরীসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সরকারি জমি অবৈধভাবে দখলে রাখা, ক্ষমতার অপব্যবহার, নথি জালিয়াতি এবং জমির ভাড়া বাবদ ২৩ কোটি ৬৮ লাখ ৩৯ হাজার ২৬৮ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) দুদক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

দুদক সূত্রে জানা যায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেরা লাভবান হওয়া এবং অন্যদের অবৈধভাবে লাভবান করার উদ্দেশ্যে জাল ও ভুয়া রেকর্ডপত্র ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব নথি ব্যবহার করে তাঁরা চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত ২৪ দশমিক ৯৬ শতক সরকারি জমি অবৈধভাবে দখলে রাখেন। একই সঙ্গে জমির বকেয়া ভাড়া পরিশোধ না করে জালিয়াতি ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে সরকারের ২৩ কোটি ৬৮ লাখ ৩৯ হাজার ২৬৮ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযুক্ত মোহাম্মদ শাহ-আলম ফারুক চৌধুরী এর আগে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকা ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ে তিনি গণভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসংশ্লিষ্ট দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। তাঁর দায়িত্ব পালনকাল এবং সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি এ ঘটনায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শাহ-আলম ফারুক চৌধুরী এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, তিনি ইতোমধ্যে কানাডায় পাড়ি জমিয়েছেন। তবে তাঁর কর্মস্থলে অনুপস্থিতি এবং বিদেশে অবস্থানের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

দুদক জানিয়েছে, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারায় এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হবে।

দণ্ডবিধির এসব ধারায় অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা, জাল দলিল তৈরি, জাল দলিলকে আসল হিসেবে ব্যবহার এবং অপরাধ সংঘটনে সহায়তার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় প্রমাণের বিষয়টি তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে।

সরকারি জমি ব্যবস্থাপনা, বকেয়া ভাড়া আদায় এবং সরকারি সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের অভিযোগ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সরকারি জমি দীর্ঘদিন অবৈধ দখলে রাখা এবং ভাড়া বাবদ বিপুল অঙ্কের অর্থ অনাদায়ের অভিযোগ সরকারি সম্পদের ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।

দুদকের মামলার অনুমোদনের মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরুর পথ তৈরি হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং আর্থিক লেনদেনের প্রকৃত চিত্র উঠে আসতে পারে। তবে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত বা অভিযোগ উত্থাপনই অপরাধ প্রমাণের চূড়ান্ত ভিত্তি নয়। তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।